advertisement
advertisement
advertisement

সব খবর

advertisement

ধর্মীয় উন্মাদনা ছড়িয়ে ৮ বছরে ৪ হামলা

হাসান আল জাভেদ
২২ অক্টোবর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২২ অক্টোবর ২০১৯ ০৩:২৩
advertisement

ফেসবুকে ধর্মীয় উন্মাদনা ছড়িয়ে গত ৮ বছরে দেশে বড় ধরনের অন্তত ৪টি সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় প্রাণহানির পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সংখ্যালঘু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সহায়-সম্পদ। বিনষ্ট হয়েছে ধর্মীয়-সামাজিক সম্প্রীতির পরিবেশ; কিন্তু যেসব অভিযোগ তুলে এই সাম্প্রদায়িক হামলা, পুলিশি তদন্তে এর প্রতিটিই মিথ্যা প্রমাণ হয়। সবশেষ গত রবিবার মহানবীকে (স) অবমাননার অভিযোগ তুলে তা-ব চালানো হয় ভোলার বোরহানউদ্দিনে। এতে নিহত হন ৪ জন।

সাম্প্রতিক সময়ের হামলাগুলো তদন্তের বরাত দিয়ে পুলিশ বলেছে, প্রতিটি হামলাতেই আগে ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তোলা হয়েছে। এর পর উন্মাদনা ছড়িয়ে হামলা হয়েছে। যারা এসব হামলায় অংশ নিয়েছে, তাদের বেশির ভাগই অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে এসব ঘটনা ঘটিয়েছে।

সবশেষ ভোলার বোরহানউদ্দিনের ঘটনা তদন্তের পর পুলিশ বলেছে, এক হিন্দু যুবকের ফেসবুক আইডি হ্যাক করে ধর্ম অবমাননাকর ওই স্ট্যাটাস দেওয়া হয়েছিল। এর পর ফেসবুকের কয়েকশ আইডি থেকে ওই পোস্ট ছড়িয়ে দেওয়া হয়। পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের সাইবার ক্রাইম শাখা এ ধরনের বেশকিছু আইডিধারীকে শনাক্ত করেছে। তাদের গ্রেপ্তারে এখন অভিযান চলছে। এ ছাড়া ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কড়া নজরদারি শুরু হয়েছে।

২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের রামুর বৌদ্ধপল্লীতে ১৯টি মন্দির ধ্বংস করা হয়। একটি কম্পিউটারের দোকান থেকে উত্তম বড়–য়া নামে এক বৌদ্ধ তরুণের ফেসবুক থেকে ইসলামধর্মবিরোধী স্ট্যাটাসের গুজব ছড়িয়ে ওই হামলা হয়। রামু ছাড়াও টেকনাফ ও উখিয়ায় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটানো হয়। এসব ঘটনায় তখন রামু, উখিয়া ও টেকনাফে ১৯টি মামলা হয়েছিল। পুলিশ বলেছে, আদালতে মামলার চার্জশিট দেওয়া হয়েছে; কিন্তু সাক্ষী হাজির না হওয়ায় বিচারকাজ এগোচ্ছে না। রামুর ঘটনায় পুলিশের দেওয়া চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়, যে অভিযোগের গুজব ছড়িয়ে বৌদ্ধপল্লীতে লঙ্কাকা- ঘটানো হয়েছিল, সেই অভিযোগটি তদন্তে প্রমাণ হয়নি।

একইভাবে গুজব ছড়িয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের হিন্দুপল্লী ও মন্দিরে ২০১৬ সালের ৩০ অক্টোবর ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। পুলিশের তদন্তে উঠে আসে স্থানীয় দুই এমপির দ্বন্দ্বের জেরে ওই গুজব-হামলা হয়। এতে হরিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেওয়ান আতিকুর রহমান আঁখির জড়িত থাকার প্রমাণ পায় পুলিশ। বর্তমানে আঁখি জামিনে মুক্ত রয়েছেন।

২০১৭ সালের ১০ নভেম্বর টিটু রায় নামে এক যুবকের ফেসবুকে নবী করিমকে (স) কটাক্ষের গুজব ছড়ানো হয় রংপুরের গঙ্গাচড়ায়। এরপর ওই এলাকায় কয়েকদিন ধরে মাইকিং করে উন্মাদনা ছড়িয়ে হিন্দুপাড়ায় হামলা চালিয়ে ৮টি বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। পুলিশের গুলিতে সেদিন এক হামলাকারী নিহত হয়। ওই ঘটনায় গঙ্গাচড়ায় দুটি এবং রংপুর সদরে একটি মামলা হয়েছিল। গঙ্গাচড়া থানার ওসি মশিউর রহমান জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। টিটু রায় জামিনে আছেন।

 

advertisement