advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ট্রাম্পের অভিশংসন ও মার্কিন ইতিহাস

যুবা রহমান
৯ নভেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ৯ নভেম্বর ২০১৯ ০০:১২
advertisement

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৬ সালে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে বিতর্ক তার পিছু ছাড়েনি। একের পর এক কর্মকর্তা হোয়াইট হাউস থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। আগামী বছর তার মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। তাই সামনের বছর নির্বাচন নিয়ে ইতোমধ্যে তোড়জোড় শুরু হয়েছে। ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা নিজেদের মতো প্রচারে নেমেছেন। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সামাল দিতে হচ্ছে অভিশংসনের তোপ।

কী করেছেন ট্রাম্প? চলতি বছর ২৫ জুলাই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ট্রাম্প। ওই আলাপে যুক্তরাষ্ট্রে আগামী বছর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে শক্তিশালী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনের বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য চাপ দেন ট্রাম্প। বাইডেনের ছেলে হান্টার বাইডেনের পুরনো ব্যবসার জের ধরে যেন এই তদন্ত করা হয় সেটিও বলেন ট্রাম্প। আর তার বিনিময়ে ইউক্রেনকে মার্কিন আর্থিক সহায়তা তহবিল দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন ট্রাম্প। এই দুজনের আলাপচারিতার তথ্য ফাঁস করে দেন মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) এক অজ্ঞাত কর্মকর্তা। নিজের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য অর্থের বিনিময়ে এ ধরনের সুবিধা নেওয়া এবং অন্য দেশকে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের আহ্বান ঘোরতর অন্যায়। এটি প্রমাণ হলে প্রেসিডেন্ট তার পদ পর্যন্ত হারাতে পারেন। আর মার্কিন কংগ্রেসে নিম্নকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ ডেমোক্র্যাটরা এটিকে ইস্যু করে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ইতোমধ্যে তদন্ত ও সাক্ষ্যগ্রহণও শুরু হয়েছে।

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসনের আয়োজন নতুন কিছু না। ২০১৭ সালে তার বিরুদ্ধে অভিশংসনের জন্য প্রায় আট লাখ স্বাক্ষর সংগ্রহ করা

হয়েছিল। এর পর ট্রাম্পের সাবেক আইনজীবী মাইকেল কোহেন ট্রাম্পের বিরুদ্ধে গেলে তখনো অভিশংসনের খবর সংবাদপত্রে আসে। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কোহেনের অভিযোগ ছিলÑ নির্বাচনে অর্থ খরচ করার বিষয়ে যেসব আইন আছে ট্রাম্প তা ভঙ্গ করেছেন। যদিও ট্রাম্প বলেছিলেন, কোহেন এখন বসে বসে ‘গল্প’ বানাচ্ছে। তবে মার্কিন ইতিহাস বলছে, সে দেশের প্রেসিডেন্টকে অভিশংসন বা পদচ্যুত করার ঘটনা বিরল। তবে অভিংশসন শুধু পদচ্যুত করার ব্যাপারই না, প্রেসিডেন্টকে ‘বাগে’ আনারও প্রক্রিয়া।

মার্কিন কংগ্রেস যেখানে আইন তৈরি করা হয়, তারা চাইলে দেশটির প্রেসিডেন্টসহ দেশটির শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের বিচারের মুখোমুখি করতে পারে। মার্কিন সংবিধানে বলা আছেÑ বেশ কিছু অপরাধের জন্য প্রেসিডেন্টকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া যেতে পারে। আর অভিশংসনের প্রক্রিয়া শুরু হতে হবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ বা হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভস থেকে। এটি মার্কিন কংগ্রেসের একটি অংশ। এই প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য এটি সেখানে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পাস হতে হবে। বর্তমানে হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভস নিয়ন্ত্রণ করছে ডেমোক্র্যাটরা। এখানে পাস হলে পরের ধাপে বিচার অনুষ্ঠিত হবে সিনেটে, যা কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ। তবে এই উচ্চকক্ষে বর্তমানে রিপাবলিকানরা সংখ্যায় বেশি। প্রেসিডেন্টকে তার পদ থেকে সরিয়ে দিতে হলে সিনেটে দুই-তৃতীয়াংশ সিনেটরকে অভিশংসনের পক্ষে ভোট দিতে হবে।

ট্রাম্পের আগে অভিশংসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বিল ক্লিনটনের বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে প্রতিনিধি পরিষদে অভিশংসনের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। কিন্তু মার্কিন সিনেট তাকে দোষী সাব্যস্ত করেনি। এ ছাড়া ১৮৬৮ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট এন্ড্রু জনসনের বিরুদ্ধে অভিশংসনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। তাকেও পদ ছাড়তে হয়নি। সব মিলিয়ে মার্কিন ইতিহাসে এখন পর্যন্ত কোনো প্রেসিডেন্টকে অভিশংসনের কারণে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়নি। তবে ১৯৭৪ সালে রিচার্ড নিক্সনকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার উপক্রম হলে অভিংশসন প্রক্রিয়ার আগেই তিনি পদত্যাগ করেন।

মার্কিন ইতিহাস বলছে, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসনের যতই তোড়জোড় শোনা যাক, আক্ষরিকভাবে তা কার্যকর হওয়ার বাস্তব কোনো পরিস্থিতি নেই। কেননা সিনেটে এখনো রিপাবলিকানরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। কিন্তু আগামী বছর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এ ধরনের প্রচার নিশ্চয়ই তার জন্য স্বস্তির বিষয় না। এ ছাড়া অভিশংসনের ‘আওয়াজ’ দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হওয়ার স্বপ্ন ভঙ্গ করে দিতে পারে।

advertisement