advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সাদা খাতাই জমা দিতে হলো সুদীপকে

নিজস্ব প্রতিবেদক
৯ নভেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ৯ নভেম্বর ২০১৯ ০০:১২
advertisement

বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন (বিজেএস) পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী সুদীপ দাস। তবে কোনো প্রশ্নের উত্তর লিখতে পারেননি। শুধু হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর আর পরীক্ষার ওএমআর সিটে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করে পুরো এক ঘণ্টা হলেই বসে ছিলেন। গতকাল শুক্রবার বেলা সাড়ে ৩টায় শুরু হয় জুডিশিয়াল পরীক্ষা। আধা ঘণ্টা আগেই রাজধানীর খিলক্ষেত থেকে চাচাতো ভাইয়ের সঙ্গে সিদ্ধেশ্বরী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে হাজির হন সুদীপ। গেটের কাছে আসতেই তাকে ঘিরে ধরে কৌতূহলী পরীক্ষার্থীরা। এ সময় তার সঙ্গে সেলফি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন অনেকেই। এর পর এক পরীক্ষার্থীর সহায়তায় তিনি হলে প্রবেশ করেন।

হার না মানা সুদীপ দাস বলেন, ‘পরীক্ষা হলে শিক্ষক ও এক পরীক্ষার্থীর সহায়তায় ওএমআর সিট ও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে পেরেছি কেবল। হল শিক্ষক খুবই আন্তরিক ও অমায়িক ছিলেন। তবে পরীক্ষায় অংশ নিতে পেরে আনন্দিত হলেও পুরো একটা ঘণ্টা মনোকষ্টে কাটিয়েছি। উত্তর জানা সত্ত্বে¡ও শুধু দৃষ্টিহীনতার কারণে লিখতে পারিনি। কিছু সময় নিজেকে অনেক ছোট মনে হয়েছে। পরক্ষণেই আবার মনে হয়Ñ আমার এ লড়াই তো শুধু আমার জন্য নয়, এ লড়াই আমার অনুজদের জন্যও।’ তিনি বলেন, ‘আমি হয়তো কখনো বিচারক হতে পারব না। তবে বিশ্বাস করি, আমার অনুজরা একদিন শ্রুতিলেখকের মাধ্যমে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার অনুমতি পাবেন। তারা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ঠিকই বিচারক

হবেন।’

শ্রুতিলেখকদের সহায়তায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন সুদীপ দাস। এর পর ২০১৭ সালে ১১তম সহকারী জজ নিয়োগ পরীক্ষায় আবেদন করেন। অংশ নেওয়ার জন্য প্রবেশপত্রও পান। কিন্তু দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হওয়ায় পরীক্ষা দিতে পারেননি। থেমে যাননি সুদীপ। ১২তম সহকারী জজ নিয়োগ পরীক্ষায় বসতে আবার আবেদন করেন। যথাসময়ে প্রবেশপত্রও পান। সেবার তিনি বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনে (বিজেএস) একজন শ্রুতিলেখকের জন্য আবেদন করেন। কিন্তু মৌখিকভাবে তার সে আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়। তবু পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জানান নীরব প্রতিবাদ।

গতকাল শুক্রবার ছিল ১৩তম বিজেএস পরীক্ষা। এর জন্যও সুদীপ শ্রুতিলেখকের আবেদন করে প্রত্যাখ্যাত হন। তাই ১৩তম বিজিএসসহ (নৈর্ব্যক্তিক ও লিখিত) সব ধরনের পরীক্ষায় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য শ্রুতিলেখক চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছিলেন। তবে গত বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট সে আবেদন কার্যতালিকা থেকে বাদ দেন।

advertisement