advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বিদেশি হয়েও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাচ্ছেন মো. কালাম!

বিনোদন ডেস্ক
৮ নভেম্বর ২০১৯ ১৩:৫২ | আপডেট: ৮ নভেম্বর ২০১৯ ১৩:৫৩
ভারতীয় নাগরিক মো. কালাম। ছবি : সংগৃহীত
advertisement

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের জন্য শুধু বাংলাদেশিরাই বিবেচিত হবেন। বিদেশি কোনো নাগরিক এ পুরস্কার পাবেন না। পুরস্কারের জন্য আবেদন আহ্বান করে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এমন কথাই লেখা ছিল। আর তাতে স্বাক্ষর ছিল বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যানেরও। কিন্তু গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকায় দেখা গেল ভিন্ন ঘটনা। সেখানে স্থান করেন নিলেন এক ভারতীয় নাগরিক।

ভারতীয় ওই নাগরিকের নাম মো. কালাম। ‘ঢাকা অ্যাটাক’ ছবির জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ সম্পাদক হিসেবে পুরস্কৃত হচ্ছেন। ভারতে বসবাসকারী কালাম বাংলাদেশের বেশ কিছু চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন।

২০১৭ ও ২০১৮ সালে দেশের চলচ্চিত্র শিল্পে গৌরবোজ্জ্বল অবদানের জন্য শিল্পী ও কলাকুশলীকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদানের ঘোষণা করেছে সরকার। মোট ২৮টি ক্যাটাগরিতে পুরস্কারপ্রাপ্তদের নাম তথ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত পুরস্কারের তালিকায় ২০১৭ সালের সেরা ছবির পুরস্কার পেয়েছে ‘ঢাকা অ্যাটাক’ ও একই ক্যাটাগরিতে ২০১৮ সালের পুরস্কার পেয়েছে ‘পুত্র’। কিন্তু অবাক হওয়ার মতো ব্যাপার হলো- এই তালিকায় মো. কালামের নামও রয়েছে, যা জাতীয় পুরস্কার পাওয়ার মানদণ্ডের স্পষ্ট লঙ্ঘন।

এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির ১৪ তারিখে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের জন্য আবেদন আহ্বান করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছিল। এতে স্বাক্ষর করেছিলেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান নিজামূল কবীর।

জানতে চাইলে জুরি সদস্য মুশফিকুর রহমান গুলজার বলেন, ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার কোনো বিদেশি নাগরিক পেতে পারেন না।’ জুরি হিসেবে নিজেই ছিলেন জানানোর পর তিনি বলেন, জুরিরা কাগজপত্র পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখেন না। এই কাজের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্য লোক রয়েছেন।

এ ব্যাপারে ‘ঢাকা অ্যাটাক’ ছবির পরিচালক দীপংকর দীপনের দাবি, এ রকম শর্ত থাকার কথা তার জানা ছিল না। তিনি বলেন, ‘আমি কাগজপত্র জমা দেইনি। প্রযোজক কাগজপত্র জমা দিয়েছিলেন, এ ব্যাপারে তিনিই বলতে পারবেন।’

ছবিটির প্রযোজক সানী সানোয়ার বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের ঠিক করা নীতিমালা অনুযায়ীই আমরা কাগজপত্র জমা দিয়েছিলাম। যার কথা বলা হচ্ছে বাংলাদেশি পাসপোর্ট অথবা পরিচয়পত্র না থাকায় তার নাম আমরা জমা দেইনি।’

এ সময় জুরি বোর্ডের কাছে তার কাজ হয়তো ভালো লেগেছিল তাই পুরস্কারে নাম আসতে পারে বলেও মন্তব্য করেন সানী সানোয়ার।

এ ব্যাপারে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালক মোরশেদুল ইসলাম বলেন, ‘এটা ভুল হয়ে থাকতে পারে। আশা করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভুল সংশোধন করবেন।’

জানতে চাইলে টেলিফোনে ভারতীয় নাগরিক মো. কালাম বলেন, ‘প্রথমত, আমি বাঙালি। তাই যেকোনো স্বীকৃতিই আমাকে ভালো কাজে উৎসাহিত করে। আমি খুশি। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার কোনো বিদেশিকে দেওয়া যাবে না, এমন বিধান থেকে থাকলে আমি মনে করি চলচ্চিত্রের স্বার্থেই সেই বাধা তুলে দেওয়া উচিত।’

advertisement