advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সৌদি থেকে ৩ দিনে ফিরলেন ৩৩২ বাংলাদেশি

কামাল পারভেজ অভি,সৌদি আরব
২ নভেম্বর ২০১৯ ১৫:৫৫ | আপডেট: ২ নভেম্বর ২০১৯ ১৫:৫৮
ধরপাকড়ের মুখে সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরা ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন। ছবি : আমাদের সময়
advertisement

সৌদি আরবে ধরপাকড়ের শিকার হয়ে চলতি মাসের প্রথম দিনে দেশে ফিরেছেন ৭৫ বাংলাদেশি। গতকাল শুক্রবার রাত ১১টা ২০ মিনিটে সৌদি এয়ারলাইন্স এসভি ৮০৪ ফ্লাইটে দেশে ফেরেন তারা। এ নিয়ে গত তিনদিনে মোট ৩৩২ বাংলাদেশিকে ফিরতে হলো। প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

শুক্রবার সৌদি আরব থেজে ফেরত আসা নরসিংদীর সজিব হোসেন জানান, তিনি ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা খরচ করে আলফালা কোম্পানিতে মশানিধন কর্মী হিসেবে কাজ করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে গিয়ে কাজ পান একটি সাপ্লাই কোম্পানিতে। তবে এক বছরেও কোনো বেতন পাননি তিনি। উপায় না দেখে উল্টো বাড়ি থেকে আরও ৫০ হাজার টাকা নিয়ে শূন্য হাতে দেশে ফিরেছেন তিনি।

ফরিদপুরের মামুন মিয়া জানান, সাড়ে চার বছর ধরে সৌদি আরবে ছিলেন তিনি। আকামা নবায়নের জন্য কফিলকে (নিয়োগকর্তা) টাকাও দিয়েছিলেন। কিন্তু কফিল আকামা নবায়ন করেননি। অভিযানে গ্রেপ্তার হলে কফিল তার দায়িত্বও নেয়নি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মাসুম মিয়ার অভিযোগ, আট মাসের আকামার মেয়াদ থাকলেও রাস্তা থেকে ধরে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে তাকে দেশে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘সৌদি আরবে নয় বছর বৈধ আকামা নিয়ে কাজ করেছি। আমাকে কেন দেশে পাঠানো হলো জানি না।’

মো. জুয়েলের বাড়ি মৌলভীবাজারে। তিনি জানান, মাত্র এক মাস আগে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। কিন্তু ধরপাকড়ের অভিযানে তাকেও শূন্য হাতে দেশে ফিরতে হলো।

একইভাবে ফেনীর মিজবাহ আড়াই মাস, গাইবান্ধার মাহাবুব পাঁচ মাস, সাদিরুল সাত মাস, কুমিল্লার জুয়েল আট মাস আগে গিয়েছিলেন সৌদি আরবে। কিন্তু ধরপাকড়ে তাদের খালি হাতে দেশে ফিরতে হয়।

বরাবরের মতো গতকালও ফেরত আসা কর্মীদের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সহযোগিতায় বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম থেকে খাবার-পানিসহ নিরাপদে বাড়ি পৌঁছানোর জন্য জরুরি সহায়তা দেওয়া হয়।

ব্র্যাক অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান জানান, চলতি বছর এখন পর্যন্ত প্রায় ২১ হাজার বাংলাদেশিকে সৌদি আরব থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। সেপ্টেম্বর থেকে ধরপাকড়ের পরিমাণ অনেক বেড়েছে।

শরিফুল হাসান বলেন, ‘গতকাল যারা ফেরত এসেছেন তাদের মধ্যে এমন অনেকে রয়েছেন যারা কয়েকমাসে আগে সেখানে গিয়েছিলেন। অনেকে জানিয়েছেন, তাদের যে কাজ দেওয়ার কথা ছিল সেই কাজ পাননি। দীর্ঘদিন ধরে থাকা কয়েকজন বলছেন কেন তাদের পাঠানো হলো জানেন না। কয়েকজন বলছেন আকামা নবায়নের জন্য তারা টাকা দিয়েছিলেন, কিন্তু নিয়োগকর্তা সেটি নবায়ন করেনি। এখন পুলিশ ধরলেও তারা দায়িত্ব নিচ্ছেন না।’

এই ধরনের প্রতিটা ঘটনায় দায়ীদের জবাবদিহিতা জরুরি বলেও মনে করেন শরিফুল হাসান।

advertisement