advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সন্তান প্রতিবন্ধী, বাংলাদেশি বাবা-মাকে ফেরত পাঠাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া

অনলাইন ডেস্ক
৪ নভেম্বর ২০১৯ ১৭:৪৮ | আপডেট: ৪ নভেম্বর ২০১৯ ২২:৫৮
আদিয়ান বিন হাসান। ছবি : এবিসি নিউজ
advertisement

আদিয়ান বিন হাসান। অস্ট্রেলিয়ায় জম্মগ্রহণ করা এক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত। আদিয়ান যখন জন্মগ্রহণ করে তখন তার মস্তিষ্কে ছোট্ট একটা স্ট্রোক হয়। এরপর থেকে তার বাম হাতে কিছুটা সমস্যা দেখা দেয়। আদিয়ানের বয়স এখন পাঁচ বছর। তার মা-বাবা অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য দেশটির অভিবাসন বিভাগে আবেদন করেছেন। কিন্তু তাদের ছোট্ট সন্তানের হাতের ওই সমস্যার কারণে তাদের রেসিডেন্সি আবেদন বাতিল করে দেওয়া হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার গিলং হাসপাতালে জম্মগ্রহণ করা আদিয়ান বর্তমানে সাবলিল ভাষায় বাংলা বলতে পারে। খেলাধুলা করতে পারে, পারে দৌঁড়াতেও। বর্তমানে সে দেশটির একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলে পড়ছে। 

অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে আদিয়ানের মা রেবেকা সুলতানা জানান, তার সন্তানের দিন দিন ইংরেজির প্রতি আগ্রহ বেড়েই চলেছে। সে স্কুলে যাওয়ার প্রতি খুব আগ্রহী এবং বর্তমানে আদিয়ান স্থানীয় লাইব্রেরি প্রোগ্রামগুলাতে অংশ নিচ্ছে।’

আদিয়ানের মা বলেন, ‘বাচ্চা যদি আগ্রহী না হতো তাহলে সে শিখতে পারতো না।  সে আগ্রহী বলেই এসব করতে পারছে।’

হাসিখুশি, চঞ্চল ও কৌতূহলি এই শিশুটি তার বাম হাতের সামান্য সমস্যা থাকায় তার বাবা-মা অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য প্রত্যাখ্যাত হওয়ার সম্ভাবনার মুখোমুখি।

যদিও দেশটির শিশু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আদিয়ানের অক্ষমতা গুরুতর কিছু নয়, হালকা ফিজিওথেরাপি চালু রাখলেই একটা সময়ে ঠিক হয়ে যেতে পারে। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার ‘স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে’ এমন আশঙ্কা থেকে তাদের স্থায়ী বসবাসের সুযোগ দিতে নারাজ দেশটির কর্তৃপক্ষ।

জম্মের পর বেড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে আদিয়ানের শারিরীক অক্ষমতা সবাই ভুলে গেছে। কিন্তু তার পরিবার অস্টেলিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য স্বাস্থের যে মানদণ্ড প্রয়োজন ছিল তা পূরণ করতে পারেনি বলে জানায় দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ। আদিয়ানের ব্যয়ভার বহনের শঙ্কায় স্থায়ীভাবে তার বাবা-মাকে বসবাসের অনুমতি দেয়নি স্বাস্থ্য বিভাগ।

গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ২০১১ সালে স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে অস্ট্রেলিয়া যান আদিয়ানের বাবা ড. মেহেদি হাসান ভূঁইয়া। পরের বছরেই বাংলাদেশে এসে বিয়ে করে অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে যান। ২০১৩ সালে স্ত্রী রেবেকা সুলতানাকেও তিনি দেশটিতে নিয়ে যান। সেখানে গিলং হাসপাতালে আদিয়ানের জন্ম হয়।

আদিয়ানের জন্মের কয়েক মাস পরেই তার পরিবার লক্ষ্য করে, সে সহজে মাথা তুলতে পারছে না।  সম্ভবত জন্মের কিছু সময় আগে বা পরে স্ট্রোকের কারণে সে হালকা ‘সেরিব্রাল প্যালসিতে’ আক্রান্ত হয়।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশি ডিগ্রিসহ দক্ষিণ কোরিয়া থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন মেহেদি হাসান ভূঁইয়া। এরপর ২০১৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার ডিকিন ইউনিভার্সিটি থেকে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি অর্জন করেন। তিনি ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্য সরকার কর্তৃক দক্ষ অভিবাসী হিসেবে স্থায়ী ভিসা পান। যার মাধ্যমে পরিবারসহ তিনি অস্ট্রেলিয়া আজীবন থাকার নিশ্চয়তা পান।

কিন্তু আদিয়ানের শারীরিক অক্ষমতার কারণে স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় পুরো পরিবার দেশটিতে বসবাসের যোগ্যতা হারায়। অস্ট্রেলিয়ার কঠোর ‘ওয়ান ফেলস অল ফেল’ অভিবাসী নীতির কারণে একজনের জন্য পরিবারের সব সদস্যকে দেশটি থেকে বহিষ্কার করা হচ্ছে।

অস্ট্রেলিয়া কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভূঁইয়া পরিবার আপিল করে। তবে সেই আবেদন খারিজ করে দেয় আপিল ট্রাইব্যুনাল।

আদিয়ানের বাবা জানিয়েছেন, ফিজিক্যাল থেরাপির মাধ্যমে সে দিন দিন উন্নতি করছে। সে এখন অনেক ভালো আছে। পড়াশোনাতেও কোনো ধরনের সমস্যা হচ্ছে না। সে নিয়মিত স্কুলে যাচ্ছে, সবকিছু শিখছে, বাসায় শিশুতোষ ভিডিও দেখছে। মোবাইল ফোনও ব্যবহার করতে পারে।

আদিয়ানের চিকিৎসা-সংক্রান্ত আড়াই বছরের (২০১৬-২০১৯) কাগজপত্র পর্যালোচনা করে আপিল ট্রাইব্যুনাল।

পরে তারা তাদের সিদ্ধান্তে জানায়, আদিয়ানের কিছু শারীরিক দুর্বলতা রয়েছে এবং স্থায়ী প্রকৃতির। এজন্য তার বিশেষ ধরনের সেবা প্রয়োজন, এমনকি স্কুলেও। তাই অস্ট্রেলিয়ায় পরিবারটি অবদান রাখলেও অভিবাসী নীতির কারণে এমন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে তাদের।

তবে আপিল ট্রাইব্যুনালের এই যুক্তি মানতে নারাজ বাবা মেহেদী হাসান ভূঁইয়া। তিনি বলেন, ‘আমার কিছুতেই মাথায় আসছে না যে, একটা ছেলের বাম হাতে সামান্য দুর্বলতা আছে। কিন্তু তার জন্য বিশেষ শিক্ষা কেন দরকার হবে? কিন্তু আমি যতদূর জানি, বিশেষ শিক্ষা তো কেবল তাদেরই দরকার হয় যারা মূল ধারার স্কুলে যেতে পারে না।’

তবে এখানেই দমে যাননি আদিয়ানের পরিবার। অস্ট্রেলিয়া থাকার শেষ সুযোগ হিসেবে তারা দেশটির অভিবাসন মন্ত্রী ডেভিড কোলম্যানের কাছে আপিল করেছেন। এক্ষেত্রে মন্ত্রী তার ব্যাখ্যা বা সিদ্ধান্ত দিতে বাধ্য নন।

বর্তমানে বিশেষ ভিসায় রয়েছেন আদিয়ানের পরিবার। এ বিষয়ে মন্ত্রীর সিদ্ধান্ত আসার আগ পর্যন্ত তারা দেশটিতে আরও তিন মাস থাকার সুযোগ পাবেন।

advertisement
Evall
advertisement