advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

রাতে আঘাত হানতে পারে বুলবুল

মো. মাহফুজুর রহমান
৯ নভেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ৯ নভেম্বর ২০১৯ ০১:৫৬
advertisement

বাংলাদেশ-ভারত উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী আজ শনিবার সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাতের যে কোনো সময় ঝড়টি বাংলাদেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হানতে পারে। এ কারণে ৫-৭ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে গত রাতেও সাগর ছিল উত্তাল। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরে মাছধরা সব ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে। তবে সংকেত আরও বাড়বে বলে গত রাতে জানান আবহাওয়া অধিদপ্তরের মুখপাত্র। সরকারের তরফ থেকে সাইক্লোন শেল্টারসহ উপকূলের সব আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে; ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ৭টি জেলা চিহ্নিত করা হয়েছে। জেলাগুলো হলো খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, বরগুনা, পটুয়াখালী, পিরোজপুর ও ভোলা।
বুলবুলের প্রভাবে দেশের ৯ জেলায় ৭ নম্বর বিপদ সংকেত জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর; চট্টগ্রামসহ উপকূলীয় ৫ জেলায় দেখাতে বলা হয়েছে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত। আবহাওয়াবিদ
ড. মুহাম্মদ আবদুল কালাম মল্লিক স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল সন্ধ্যায় এসব তথ্য জানানো হয়।
ঘূর্ণিঝড় ধেয়ে আসায় সারাদেশে সব ধরনের নৌ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙর ও জেটিতে জাহাজ থেকে পণ্য ওঠানামার কাজ বন্ধ রয়েছে। গতকাল সকাল থেকে আউটারে এবং সন্ধ্যা সাতটার পর থেকে জেটিতে কাজ বন্ধ করে দেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। বুলবুলের প্রভাবে সৃষ্ট বৈরী আবহাওয়ার কারণে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় সেন্টমার্টিন দ্বীপে সহস্রাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন। একই কারণে সুন্দরবনের দুবলার চরে ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসবের এবারের আয়োজন বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়ের কারণে আজ অনুষ্ঠেয় জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা সারাদেশে স্থগিত করা হয়েছে। জেএসসির আজকের পরীক্ষাটি ১২ নভেম্বর এবং জেডিসির পরীক্ষাটি ১৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আজকের সব পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এটি কবে অনুষ্ঠিত হবে, তা পরবর্তী সময়ে জানানো হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বুলবুলের প্রভাবে গতকাল রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন; সারাদিনই ছিল গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি।
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট এ ঝড়টি গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টায় পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছিল। ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবিলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ২২টি মন্ত্রণালয়সহ জেলা-উপজেলা পর্যায়ের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ড. মো. এনামুর রহমান গতকাল শুক্রবার বিকালে সচিবালয়ে মনিটরিং সেলের সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে ছুটি বাতিলের কথা জানান। তিনি বলেন, সরকার সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে। এরই মধ্যে সাইক্লোন শেল্টারসহ উপকূলের আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি সাইক্লোন শেল্টারে দুই হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার ও নগদ ৫ লাখ করে টাকা পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি উড়িষ্যা উপকূল হয়ে পশ্চিমবঙ্গ দিয়ে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় অঞ্চল বরাবর অগ্রসর হবে। গতকাল রাতে অধিদপ্তরের সর্বশেষ দেওয়া তথ্যানুযায়ী, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত প্রবল ঘূর্ণিঝড়টি আরও উত্তর দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টির অগ্রবর্তী অংশের প্রভাবে সমুদ্র বন্দরগুলো, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার থেকে ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রস্থলের কাছে সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে।
বুলবুল ও মুন ফেজের প্রভাবে চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, ভোলা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৫-৭ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

যেসব জেলায় ৭ নম্বর বিপদ সংকেত
মোংলা ও পায়রা বন্দরে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেওয়া হয়েছে। উপকূলীয় জেলা ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চর ৭ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

যেসব জেলায় ৬ নম্বর বিপদ সংকেত
উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চর ৬ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে। কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে চার নম্বর স্থানীয় হুশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

নৌ চলাচল বন্ধ
বুলবুল ধেয়ে আসায় সারাদেশে সব ধরনের নৌ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে বিআইডব্লিউটিএ। অভ্যন্তরীণ নৌপথে ২ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি হওয়ায় সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যা ৭টা থেকে এ নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তা বলবৎ থাকবে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় এ ঝড় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৬২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। ওই সময় ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছিল।

সেন্টমার্টিনে আটকা সহস্রাধিক পর্যটক
বুলবুলের প্রভাবে সৃষ্ট বৈরী আবহাওয়ায় জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন দ্বীপে বেড়াতে যাওয়া সহস্রাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন বলে জানিয়েছে প্রশাসন। আমাদের টেকনাফ প্রতিনিধি আবদুুল্লাহ মনির সেখানকার ইউএনও মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের বরাত দিয়ে জানান, শুক্রবার সকাল থেকে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে পর্যটকবাহী জাহাজসহ অন্যান্য নৌযান চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে বৃহস্পতিবার ও এর আগে প্রবাল দ্বীপে বেড়াতে যাওয়া অন্তত এক সহস্রাধিক পর্যটক সেখানে আটকা পড়েছেন।

রাস উৎসব বাতিল
বৈরী আবহাওয়ার কারণে সুন্দরবনের দুবলার চরের ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসব বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। বাগেরহাটের জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা শেষে এ তথ্য জানানো হয়।
সুন্দরবনের গভীরে দুবলার চরের আলোরকোলে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী এ লোক-উৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এ বছর ১০ থেকে ১২ নভেম্বর এ উৎসব আয়োজনের কথা ছিল। পুণ্যস্নান ও উৎসব উপলক্ষে প্রতিবছর ২০ থেকে ৩০ হাজার তীর্থযাত্রী ও দর্শনার্থী অনুষ্ঠানে যোগ দেন। দুবলার চর রাস উৎসব জাতীয় কমিটির পক্ষ থেকে জানমালের নিরাপত্তার বিবেচনায় পুণ্যার্থী, পূজারি ও দর্শনার্থীদের এবার দুবলার চরে রাস উৎসবে যাত্রা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙর ও জেটিতে জাহাজ থেকে পণ্য ওঠানামার কাজ বন্ধ রয়েছে। গতকাল সকাল থেকে আউটারে এবং সন্ধ্যা ৭টায় জেটিতে কাজ বন্ধ করে দেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। আউটার থেকে দুই শতাধিক লাইটার জাহাজকে নিরাপদ আশ্রয়ে আনা হয়েছে। বন্দরের জেটিতে থাকা ১৮টি পণ্যবাহী জাহাজকে আজ শনিবার সকালে বহির্নোঙরে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। বন্দরে অভ্যন্তরীণ সংকেত ‘অ্যালার্ট-৩’ জারি করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেলের (ডব্লিউটিসি) নির্বাহী পরিচালক মাহবুব রশিদ বলেন, চার নম্বর সতর্ক সংকেত জারির কারণে বড় জাহাজ থেকে পণ্য খালাস বন্ধ রয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব মো. ওমর ফারুক আমাদের সময়কে জানান, ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ মোকাবিলায় গতকাল বিকালে বন্দর ভবনে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আউটার ও জেটিতে জাহাজ থেকে পণ্য ওঠানামা বন্ধ।
খুলনায় ৩৪৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন দুর্গতদের জন্য খুলে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার খুলনা সার্কিট হাউস সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় ওই নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক মো. হেলাল হোসেন। তৃণমূল পর্যন্ত দুর্যোগকালীন করণীয় সম্পর্কে ইতোমধ্যে অবহিত করা হয়েছে, খোলা হয়েছে একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষও, যার নম্বর ০৪১-২৮৩০০৫১।
ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে ইতোমধ্যে রাসমেলামুখী সব নৌযান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রেড ক্রিসেন্টসহ উদ্ধারকর্মীরা প্রস্তুত রয়েছেন। পর্যাপ্ত শুকনো খাবার, অর্থ, ওষুধ এবং পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট মজুদ রাখা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড, সড়ক, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও কৃষি বিভাগসহ সব বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। জেলার কয়রা, পাইকগাছা, দাকোপ ও বটিয়াঘাটা দুর্যোগ ঝুঁকিপ্রবণ এলাকা। এসব এলাকায় অতিরিক্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
বিভাগীয় পর্যায়ে একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষটি খোলা হয়েছে, নম্বর-০৪১-৮১৩৯৪০ এবং ০৪১-৮১৩৯৮১।
বরিশালে প্রস্তুত রাখা হয়েছে ২৩২ সাইক্লোন শেল্টার ও ৬ হাজার ১৫০ স্বেচ্ছাসেবক। এ ছাড়া নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য চরাঞ্চলগুলোর বিভিন্ন বিদ্যালয় ভবন ব্যবহারে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বরিশাল জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। রেড ক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও রোভার স্কাউট সদস্যদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বরিশালে খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম, যার নম্বর ০১৭৪১১৯৬৯৩৯ ও ০৪৩১৬৩৮৬৩।
বরগুনায় (পাথরঘাটা) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। প্রশাসনসহ সর্বস্তরের জনগণকে সতর্ক থেকে ঘূর্ণিঝড়ের মোকাবিলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে সভা হয়। একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে জেলার ৪০৩টি সাইক্লোন শেল্টার।
আলীপুর মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান আনসার মোল্লা জানান, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টায় বিক্ষুব্ধ সাগর থেকে উপকূলে ফেরার পথে উত্তাল ঢেউয়ের তোড়ে ট্রলার থেকে ছিটকে নিখোঁজ রয়েছেন বেল্লাল নামে এক জেলে। বেল্লাল পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার কাটনহারী গ্রামের কুরবান আলীর ছেলে।
মৎস্যবন্দর আলীপুর মহিপুরে আশ্রয় নিয়েছে হাজার হাজার মাছ ধরা ট্রলারসহ জেলেরা। বিআইডব্লিউটিএ পটুয়াখালী কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক খাজা সাদিকুর রহমান জানান, জেলার অভ্যন্তরীণ সব ৬০ ফিটের ছোট সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। তবে পটুয়াখালী থেকে ঢাকাগামী ডাবল ডেকার লঞ্চ স্বাভাবিক থাকবে বলে জানান তিনি।
৫৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে মঠবাড়িয়ায়। শুক্রবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিএম সরফরাজের সভাপতিত্বে ফায়ার সার্ভিস প্রতিনিধি, ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির ইউনিট টিম লিডার এবং ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নিয়ে আগাম প্রস্তুতিমূলক সভা হয়। এ সময় সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
সাতক্ষীরায় ১৩৭টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উপকূলীয় উপজেলা শ্যামনগর, আশাশুনি ও কালিগঞ্জ এলাকায় মাইকিং করে সবাইকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার জন্য জানানো হয়েছে। এ ছাড়া জেলার প্রতিটি উপজেলায় বেলা ১১টায় প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলে-বাওয়ালিদের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নদীতে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন চট্টগ্রাম ব্যুরো, নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা, পটুয়াখালী, সাতক্ষীরা; বরিশাল, বরগুনা (পাথরঘাটা) ও মঠবাড়িয়া প্রতিনিধি

 

advertisement