advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

জয়ের লক্ষ্য দিতে পারেনি বাংলাদেশ

সাইফুল ইসলাম রিয়াদ,রাজকোট থেকে
৭ নভেম্বর ২০১৯ ২১:৩০ | আপডেট: ৮ নভেম্বর ২০১৯ ০০:৪৯
advertisement

ঘুর্ণিঝড় মাহার কোনো প্রভাবই পড়েনি রাজকোটে। সারাদিন রোদঝলমল করছিল গুজরাটের চতুর্থ বড় এই শহরে। দারুণ আবহাওয়ায় বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি শুরু হয় আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়।

দিল্লিতে সিরিজের প্রথম ম্যাচ জিতে যাওয়াতে কোনো ধরনের চাপ ছিল না টাইগারদের সামনে। সিরিজ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে থেকে মাঠে নামেন লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। তবে দিল্লিতে প্রথম ম্যাচের মতো টস ভাগ্য সহায় হয়নি রাজকোটের সৌরাষ্ট্র ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে।

ওই ম্যাচে টস জিতলেও আজ টস হেরে ব্যাটিং করতে হয়েছে রিয়াদ-মুশফিকদের। মোহাম্মদ নাঈমের ঝোড়ো শুরুতে শুভসূচনা করে বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ওভার শেষে ছয় উইকেট হারিয়ে ভারতকে ১৫৪ রানের লক্ষ্য দেয় টাইগাররা।

রাজকোটের এই মাঠে গড় রান ১৭০/১৮০। অর্থাৎ এই রান হলে যেকোনো দলের পক্ষে জেতা সম্ভব। কিন্তু মিডল অর্ডার ও লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় বাংলাদেশ দুর্দান্ত শুরু করেও ১৬০ রানের ঘর পেরোতে পারেনি। অথচ পাওয়ার প্লেতে ৫৪ রান এসেছিল।

ওপেনিংয়ে নেমে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই ওপেনার মোহাম্মদ নাঈমের রুদ্রমুর্তি দেখল ক্রিকেট বিশ্ব। খলিল আহমেদকে টানা তিন চার মেরে যেন বার্তা দিলেন পরীক্ষিত ওপেনার তামিম না থাকলেও কোনো সমস্যা নেই, পুষিয়ে দেওয়ার জন্য আমি আছি। সর্বোচ্চ ৩৬ রান আসে এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের ব্যাট থেকেই। ৩১ বলে পাঁচ চারের মারে তিনি এই রান করেন। প্রথম ম্যাচেও নাঈম ভালো সূচনা এনে দিয়েছিলেন। তার ব্যক্তিগত ইনিংস দীর্ঘ করতে না পারলেও তা ছিল কার্যকরী।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান আসে মাহমুদউল্লাহ ও সৌম্য সরকারের ব্যাট থেকে। দুজনেই করেন ৩০ রান। ২০ বলে দুই চার ও এক ছয়ের মারে সৌম্য এই রান করলেও মাহমুদউল্লাহ করেন ২১ বলে। ঝোড়ো ইনিংসের আভাস দিয়ে দুজনেই ফিরে যান সাজঘরে।

দুই দুইবার জীবন পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি লিটন দাস। ১৭ রানে জীবন পাওয়ার পর ২৯ রানে সাজঘরে ফেরেন স্টাম্পিংয়ের শিকার হয়ে। ২১ বলে চার চারের মারে তিনি এই রান করেন। অথচ প্রথম জীবন পেয়েছিলেন স্টাম্পিং করতে গিয়ে পান্থর সহজ ভুলে। এরপর ওয়াশিংটন সুন্দরের বলে ক্যাচ তুলে দিলেও ধরতে পারেননি ভারতিয় অধিনায়ক রোহিত শর্মা। দ্বিতীয়বার আর ভুল করেননি পান্থ। রানআউট করে সাজঘরে পাঠিয়ে দেন ডানহাতি এই ওপেনারকে।

প্রথম ম্যাচে জয়ের নায়ক মুশফিক ছিলেন ব্যর্থ। ছয় বলে চার রান করে ক্রুনাল পান্ডিয়ার হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন। প্রথম ম্যাচে দিল্লিতে এই পান্ডিয়াই বাউন্ডারি লাইনে মুশফিকের ক্যাচ ফেলে দিয়েছিলেন, এই ম্যাচে আর ভুল করেননি। নাঈম আউট হঅয়ার পর ক্রিজে এসেছিলেন মুশফিক, সৌম্যর সঙ্গে একই ওভারে আউট হয়ে গেলে বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ।

দিল্লিতে ব্যাটিং করতে নামতে হয়নি আফিফ হোসেনকে, তবে বোলিংয়ে দুর্দান্ত করেছিলেন। কিন্তু রাজকোটে আজ ব্যাট হাতে ব্যর্থ ছিলেন এই বাঁহাতি তরুণ তুর্কী। মোসাদ্দেক হোসেন ৭ ও আমিনুল ইসলাম ৫ রানে অপরাজিত ছিলেন। ভারতের হয়ে সবচেয়ে কৃপণ বোলিং করেন ওয়াশিংটন সুন্দর ও দীপক। দুজনই চার ওভারে ২৫ রান করে দিয়ে তিনি তুলে নেন একটি করে উইকেট। সবচেয়ে খরুচে ছিলেন খলিল আহমেদ। চার অভারে ৪৪ রান দিয়ে একটি উইকেট নেন তিনি। যুজবেন্দ্র চাহাল চার ওভারে ২৮ রান দিয়ে নেন দুই উইকেট।

দুই দলই প্রথম ম্যাচের একাদশ নিয়েই মাঠে নেমেছে। রোহিত শর্মা একাদশে পরিবর্তের আভাস দিলেও শেষ পর্যন্ত আর পরিবর্তন আনেননি। অন্যদিকে টাইগার অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ বলেই দিয়েছিলেন প্রথম ম্যাচের একাদশ নিয়েই মাঠে নামবেন। শেষ পর্যন্ত তাই হয়েছে। তিন ম্যাচ সিরিজে এমনিতে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। এই ম্যাচ জিতলেই ইতিহাস গড়বেন টাইগাররা।

advertisement