advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

প্রধানমন্ত্রী কাল এমপিওভুক্তির ঘোষণা দিতে পারেন

এম এইচ রবিন
২২ অক্টোবর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২২ অক্টোবর ২০১৯ ০৯:০৭
ফাইল ছবি
advertisement

স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বেসরকারি নন-এমপিও স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘ প্রত্যাশিত এমপিওভুক্তির ঘোষণা আসছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে এ ঘোষণা দেবেন আগামীকাল বুধবার বেলা ১১টায়। আর আজ দুপুরে এমপিও প্রদান-সংক্রান্ত বিষয়ে গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে মতবিনিময় করবেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তথ্যসূত্র শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের।

স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সব বেসরকারি নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একযোগে এমপিওভুক্তি এবং এমপিও নীতিমালা সংশোধনের দাবিতে আমরণ অনশন করছেন নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীরা। গতকাল থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ কর্মসূচি শুরু করেন তারা। আরও আগে থেকেই একই দাবিতে শিক্ষক-কর্মচারীরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছেন।

প্রধানমন্ত্রী এমপিওভুক্তির ঘোষণা দেওয়ার পর অফিস আদেশ জারি করবে মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের একটি নির্ভরশীল সূত্র জানায়, আদেশ যেদিনই হোক, চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস অর্থাৎ গত জুলাই থেকে এমপিও সুবিধা পাবেন শিক্ষক-কর্মচারীরা।

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮ অনুযায়ী যোগ্য প্রতিষ্ঠানসমূহ এমপিওভুক্তির প্রস্তাবনা প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসনের জন্য তার কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, কলেজ, ডিগ্রি কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরিÑ এ জাতীয় প্রায় দেড় হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবার এমপিওভুক্ত হতে পারে। তবে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সব নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে একযোগে এমপিওভুক্তির পাশাপাশি এমপিও নীতিমালা সংশোধনের দাবি জানিয়ে আসছে নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশন।

সংগঠনটির সভাপতি অধ্যক্ষ গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার আমাদের সময়কে বলেন, ২০১৮ সালের ৫ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমপিওভুক্তির দাবি মেনে নিয়েছিলেন এবং আশ্বস্ত করেছিলেন যে, ওই অর্থবছর থেকেই এ সংক্রান্ত কার্যক্রম শুরু হবে। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। এ অবস্থায় হতাশাগ্রস্ত শিক্ষকরা আবার রাজপথে নেমেছেন। তিনি বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চাই। যেহেতু উনি প্রতিশ্রুত, আশা করি এর বাস্তবায়নও হবে।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিনয় ভূষণ রায় গতকাল আমাদের সময়কে বলেন, আজ (গতকাল) থেকে আমরা আমরণ অনশন শুরু করেছি। আমাদের দাবি একটাই, স্বীকৃপ্তিপ্রাপ্ত সব নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একযোগে এমপিওভুক্ত করতে হবে। বিদ্যমান নীতিমালাও সংশোধন করতে হবে। আমরা এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চাই। যত দিন আমাদের এ দাবি পূরণ না হবে, তত দিন এ আমরণ অনশন চলবে।

এদিকে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি গত রবিবার রাতে নন-এমপিও শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সে সময় তিনি শিক্ষকদের দাবির বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের করণীয় সম্পর্কে জানিয়ে দেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সুনির্দিষ্ট মানদ-ের ভিত্তিতেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তি করা হবে। যোগ্য বিবেচিত একটিও বাদ যাবে না। নীতিমালা নিয়ে শিক্ষকদের আপত্তির বিষয়ে বলেছেন- নীতিমালা, আইন, বিধি এসব সংশোধনের সুযোগ থাকে। আমরাও সেটা করতে পারি। পরে এমপিও দেওয়ার আগে নীতিমালা সংশোধনের সময় শিক্ষকদের মতামত নেওয়া হবে। সেই নীতির আলোকে প্রতিবছরই এমপিওভুক্ত করা হবে। বর্তমান নীতিমালা অনুযায়ী এ বছরের এমপিও চূড়ান্ত করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে নতুন কোনো প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ নেই।

এমপিও-সংক্রান্ত বাছাই কমিটির সূত্রে জানা গেছে, এমপিওভুক্তির লক্ষ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাছাইয়ের জন্য ব্যবহার করা হয় বিশেষ সফটওয়্যার। এমপিওভুক্তির নীতিমালা ২০১৮-এর ১৪ ধারা অনুযায়ী, যেসব প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় সব শর্ত পূরণ করেছে তারা এমপিওভুক্তির জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছে। তবে কিছু উপজেলা আছে যেখানে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও এমপিওভুক্ত হওয়ার মতো যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। এ ক্ষেত্রে নীতিমালার ২২ নম্বর ধারা প্রয়োগ করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। এ ধারায় বলা হয়েছেÑ ‘শিক্ষায় অনগ্রসর, ভৌগোলিকভাবে অসুবিধাজনক, পাহাড়ি, হাওর-বাঁওড়, চরাঞ্চল, নারী শিক্ষা, সামাজিকভাবে অনগ্রসর গোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী, বিশেষায়িত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বিশেষ বিবেচনায় শর্ত শিথিল করা যেতে পারে।’

এমপিওবিহীন প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তিতে বার্ষিক ২ হাজার ১৮৪ কোটি টাকা প্রয়োজন সরকারের। ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটেও এমপিওভুক্তি খাতে অর্থের জোগান রাখা হয়েছে। সারাদেশে এমপিওভুক্তির অপেক্ষায় আছে ৫ হাজার ২৪২ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এগুলোয় কর্মরত এমপিওভুক্তির যোগ্য শিক্ষক-কর্মচারী আছেন প্রায় ৭৫ হাজার। ২০০৯ সালের ১৬ জুন সর্বশেষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির পর থেকে এ পর্যন্ত আর কোনো প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হয়নি। বর্তমানে সারাদেশের প্রায় সাড়ে সাত হাজার নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির বাইরে আছে। ২০১০ সালের পর যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনুমোদন দিয়েছে সরকার, সেসব প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদনের পূর্বশত হিসেবে বলা হয়েছিল, পরবর্তী সময়ে তারা এমপিওভুক্তির দাবি জানাতে পারবে না। যারা অনুমোদন পেয়েছে, তাদের প্রত্যেকেরই এ শর্ত মেনে নিতে হয়েছে।

advertisement