advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

পঞ্চগড়ে বেপরোয়া মিনিবাসে প্রাণ গেল নববধূসহ ৭ জনের

আমাদের সময় ডেস্ক
৯ নভেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ৯ নভেম্বর ২০১৯ ০০:১১
advertisement

ছুটির দিনে পঞ্চগড়ে বেপরোয়া যাত্রীবাহী মিনিবাস কেড়ে নিল একটি ইজিবাইকের সাত যাত্রীর প্রাণ। গতকাল শুক্রবার দুপুরে পঞ্চগড়-বাংলাবান্ধা মহাসড়কের মাগুরমারী চৌরাস্তা (আমতলা) এলাকায় বাস ও ইজিবাইকের সংঘর্ষে মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে দুই দম্পতি রয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন নববধূ বলেও জানা গেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ এনে মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। ঘটনার পর পরই জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী ঘটনাস্থলে গেলে জনতার তোপের মুখে পড়েন। এ ছাড়া ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ

প্রশাসনের কর্মকর্তা-জনপ্রতিনিধিরাও তোপের মুখে পড়েন। ঘটনার আড়াই ঘণ্টা পর মহাসড়কে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়।

এ ছাড়া গতকাল ও এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে আরও চারজনের। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরÑ

পঞ্চগড় : পঞ্চগড় থেকে তেঁতুলিয়াগামী একটি মিনিবাস সড়কে বিচরণরত একটি ছাগল বাঁচাতে গিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা যাত্রীবাহী ইজিবাইকটিকে চাপা দেয়। এতে ইজিবাইকচালক রফিকসহ পাঁচজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে মারা যান আরও দুজন। নিহতরা সবাই ইজিবাইকের যাত্রী। তারা হলেনÑ পঞ্চগড় সদর উপজেলার চেকরমারী গ্রামের ইজিবাইকচালক রফিক (২৮), সদর উপজেলার বদিনাজোত গ্রামের আকবর আলী (৭২) ও তার স্ত্রী নুরিমা (৬৫), তেঁতুলিয়া উপজেলার মাঝিপাড়া গ্রামের লাবু ইসলাম (২৫) ও তার স্ত্রী নববধূ মুক্তি (১৯), সদর উপজেলার রায়পাড়া গ্রামের মাকুদ হোসেন (৪৩) ও সাহেবজোত গ্রামের নার্গিস বানু (৪২)।

স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তেঁতুলিয়া উপজেলার মাঝিপাড়া গ্রামের লাবু ইসলাম মাত্র ৪৫ দিন আগে বিয়ে করেন। গতকালের দুর্ঘটনায় তিনি সস্ত্রীক নিহত হন। তাদের মৃত্যুতে দুই পরিবারে শুরু হয়েছে আহাজারি।

পঞ্চগড় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিরঞ্জন সরকার জানান, খবর পেয়ে তিনিসহ ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে যান। ঘটনাস্থলে পাঁচজনের লাশ পাওয়া যায়। তাদের মধ্যে দুজন নারী ও তিনজন পুরুষ।

পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার সিরাজউদৌলা পলিন জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত আকবর আলী ও মুক্তি চিকিৎসাধীন মারা যান।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী সড়ক দুর্ঘটনায় সাতজন নিহত হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মিনিবাসটিকে পুলিশ জব্দ করেছে। তবে চালক পালিয়ে গেছে। দুর্ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

এদিকে বোদা-দেবীগঞ্জ মহাসড়কের বোদা বাইপাস এলাকায় বৃহস্পতিবার রাতে ট্রাকচাপায় রাজকুমার নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হন। একই দুর্ঘটনায় সুকুমার ওরফে মহব্বত নামে আরেক মোটরসাইকেলর আরোহী গুরুতর আহত হন। নিহত রাজকুমারের বাড়ি পঞ্চগড় জেলা শহরের চাঁনপাড়া এলাকার দেবারুর ছেলে। হতাহত দুজনই কাঠ ব্যবসায়ী।

গাইবান্ধা : রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের পলাশবাড়ী উপজেলার মহেশপুর এলাকায় শুক্রবার সকালে বাসের ধাক্কায় লেগুনা খাদে পড়ে চালক আরিফ নিহত হন। তিনি সাদুল্যাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের তিলকপাড়া গ্রামের ট্রাকচালক সঞ্জু মিয়ার ছেলে।

লালমনিরহাট : লালমনিরহাট-বুড়িমারী স্থলবন্দর মহাসড়কের হাতীবান্ধা উপজেলার সিঙ্গিমারী ইউনিয়নের শস্যগুদাম নামক স্থানে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে ট্রাকচাপায় নিহত হন মোটরসাইকেলচালক খায়রুল ইসলাম। তিনি পাটগ্রাম উপজেলার জোংড়া ইউনিয়নের মোমিনপুর গ্রামের বাসিন্দা। খায়রুল ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালাতেন।

চট্টগ্রাম : পটিয়া উপজেলার গৈড়লারটেক এলাকায় শুক্রবার সকালে বাসের সঙ্গে সিএনজি অটোরিকশার সংঘর্ষে রণজিৎ বড়ুয়া নামে এক ব্যক্তি নিহত হন। তিনি রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কুলকুরমাই গ্রামের মৃত জতিন্দ্র লাল বড়ুয়ার ছেলে।

advertisement