advertisement
advertisement
advertisement

সব খবর

advertisement

ক্রিকেট এবং ষড়যন্ত্র

অঘোর মন্ডল
২৪ অক্টোবর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৪ অক্টোবর ২০১৯ ০৯:২৮
অঘোর মন্ডল। ছবি : সংগৃহীত
advertisement

‘ষড়যন্ত্র’ তত্ত্বটা বাংলাদেশের মানুষের কাছে খুব পরিচিত। তবে রাজনীতিবিদদের মুখে ষড়যন্ত্রের কথা শুনতে শুনতে শব্দটা ক্লিশে হয়ে গেছে। অতিকথনে যা হয় আর কী! দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র। দেশ বিক্রির ষড়যন্ত্র। দল ভাঙার ষড়যন্ত্র। দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র। কত ষড়যন্ত্র! এসব মানুষ শোনে। পড়ে। কিন্তু এখন বিশ্বাস করে কম।

সেই বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দোলাচলে দুলতে দুলতে ‘ষড়যন্ত্র’ শব্দটা এবার ঢুকে পড়ল বাংলাদেশ ক্রিকেটে! সেটা ক্রিকেটাররা এগারো দফা দাবি আদায়ের জন্য ক্রিকেটীয় কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার ঘোষণা দেওয়ার পর। এখানে ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন খোদ বোর্ড সভাপতি। সংবাদ সম্মেলনে কয়েকজন বোর্ড পরিচালককে সঙ্গে নিয়েই তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন সেই ষড়যন্ত্রের। তবে বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে ষড়যন্ত্র করছেন কারা?

সেই প্রশ্নের উত্তরটা সরাসরি দেননি। দিতে চাননি। কিংবা দিতে পারেননি। বলেছেন, ‘বাংলাদেশে ক্রিকেটকে অস্থিতিশীল করার একটা চক্রান্ত। এটা সরকার থেকে শুরু করে সবাই জানে। কারা করছে সেটাও আমরা জানি।... এটা একটা পরিকল্পনা, এটা ষড়যন্ত্রের একটা অংশ।’

বাংলাদেশে ক্রিকেট এখন শুধু আর একটা খেলা নয়। তার চেয়েও বেশি কিছু। সাধারণ মানুষের কাছে সেটা হতে পারে আবেগ। অনেকের কাছে ক্রিকেট জীবনদর্শন। কারও কাছে জীবিকা। কারও কাছে স্বপ্ন। আবার সামগ্রিকভাবে ক্রিকেট বাংলাদেশের জন্য এখন বহির্বিশ্বে অন্যরকম পরিচিতির নাম। ক্রিকেটাররা বিদেশে বাংলাদেশের পতাকাবাহী। তারা দেশের রাষ্ট্রদূতের ভূমিকায়। বিশে^র এক গোলার্ধ থেকে আরেক গোলার্ধ পর্যন্ত ক্রিকেটানুরাগীরা সাকিব আল হাসানদের চেনেন। চেনেন বাংলাদেশকে। সেটা ক্রিকেটের সৌজন্যে। সেই ক্রিকেট নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে, সেটা সরকার থেকে বিসিবি সভাপতি জানেন। অথচ প্রকাশ করলেন না! এটা অন্যরকম এক রহস্য বা সন্দেহের জন্ম দেয় জনমানসে। দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে সংবাদ সম্মেলন করে বিসিবি সভাপতি নিজের হতাশার কথা বলেন। ক্ষোভের কথা জানালেন। বিশ্বাস-অবিশ্বাসের কথা বললেন। ঘণ্টাদুয়েক ধরে অনেক কথা বললেন অথচ বাংলাদেশ ক্রিকেট নিয়ে যারা ষড়যন্ত্র করছেন তাদের নাম বললেন না!

তা হলে ষড়যন্ত্রের কথাটা কি কল্পিত! সন্দিহান তিনি নিজেও? যদি তিনি সন্দিগ্ধ না হন তা হলে ষড়যন্ত্রকারীদের নাম বলতে আপত্তি কেন? বিসিবি সভাপতি রাজনীতিবিদও বটে। রাজনীতিবিদরা অনেক কিছু সন্দেহের চোখে দেখেন। কিন্তু সাধারণ মানুষ কি বিশ^াস করবেন, সাকিব-তামিম-মুশফিক-মাহমুদউল্লাহ-মুমিনুল-মোস্তাফিজরা দেশের ক্রিকেট নিয়ে ষড়যন্ত্র করবেন! কিংবা ষড়যন্ত্রকারীদের সঙ্গে হাত মেলাবেন! অথবা ষড়যন্ত্রকারীদের হাতের পুতুল হয়ে যাবেন? সত্যিই বিশ^াস করা কঠিন। তার পরও খোদ বিসিবি সভাপতি বলেছেন কথাগুলো। তাই তার কথাগুলোকে আপনি উড়িয়ে বাউন্ডারি লাইনের ওপার ফেলবেন কীভাবে?

আবার তিনি-ই সত্যি তাই বা ভাববেন কীভাবে? বিসিবি সভাপতির ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং যাকে তিনি বিসিবির পরিচালক করে নিয়ে এসেছিলেন, সেই ভদ্রলোক মোহামেডান ক্লাবে ক্যাসিনো চালাতেন সেটা বোর্ড সভাপতির অজানা ছিল! এক সময় বিরোধী দলকে নেতৃত্বশূন্য করতে যে হাওয়া ভবনে ষড়যন্ত্র হয়েছিল, যে সময় খালেদা জিয়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন, সেই খালেদা জিয়ার বডিগার্ড হিসেবে ছাতা ধরে দাঁড়িয়ে থাকতেন যিনি, তিনি ক্যাসিনো চালাতে পারেন মোহামেডানে সেটা বোর্ড সভাপতির অজানা ছিল! এবার নিশ্চয়ই তিনি অনেক তথ্য-উপাত্ত হাতে পেয়ে জেনেশুনে ক্রিকেট নিয়ে ‘ষড়যন্ত্র’র কথা বলেছেন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে ভোল পাল্টে বোর্ডে ‘অনুপ্রবেশকারীরা’ কি জড়িত? টেলিভিশন সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রির নামে বিশ্বাসের সঙ্গে যারা চুক্তি করেছিলেন, যাতে বিসিবির একশ বিশ কোটির বেশি টাকা ক্ষতি হয়েছে, তারা জড়িত? নাকি বর্তমান শাসক দলের কেউ জড়িত! অথবা খোদ ক্রিকেটাররা জড়িত! ‘ষড়যন্ত্র’ নামের ক্ষোভের তীরটা আসলে কার বা কাদের দিকে ছুড়লেন বিসিবি সভাপতি?

তবে ক্রিকেটাররা যে এগারোটা দাবির কথা বলেছেন তা নিয়ে কি বোর্ড সভাপতি বা বিসিবি পরিচালকের আপত্তি আছে? ক্রিকেটারদের স্বার্থ দেখভালের জন্য যে সংগঠন সেই কোয়াবের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের পদত্যাগ দাবি করেছেন ক্রিকেটাররা। বোর্ড সভাপতি জবাব দিয়েছেন, কোয়াবের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। পেশাদার ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব। তারা ক্রিকেটারদের স্বার্থ দেখভাল করবেন। বোর্ডের সঙ্গে দরকষাকষি করবেন এটাই স্বাভাবিক। অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটাররা যখন বেতন বাড়ানোর আন্দোলন করেছিলেন, গোটা ক্রিকেটবিশ্ব দেখল বিষয়টা নিয়ে যা বলার বললেন অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার অ্যাসোসিয়েশনের মুখপাত্র।

শেষ পর্যন্ত ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া মেনে নেয় ক্রিকেটারদের দাবি-দাওয়া। প্রশ্ন হলো বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা কোয়াবের মাধ্যমে কেন নিজেদের দাবি-দাওয়ার কথা জানালেন না? উত্তরটা খুব সহজ। মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির লোকজন কি তাদের কথা বিসিবির কাছে উপস্থাপন করবেন? যেখানে মেয়াদ শেষের আগে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে পারল না কোয়াব, সেখানে তাদের ওপর ক্রিকেটাররা আস্থা রাখবেন কীভাবে? আবার বোর্ড সভাপতি বলেছেন, কোয়াবের সঙ্গে বোর্ডের কোনো সম্পর্ক নেই! যদি তাই হতো, বিসিবির সভাপতি সংবাদ সম্মেলনে কেন বললেন, কোয়াবের মাধ্যমে ক্রিকেটারদের অনেক দাবি আগে মেনে নিয়েছেন! বোর্ড সভাপতির দুই ঘণ্টার সংবাদ সম্মেলন নিয়ে কাটাছেঁড়া করলে অনেক যুক্তি-পাল্টা যুক্তি দাঁড় করানো যাবে। কিন্তু তাতে কি বাংলাদেশ ক্রিকেট যে সংকটের মুখে পড়েছে তা থেকে উত্তরণ হবে?

বাস্তবতা হচ্ছে, সংকটে বাংলাদেশ ক্রিকেট। দেশের ক্রিকেটের ইমেজ নিয়ে প্রশ্ন যেখানে তার সমাধানের পথ খুঁজতেই হবে। খোঁজার দায়িত্বটা ক্রিকেট প্রশাসনে যারা আছেন তাদের। তার আগে কারণ খুঁজে বের করা দরকার হঠাৎ কেন ক্রিকেটাররা ক্রিকেটীয় কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার মতো কঠিন সিদ্ধান্তে গেলেন। ক্রিকেট তাদের জীবন-জীবিকা, সেই ক্রিকেট থেকে তারা দূরে থাকার ঘোষণা দিলেন যে এগারোটা দাবি জানিয়ে, সেটা কি অযৌক্তিক? বিসিবির প্রধান নির্বাহী গণমাধ্যমে বলেছিলেন, ‘ক্রিকেটারদের দাবির কথা আপনাদের মাধ্যমে জানলাম। দ্রুত সময়ের মধ্যে এর একটা সমাধানের চেষ্টা করা হবে।’ এই কথাগুলো তো পেশাদার লোকের। কিন্তু একদিন পর সংবাদ সম্মেলনে যা বলা হলো; তাতে ক্রিকেট বোর্ড আর ক্রিকেটাররা মুখোমুখি দাঁড়িয়ে এমন একটা বাতাবরণ তৈরি করা হলো!

ক্রিকেট বোর্ড সমাধান চায়; সেই বিশ^াস এখনো হারানো ঠিক হবে না। কিন্তু ক্রিকেটারদের এই সমস্যা সমাধানের জন্য যদি খোদ প্রধানমন্ত্রীকে উদ্যোগ নিতে হয়, সেটা বোর্ডের ইমেজের জন্য মোটেও ভালো কিছু হবে না। প্রধানমন্ত্রী ভারত-বাংলাদেশ টেস্ট সিরিজের ইডেন টেস্ট দেখতে যাবেন। সেটা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল এবং ভারতের সাবেক অধিনায়ক আগামী দিনের বিসিসিআইর সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলির আমন্ত্রণে। সেখানে সাকিব-মুশফিক-মাহমুদউল্লাহ যাবেন না; সেটা মোটেও বিশ^াসযোগ্য নয়। আর এ রকম একটা ঐতিহাসিক সিরিজ বাতিলের ষড়যন্ত্র করবেন বাংলাদেশের কেউ, তাও মনে হয় না। তা হলে কি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব কল্পিত?

বোর্ডকর্তাদের শারীরিকভাষা বলে দেয়, তারা ক্রিকেটারদের দেখে নেওয়ার মতো একটা মন নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সেখানে সমাধানের কোনো ইঙ্গিত নেই। আছে বিদ্বেষ। আছে অহমিকা। আছে ক্ষমতার দাপট। কিন্তু এর সবকিছুই তো ক্রিকেটের বদৌলতে। ক্রিকেটারদের সৌজন্যে। তা হলে ক্রিকেটারদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে লাভ কার হচ্ছে? বরং অভিভাবকসুলভ মনোভাব দেখিয়ে গণমাধ্যমে বলা যেত, ক্রিকেটাররা আমাদের কাছে এলে আলাপ-আলোচনা করে বিষয়গুলো বিবেচনা করব আমরা।

কিন্তু সেটা দেখলাম কোথায়? আসলে বোর্ডের ভেতর কোনো গলদ আছে কিনা সেটা খতিয়ে দেখার সময় এসেছে। বোর্ড সভাপতি নিজেই বলেছেন, ষড়যন্ত্র হচ্ছে। তবে সেটা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ভেতর থেকে হচ্ছে কিনা সেটাও বিবেচনায় নিতে হবে। কারণ এই শতাব্দীর গোড়ায় জামায়াত-বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর বোর্ডের ভেতর থেকে কিছু লোক বিএনপির এক সাংসদকে সভাপতি বানিয়ে নির্বাচিত বোর্ড ভেঙে দিয়ে সেই সভাপতির উপদেষ্টা হয়ে গিয়েছিলেন। সুর পাল্টে ফেলেছিলেন। তারা বারবার সুর পাল্টে ক্ষমতার কাছাকাছি থেকেছেন। সেই বুদ্ধিমান লোকগুলো বোর্ড সভাপতির পাশেই আছেন। বোর্ড সভাপতির কথা শুনে এবং তার পাশে ওই লোকগুলো দেখে রবীন্দ্রনাথের একটা কথা মনে পড়ছে। ‘দিনরাত প্রখর বুদ্ধিমানের সঙ্গে থাকলে বুদ্ধি লোপ পায়।’

ষড়যন্ত্রের গন্ধ যিনি বা যারা টের পেয়েছেন তাদের বুদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো সুযোগ নেই। তবে বেশি বুদ্ধিমানের বুদ্ধি দ্বারা অনুপ্রাণিত হলে তাদের বুদ্ধি লোপ পেতেই থাকবে। স্বাধীনতার পর থেকে সবচেয়ে বেশি সময় যিনি ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে জড়িয়ে, বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসার পর ‘আওয়ামী লীগ নেতার ছেলে’ বলে যার পাসপোর্ট কেড়ে নিয়েছিল। নিউজিল্যান্ডগামী বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার হিসেবে পাওয়া বিমানের টিকিট কেড়ে নেওয়া হলো, বোর্ডের সেই অভিজ্ঞ পরিচালককে কেন মঙ্গলবারের সভায় ডাকা হলো না! সেই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে ক্রিকেটাঙ্গনে! আহমেদ সাজ্জাদুল ববিকে বোর্ডের সভায় কেন ডাকা হলো না? সেটা কী সেই জামায়ত-বিএনপি সরকারের সময় সক্রিয় পরিচালকদের বুদ্ধিতে? তিনি ঢাকায়ই ছিলেন। তা হলে কেন বোর্ড সভার আমন্ত্রণ পেলেন না? মোবাইলে বা ই-মেইলে তাকে সভার কথা জানানো হয়নি। তবে এখানেও কি কোনো ষড়যন্ত্র! নাকি সভায় তিনি উপস্থিত থাকলে নিজের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা দিয়ে ক্রিকেটারদের এই দাবি নিয়ে একটা সমঝোতার পথ বাতলে দিতে পারেন, এই ভয়ে?

সাংবাদিকদের মন বড় প্রশ্নপ্রবণ। তাই প্রশ্নটা বারবার আসছে। ষড়যন্ত্রের কথা বলা হচ্ছে; অথচ কারা করছেন সেটা বলতে দ্বিধা! ক্রিকেটাররা সঠিক পথে দাবি উত্থাপন করেছেন কিনা এটা নিয়ে কথা হচ্ছে। তারা ভুল না ঠিক সেটাও মাপজোক হচ্ছে। তবে বোর্ড কতটা সঠিকভাবে সংকট নিরসনের উদ্যোগ নিয়েছে সেটা নিয়েও মানুষের মনে প্রশ্ন।

ক্রিকেটাররা নিজেদের এগারো দফা দাবি জানিয়েছেন। সেটা যেভাবে যে মাধ্যমেই হোক। বোর্ডকর্তারা সেই দাবিগুলো মোবাইলে বয়ে বেড়াচ্ছেন। অথচ সমাধানের পথ খোঁজার চেয়ে বেশি তৎপর ক্রিকেটারদের সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতে! ক্রিকেটাররা বুদ্ধিমান কিনা সেই বিতর্কে যাওয়ার দরকার নেই। কিন্তু তারা বুদ্ধিদীপ্ত বলেই সেকেন্ডের ভগ্নাংশের কম সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন কোন বলটা কোনভাবে খেলতে হবে। সে কারণে তারা অন্যের বুদ্ধিপ্রণোদতি হয়ে এগারো দফা দাবি জানিয়েছেন সেটা বিশ^াসযোগ্য মনে হয় না।

তবে একটা কথা সত্যি। কিছু প্রশ্নের চটজলদি কোনো উত্তর থাকে না। বাংলাদেশ ক্রিকেট নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে কিনা সেটা জানার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। গবেষণা করতে হবে ষড়যন্ত্রের হদিস পেতে। কিন্তু ষড়যন্ত্র কারা করছেন সেটা বলার মতো অবস্থায় না পৌঁছে ‘ষড়যন্ত্র’ তত্ত্ব বাতাসে ভাসিয়ে দেওয়া প্রখর বুদ্ধিদীপ্ত কোনো কথা হতে পারে না। তার চেয়ে বরং শরৎ চন্দ্রের ভাষা বেছে নেওয়াই ভালো ছিল ক্রিকেটারদের দাবি নিয়ে সৃষ্ট অচলাবস্থা নিরসনে। ‘অকপট সহজ বুদ্ধিই সংসারে পরম এবং চরম বুদ্ধি।’ ক্রিকেটারদের আন্দোলন, ধর্মঘট, বিদ্রোহ নতুন কিছু নয় ক্রিকেটবিশে^। এমনকি বাংলাদেশেও। ক্রিকেট বোর্ডের উচিত হর্ন বাজিয়ে সেই এগারো দফাকে বুড়ো আঙুল না দেখিয়ে সময়মতো ‘ব্রেক’ কষা।ৎ

 

অঘোর মন্ডল : সিনিয়র জার্নালিস্ট ও কলাম লেখক

advertisement