advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বিজ্ঞান আর কার্টুনে শিশুদের দিন

চপল মাহমুদ
৯ নভেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ৯ নভেম্বর ২০১৯ ০০:১২
advertisement

দেশি-বিদেশি কবি-সাহিত্যিক, নাট্যকার, অনুবাদক, সাংবাদিকদের পদচারণায় জমে উঠেছে ঢাকা লিট ফেস্টের নবম আসর। সাহিত্যিকদের এ মিলনমেলায় গতকাল শুক্রবার সকাল ৯টায় বাংলা একাডেমির বর্ধমান হাউসের সামনে লন চত্বরে তেজগাঁও সম্মিলিত খ্রিস্টান দলের সংগীতশিল্পীদের আধ্যাত্মিক সুরের পরিবেশনার মধ্যদিয়ে শুরু হয় উৎসবের দ্বিতীয় আয়োজন। ছুটির দিন হওয়ায় সকাল থেকেই সাহিত্যপ্রেমীদের জমজমাট উপস্থিতি ছিল উৎসব প্রাঙ্গণে। কসমিক টেন্ট ও নজরুল মঞ্চজুড়ে ছিল শিশুদের উপস্থিতি। বিজ্ঞানের মজার মজার খেলা আর বিভিন্ন কার্টুন চরিত্র নিয়ে তারা অন্যরকম একটি দিন কাটায়।

উৎসব উপলক্ষে বাংলা একাডেমির প্রাঙ্গণে স্থাপিত প্যাভিলিয়নগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে দেশি-বিদেশি লেখকদের বই। স্টল সাজিয়ে বসেছে- ইউপিএল, ডেইলি স্টার বুকস, ফেস্টিভ্যাল বুকশপ, হার স্টোরি, ওয়ার্ল্ড অব চিল্ড্রেন বুকস, গুবা পাবলিশার্স, জামিস’স কমিকস অ্যান্ড কালেক্টিবেলিস, জার্নিম্যান, অনন্যা, পাঞ্জেরী, অবসর, আগামীসহ আরও কিছু প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। উৎসবে অংশ নেওয়া সাহিত্যিকদের বইগুলোও বিশেষভাবে প্রদর্শন করছেন আয়োজকরা। সকাল থেকেই এসব প্যাভিলিয়নে দেখা যায় বইপ্রেমীদের আনাগোনা। কেউ কেউ আবার দেশি-বিদেশি প্রিয় লেখকের বই কিনে তাতে লেখকের অটোগ্রাফ ও সেলফি নিচ্ছে। উৎসব উপলক্ষে বইয়ের বিক্রি ভালো হচ্ছে বলে জানান প্রকাশনা সংস্থাগুলো। বিক্রির শীর্ষে রয়েছে হুমায়ূন আহমেদ-এর বই। এছাড়া অন্য লেখকদের বইও কম বেশি বিক্রি হচ্ছে। এবারের ‘ঢাকা লিট ফেস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শতবর্ষ উপলক্ষে উৎসর্গ করা হয়েছে। এছাড়াও উৎসব প্রাঙ্গণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে বসানো হয়েছে বিশেষ কর্নার। সেখানে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ইংরেজি ভাষায় লেখা বিশিষ্টজনদের বই স্থান পেয়েছে। দ্বিতীয় দিনের উৎসবে অন্যতম আর্কষণ ছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘হাসিনা : অ্যা ডটারস টেল’-এর বিশেষ প্রদর্শনী। প্রদর্শন শেষে চলচ্চিত্র নির্মাতা পিপলু খান উপস্থাপন করেন চলচ্চিত্রটির নির্মাণে অভিজ্ঞতা।

ঢাকা লিট ফেস্টের দ্বিতীয় দিন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রায় ৩০টি সেশন হয়েছে। সকালে বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান হলে ‘ইনইকুয়ালিটি : অল দ্য রেজ’ শীর্ষক সেশনে অংশ নেন ব্রাজিলের লেখক ও চিকিৎসক মারিয়া ফিলোমেনা। এই দিন সকাল শিশুদের নিয়ে ছিল ‘ফান উইথ ফিজিকস’ শীর্ষক সেশন। এতে কসমিক টেন্ট ও নজরুল মঞ্চজুড়ে ছিল শিশুদের উপস্থিতি।

কসমিক টেন্টে বিজ্ঞান বাক্সের রাতুল খানের সঙ্গে তারা মেতে ওঠে বিজ্ঞান নিয়ে মজার সব খেলায়। এ সেশনে অংশ নেয় ব্রিটিশ চিত্রকর, অ্যানিমেটর ও লেখক ক্রুটিস জবলিং। নজরুল মঞ্চে ‘চিলড্রেনস ওয়ার্ল্ডস ফ্যান্টাসি’ শীর্ষক আয়োজন ছিল ৬ থেকে ১০ বছর বয়সীদের জন্য। জবলিংয়ের সৃষ্ট বিভিন্ন চরিত্রের গল্প যেমন বিখ্যাত ‘ওয়ারওয়ার্লাড’ ও ‘ম্যাক্স হেলসিং, মনোসটার হান্টার’ সিরিজ নিয়ে এ সময় শিশুদের সঙ্গে কথা বলেন জবলিং। সকালে কসমিক টেন্টে ‘হিরোজ কামস ফ্রম এভরিহোয়্যার’ শীর্ষক রোমাঞ্চকর আলোচনায় রুমানা হাবিবের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রিয় বাংলা কমিক কার্টুনিস্ট ও কমিক লেখক রাঙামাটির সব্যসাচী চাকমা। আরও ছিলেন অ্যানিমেশন ডিজাইনার সামির আসরান রহমান। সেশনটিতে জনপ্রিয় কিছু কমিক চরিত্র নিয়ে আলোচনা হয়।

‘শেখ মুজিব : আইকন অব পোস্ট-কলোনিয়াল লিবারেশন’ শীর্ষক আলোচনায় ছিলেন বিশিষ্ট গবেষক, কলাম লেখক ও সাংবাদিক আফসান চৌধুরী। এতে আরও অংশ নেন ভারতীয় কংগ্রেস নেতা শশী থারুর এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ড. কামাল চৌধুরী। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অধ্যাপক সামসাদ মর্তুজা। এর পর দুপুরে একাডেমির আব্দুল করিম সাহিত্যবিশারদ অডিটোরিয়ামে ‘ইন দ্য টাইম অব দ্য আদারস’ শিরোনামের সেশনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান লেখক নাদিম জামান। সঞ্চালক রিফাত মুনিম ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখার ক্ষেত্রে তার ভাবনা জানতে চান। ‘ইন দ্য টাইম অব দ্য আদারস’ নিয়ে নাদিম জামান বলেন, ‘একটি সত্য ঘটনায় প্রচুর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ চরিত্র থাকে। তাদের প্রত্যেকের আবার থাকে আলাদা আলাদা গল্প। আলাদা অক্ষ থাকে। এগুলোকে সুন্দরভাবে সাজানো গেলেই সব গল্প মিলে একটি উপন্যাসে রূপ নেয়।’

বাংলা একাডেমির লনে ‘নো ওয়ার্ল্ড ফর উইমেন’ সেশনে প্যানেলিস্ট হিসেবে ছিলেন ভারতীয় পুরস্কারজয়ী লেখিকা ও সাংবাদিক প্রিয়াঙ্কা দুবে; জাতিসংঘ বাংলাদেশের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মিয়া সেপ্পো; নারীবাদী লেখক, মানবাধিকারকর্মী, উন্নয়নকর্মী ও নারীপক্ষের সদস্য মাহীন সুলতান। এটির সঞ্চালক ছিলেন সমাজকর্মী তাশফি হোসেইন। প্রিয়াঙ্কা দুবে তার বই ‘নো নেশনস ফর উইমেন’-এর মধ্যে অনুসন্ধানের মাধ্যমে ভারতে ঘটে যাওয়া নারীদের প্রতি যৌন নির্যাতন, সহিংসতা ও অত্যাচারের চিত্র উপস্থাপন করেছেন। ‘পিইএন : লেখকদের দাঁড়াবার জায়গা’ শীর্ষক সেশনে অংশ নেন আহমাদ মোস্তফা কামাল। সঙ্গে ছিলেন জেমকন সাহিত্য পুরস্কারপ্রাপ্ত তরুণ লেখক মুম রহমান এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও লেখক আহমেদ রেজা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ‘পিইএন’ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন। আহমাদ মোস্তফা কামাল বলেন, ‘মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা লেখকের কাজ নয়।’

বিকালে একাডেমির কবি শামসুর রাহমান মিলনায়তনে ছিল কায়সার হকের সঞ্চালনায় ‘গানপাউডার’ শীর্ষক অনুষ্ঠান। এতে ছিলেন মনোরঞ্জন ব্যাপারীর লেখা ‘বাতাসে বারুদের গন্ধ’ গ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদক অরুণাভ সিনহা। বাংলা একাডমির আব্দুল করিম সাহিত্যবিশারদ অডিটোরিয়ামে ইতিহাসবিদ উইলিয়াম ড্যালরিম্পল তার লেখা নতুন বই ‘দ্য অ্যানারকি : দ্য রিলেন্টলেস রাইজ অব দ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি’ নিয়ে আলোচনা করেন। একই মিলনায়তনে ‘স্টেট অব স্টেটলেসনেস’ শীর্ষক সেশনে গর্গ চট্টোপাধ্যায়ের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর এবং রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটিং মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের চেয়ারপারসন তাসনিম সিদ্দিকী, ভারতীয় লেখক সম্রাট চৌধুরী এবং আমেরিকান সাংবাদিক জেফ্রি গেটেলম্যান। ‘সমাজ ও সত্তা : দ্বান্দ্বিক বিরোধ’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নেন কথাসাহ্যিতিক হরিশংকর জলদাস, শাহীন আক্তার, আনিসুল হক এবং মাসরুর আরেফিন।

বিকালে বাংলা একাডেমির লনে অনুষ্ঠিত হয় কবিতা আবৃত্তি পরিবেশনা। এতে অংশ নেন কবি কামাল চৌধুরী, কবি ও লেখক কাইসার হক, ভারতীয় কবি তিশানি দিশা এবং পাকিস্তানি কবি মোটিভেশনাল স্পিকার ও হিপহপ আর্টিস্ট জোহাব জি খান। কবি শামসুর রাহমান মিলনায়তনে ‘আলতু ফালতু : বাংলা স্ট্রিট সø্যাং, অ্যা নিউ এস্থেটিক?’ শিরোনামে লেখক ও প্রচ্ছদশিল্পী শিবু কুমার শীলের সঞ্চালনায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের চলচ্চিত্র পরিচালক কৌশিক মুখার্জি ওরফে ‘কিউ’। বিকালে ‘সায়েন্স : ট্রুথ ইন দ্য এজ অব মেক বিলিভ’ শীর্ষক সেশনের আলাপ শুরু করেন সঞ্চালক গর্গ চট্টোপাধ্যায়। কসমিক টেন্টে এ সেশনে অংশ নেন গণিতবিদ পিয়ার্স বুরসিল-হল, বায়োকেমিস্ট প্রণয় লাল ও আবহাওয়াবিজ্ঞানী সামিয়া সেলিম। এ ছাড়াও আরও করেকটি সেশন অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় দিনের আয়োজনে। আজ পর্দা নামবে তিন দিনব্যাপী ঢাকা লিট ফেস্টের নবম আসরের। সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত উৎসব সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

advertisement