advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

স্ত্রী-পুত্রসহ ওমর ফারুকের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ

হারুন-অর-রশিদ
২২ অক্টোবর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২২ অক্টোবর ২০১৯ ০০:১৯
advertisement

যুবলীগের চেয়ারম্যান পদ থেকে সদ্য অব্যাহতি পাওয়া ওমর ফারুক চৌধুরীর কর ফাঁকির তদন্ত শুরু হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি) তার আয়ব্যয় ও সম্পদের খোঁজে নেমেছে। রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ওমর ফারুক, তার স্ত্রী, ৩ ছেলে ও দুই কোম্পানির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হয়েছে। সম্প্রতি এ সংক্রান্ত চিঠি দিয়ে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অ্যাকাউন্টের যাবতীয়

তথ্য পাঠাতে বলেছে এনবিআর।

গত সপ্তাহে ব্যাংকগুলোতে পাঠানো চিঠিতে এনবিআর উল্লেখ করেছে, সরকারের রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করার জন্য আয়কর অধ্যাদেশ অনুসারে বর্ণিত ব্যক্তি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংকে পরিচালিত সব অ্যাকাউন্টে অর্থ উত্তোলন ও স্থানান্তর স্থগিত করতে নির্দেশ দেওয়া হলো। ওই চিঠিতে মো. ওমর ফারুক চৌধুরী, তার স্ত্রী শেখ সুলতানা রেখা, তিন ছেলে আবিদ চৌধুরী, মুক্তাদির আহমেদ চৌধুরী, ইশতিয়াক আহমেদ চৌধুরীর অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া জব্দ করা হয়েছে দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লেক ভিউ প্রপার্টিজ এবং রাও কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের অ্যাকাউন্টও। চিঠি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অ্যাকাউন্ট জব্দ এবং অ্যাকাউন্টের সর্বশেষ স্থিতিসহ অন্যান্য তথ্য জরুরি ভিত্তিতে পাঠাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রামে বিড়ি শ্রমিক লীগ থেকে রাজনীতি শুরু করা ওমর ফারুক এরশাদের সময় জাতীয় পার্টির রাজনীতি করতেন। ১৯৯২ সালে শুরু করেন আওয়ামী লীগের রাজনীতি। ২০০৯ সালে যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং ২০১২ সালে চেয়ারম্যান হন। ৭১ বয়সেও তিনি যুব সংগঠনের সভাপতির দায়িত্ব চালিয়ে যাচ্ছিলেন। গত রবিবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে ওমর ফারুক চৌধুরীকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

ওমর ফারুক রাও গার্মেন্টস এবং রাও নিটওয়্যার্স অ্যাাপারেলের নামে সোনালী ব্যাংকের লালদীঘি করপোরেট শাখা থেকে দুটি ঋণ নেন। প্রায় সাড়ে ১১ কোটি টাকার ওই ঋণ এখন সুদে-আসলে বেড়ে হয়েছে ৪৪ কোটি টাকা। খেলাপি হয়ে গেলে ১৭ কোটি টাকার সুদ মওকুফ করিয়ে তিনি ঋণ পুনঃতফসিল করে নেন। কিন্তু এ সুবিধা নিয়েও ঋণ পরিশোধ না করায় তা আবার খেলাপি হয়ে যায়। সুবিধার মেয়াদ আবার বাড়ানোর দাবি করলে ব্যাংক তা নাকচ করে দেয়। এর পরও প্রভাব খাটিয়ে সুবিধা আদায়ের জন্য পুনঃআবেদন করেন তিনি।

ঋণের টাকা আদায়ে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে মামলা ও সম্পদ নিলামের উদ্যোগও নিয়েছিল ব্যাংকটি। ২০০৯ সালে সেই নিলাম হওয়ার ছিল। কিন্তু ওমর ফারুক যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হওয়ার পর সেসব উদ্যোগ আর আলোর মুখ দেখেনি।

advertisement