advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

‘সুলতান’রূপী কাউন্সিলর রাজীবের ডুপ্লেক্স বাড়িটি জোর করে দখল করা

নিজস্ব প্রতিবেদক
২২ অক্টোবর ২০১৯ ০২:৩২ | আপডেট: ২২ অক্টোবর ২০১৯ ১৩:৩৩
ছবি : সংগৃহীত
advertisement

মাত্র বছর দশেক আগেও মোহাম্মদপুরে একটি টং দোকান করে সংসার চালাতেন তারেকুজ্জামান রাজীব। বাবা তোতা মিয়া রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। মোহাম্মদপুরে ৬ হাজার টাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে বাবাসহ সপরিবারে থাকতেন রাজীব। বছর চারেক পর সেই রাজীবের ভাগ্যের দুয়ার আলাউদ্দিনের চেরাগের মতো খুলে যায়। মোহাম্মদপুরে বসবাসকারী আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় এক নেতাকে ‘আব্বা’ ডেকে তার হাত ধরে রাজনীতিতে উত্থান হয়।

২০১৪ সালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন রাজীব। তারুণ্যের পাশাপাশি সুন্দর মুখশ্রীর কারণে ভোটারদের সুদৃষ্টিতে পড়েন তিনি এবং নির্বাচনে জয়লাভ করেন। এর পর তাকে আর পেছনে তাকাতে হয়নি; রাতারাতি বনে যান ‘সুলতান’। হ্যাঁ, সুলতানই বটে। তার প্রাসাদোপম বাড়ি, ফ্যাশনদুরস্ত পোশাক ও চাকচিক্যময় গাড়ি দেখে তাকে আরব দেশের সুলতান ভাবা যেতেই পারে। সেই সুলতান এখন গ্রেপ্তার হয়ে ১৪ দিনের রিমান্ডে রয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে।

র‌্যাব সদর দপ্তরের সূত্র জানায়, ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট, খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া, মোহাম্মদপুরের ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান ওরফে মিজান, মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের পরিচালক লোকমান হোসেন ভূঁইয়া ও গুলশানের স্পা সম্রাটখ্যাত ক্যাসিনো সেলিম প্রধান গ্রেপ্তার হওয়ার পর রিমান্ডে সবাই তারেকুজ্জামান রাজীবের নাম বলেছেন। সেই সূত্র ধরেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাজীব তার অবৈধ সম্পদের কিছু তথ্য র‌্যাবকে জানিয়েছেন। র‌্যাবের কাছে বর্তমানে ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট ও যুবলীগ নেতা আরমান রিমান্ডে আছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মোহাম্মদপুরের মোহাম্মদীয়া হাউজিং সোসাইটির ১ নম্বর রোডের ৩৩ নম্বর প্লটে ৫ কাঠা জমির ওপর ডুপ্লেক্স টাইপের বাড়িটি ঘিরেই আবর্তিত হতো রাজীবের যত কর্মকা-। দুবছর আগে এই বাড়ির মালিকের কাছ থেকে রাজীব জোরপূর্বক অল্প টাকায় দলিল করে নেন। ওই ব্যক্তি মোহাম্মদপুরের একটি গ্রুপের কাছে আশ্রয় চান। এ নিয়ে রাজীব ও ওই গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে। শেষ মুহূর্তে রাজীব ডুপ্লেক্স বাড়িটি দখল করে নেন। সম্প্রতি ওই গ্রুপটি শক্তিশালী হয় মোহাম্মদপুর এলাকায়। রাজীবের বিরুদ্ধে এর আগেরও একাধিক অভিযোগ রয়েছে। মোহাম্মদপুরের এক এলাকায় একজনের বাড়ি দখলের চেষ্টা করে ওই গ্রুপ। বাড়ির মালিক তখন স্থানীয় কাউন্সিলর রাজীবের কাছে যান। রাজীব ওই বাড়িতে তার একটি অফিস স্থাপন করেন। এর পর ওই গ্রুপ আর বাড়িটি দখলে এগোয়নি। এসব তথ্য র‌্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন রাজীব।

এ কাউন্সিলরকে গ্রেপ্তারের অভিযানে অংশ নেওয়া র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম জানান, রাজীবকে গ্রেপ্তার করার পর মোহাম্মদীয়া হাউজিং সোসাইটি আবাসিক এলাকার ১ নম্বর সড়কের ৩৩ নম্বর ভবনে তার বাসায় প্রায় দেড় ঘণ্টা অভিযান চালানো হয়। বাসা থেকে সোমবার ভোর ৪টার দিকে রাজীবকে সঙ্গে নিয়ে মোহাম্মদপুরের চানমিয়া হাউজিংয়ে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয়ে যান র‌্যাব সদস্যরা। সেখানে অভিযানের সময় সহযোগিতা না করা এবং আলামত নষ্ট করার অভিযোগে রাজীবের অফিস সহকারী সাদেক আহমেদকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তিন মাসের কারাদ- দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। তার বাসায় তেমন কিছু পাওয়া যায়নি। আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত যেসব নথিপত্র ছিল, সেগুলো সরিয়ে ফেলা হয়েছে। পরে তার এক আত্মীয়ের বাসা থেকে টাকা জমা দেওয়ার রশিদ উদ্ধার করা হয়েছে। তাতে দেখা গেছে, একটি অ্যাকাউন্টে গত ২৬ আগস্ট ৫ কোটি টাকা জমা দিয়েছেন রাজীব। ওই টাকার উৎস খতিয়ে দেখা হবে। মোহাম্মদীয়া হাউজিংয়ের যে বাড়িতে রাজীব থাকেন, ওই ডুপ্লেক্স বাড়িটির দাম হবে প্রায় ১০ কোটি টাকা। তার আয়ের সঙ্গে এটি মোটেও সঙ্গতিপূর্ণ নয়। জমি কেনাবেচা করে এমন তিনটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে রাজীবের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে।
মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধ, চন্দ্রিমা হাউজিং, সাত মসজিদ হাউজিং, ঢাকা উদ্যানসহ বিভিন্ন এলাকায় দখলবাজি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে রাজীবের বিরুদ্ধে।

এ ব্যাপারে রাজীবের বড় ভাই আখতারুজ্জামান রাসেল বলেন, তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, সেগুলো মিথ্যা, ভিত্তিহীন। অল্প বয়স থেকে রাজীব রাজনীতিতে জড়িত। এলাকার মানুষ জানে সে কত জনপ্রিয়। স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে সে নির্বাচনে জয়লাভ করেছে। এখন তাকে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানো হচ্ছে।

advertisement