advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

জাবিতে আন্দোলন চলছে
জাবি ভিসির দুর্নীতির প্রমাণ দিলেন চার শিক্ষক

জাবি প্রতিনিধি
৯ নভেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ৯ নভেম্বর ২০১৯ ০১:৫৪
advertisement

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ভিসি অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের দুর্নীতির তথ্যপ্রমাণ শিক্ষামন্ত্রী বরাবর জমা দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির চার শিক্ষক। গতকাল শুক্রবার রাতে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির একান্ত সচিব ড. আলিম খানের কাছে দুর্নীতির নথি জমা দেন জাবির অধ্যাপক তারেক রেজা, খন্দকার হাসান মাহমুদসহ চার শিক্ষক।
বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপত খবির উদ্দিন আমাদের সময়কে এ বিষয়ে জানান, ছয় পাতার অভিযোগপত্র এবং প্রায় ৭০ পাতার নথি সংযুক্ত করে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বরাবর পাঠানো হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির একান্ত সচিব ড. আলিম খানের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি তথ্যটি আমাদের সময়কে নিশ্চিত করেন।
এদিকে জাবি ভিসি অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের পদত্যাগ দাবিতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। গতকাল শুক্রবার ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’-এর ব্যানারে আন্দোলনকারীরা দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের
পুরনো প্রশাসনিক ভবনের সামনে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী প্রতিবাদী ব্যঙ্গচিত্র অঙ্কন করেন।
এদিকে আন্দোলনের সংগঠক অধ্যাপক জামাল উদ্দিন রুনু জানিয়েছেন, ভিসির বিরুদ্ধে দুর্নীতির তথ্যপ্রমাণ লিখিতভাবে হাজির করবেন তারা। তিনি বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসিকে উপাচার্যের দুর্নীতির তথ্য-উপাত্ত আজ (শুক্রবার) রাতেই দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, আমরা সকাল থেকেই অবস্থান কর্মসূচি পালন করছি। পাশাপাশি চিত্রাঙ্কন চলছে। দুর্নীতিবাজ ভিসি অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।
গতকাল দুপুর থেকে পুরনো প্রশাসনিক ভবনের সামনের রাস্তায় দুর্নীতিবিরোধী পটচিত্র অঙ্কন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এতে নানা স্লোগান ও ব্যঙ্গচিত্রের মাধ্যমে ভিসির বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরা হয়। ব্যঙ্গচিত্র অঙ্কনে অংশ নেওয়া শিল্পীরা জানান, চিত্রাঙ্কন হলো তাদের প্রতিবাদের একটি ভাষা। যা মুখে এতদিন বলে আসছিলেন তা রঙ ও তুলির মাধ্যমে প্রকাশ করছেন তারা। পটচিত্র অঙ্কনকারীদের একজন জাবির চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী শান্ত জানান, রঙের মধ্য দিয়ে ফুটে উঠছে আমাদের অব্যক্ত কথাগুলো। আমাদের চলমান আন্দোলনের ঘটনাগুলো চিত্রের মাধ্যমে প্রকাশ পাচ্ছে। এটা অনাচার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে একটি শৈল্পিক প্রতিবাদ।
আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক শিক্ষার্থী রাকিবুল রনি বলেন, হামলা-মামলা ও হুমকি অগ্রাহ্য করে নৈতিক স্খলন ও দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত উপাচার্যকে অপসারণ এবং দুর্নীতিতে জড়িত সবার রাষ্ট্রীয় আইনে বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এ আন্দোলন চলবে।
গত মঙ্গলবার উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম জরুরি সিন্ডিকেট ডেকে হল ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেন। ক্যাম্পাসে সব ধরনের সভা-সমাবেশও নিষিদ্ধ করা হয়। এর আগে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা ভেঙেই আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
বঙ্গমাতা হলের সামনে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণার তৃতীয় দিন গতকাল রাতে হল খুলে দেওয়ার দাবিতে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। রাত ৮টার দিকে হলের সামনে অবস্থান নেন তারা। এ সময় ‘অবৈধ হল ভ্যাকেন্ট, মানি না মানব না’, ‘মেয়েরা রাস্তায় কেন প্রশাসন জবাব চাই’ বলে স্লোগান দেন।
এ সময় বাংলা বিভাগের অধ্যাপক শামীমা সুলতানা বলেন, আজ যদি হল খোলা থাকত, তাহলে উপাচার্য বুঝতেন গণঅভ্যুত্থান কাকে বলে। হল বন্ধের এই হঠকারী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে উপাচার্য শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করেছেন। তাই উপাচার্যকে এ রকম হঠকারী সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানাই।
এর আগে নতুন কলা ভবনের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে তারা। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বঙ্গমাতা হলের সামনে এসে শেষ হয়।
ভিসির অপসারণ ও বিচার চেয়ে ৩৬ শিক্ষকের বিবৃতি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ এবং দুর্নীতি ও সহিংসতার ঘটনায় ভিসি ফারজানা ইসলামের অপসারণ ও বিচার দাবি করেছেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৬ শিক্ষক। গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃৃতিতে তারা এ দাবি জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি একনেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৪৪৫ কোটি টাকার উন্নয়ন মহাপরিকল্পনা অনুমোদন করা হয়। আমরা অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করেছি যে, পরিকল্পনায় অনেক গলদ ও অস্বচ্ছতা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উন্নয়ন কর্মকা- শুরু করতে যাচ্ছিল। প্রথম থেকেই শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একটি অংশ সেই পরিকল্পনার নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে শঙ্কা জানিয়ে আসছিল; কিন্তু ভিসি ও তার প্রশাসন তড়িঘড়ি প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চালিয়ে ৫০০ গাছ কেটে ফেলে। যেখানে এ ধরনের বড় পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ই-টেন্ডার আহ্বান করার নির্দেশনা আছে, সেখানে অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে এবং শিডিউল ছিনতাইয়ের ঘটনাকে পাশ কাটিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে একটি জাতীয় দৈনিকে ছাত্রলীগের কর্মীদের ফোনালাপ ফাঁস হলে জানা যায়, ঈদের আগে কথিত এক কোটি ৬০ লাখ টাকা ভিসি অবৈধভাবে ছাত্রলীগ নেতাদের দিয়েছেন। সঙ্গত কারণেই আন্দোলনকারীরা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকল্পের টাকা নিয়ে দুর্নীতির বিষয়টি খোলাসা করার দাবি তোলেন। অথচ এ দুর্নীতির বিষয়ে ভিসি অথবা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো তদন্তের উদ্যোগ দেখা যায়নি। বরং ধর্মঘটকালে সহকারী প্রক্টরের ওপর হামলার মিথ্যা অভিযোগে প্রশাসন অজ্ঞাতনামা ৫০ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা করে। আমরা মনে করি, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম ভিসি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় ব্যর্থ হয়েছেন। শিক্ষার্থীদের শিক্ষার পরিবেশ এবং নিরাপত্তা দেওয়ার মতো যোগ্যতাও হারিয়েছেন তিনি। এ অবস্থায় আমাদের দাবিÑ দুর্নীতিগ্রস্ত ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর সহিংসতার মদদদাতা এমন ভিসিকে পদচ্যুত করে তার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতি ও অনিয়মের সুষ্ঠু বিচার করা হোক। দ্বিতীয়ত, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ওপর হামলাকারীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার এবং আইনের আওতায় নেওয়া হোক; তৃতীয়ত, একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে জাবির দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্ত করা হোক।
বিবৃতিতে সই করা শিক্ষকরা হলেনÑ ফাহমিদুল হক, নাসির আহমেদ, কামরুল হাসান, আরিফুজ্জামান রাজীব, মামুন অর রশিদ, সামিনা লুৎফা, কাজী মামুন হায়দার, কাজলী সেহরীন ইসলাম, শেহরীন আতাউর খান, কামাল চৌধুরী, রুশাদ ফরিদী, সুবর্ণা মজুমদার, সৌম্য সরকার, অভিনু কিবরিয়া ইসলাম, অর্পিতা শামস মিজান, সৌভিক রেজা, খাদিজা মিতু, মজিবুর রহমান, কাজী মারুফুল ইসলাম, মার্জিয়া রহমান, সাঈদ হাসিবুল হাসান চৌধুরী, কাজী ফরিদ, সাদাফ নূর, মাইদুল ইসলাম, আল মামুন, মোশাহিদা সুলতানা, আর রাজী, বখতিয়ার আহমেদ, আবদুল্লাহ বাকী, সিউতি সবুর, কাজী অর্ক রহমান, তাহমিনা খানম, কাবেরী গায়েন, রোবায়েত ফেরদৌস, তানজীমউদ্দিন খান ও গীতি আরা নাসরীন।

advertisement
Evall
advertisement