advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

অবৈধপথে আসা ফুজির এক্সরে ফিল্মে সয়লাব বাজার

জনি রায়হান
৯ নভেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ৯ নভেম্বর ২০১৯ ০২:০৮
ফুজির ডিজিটাল এক্সরে ফিল্ম। ছবি : সংগৃহীত
advertisement

অবৈধভাবে আসা ফুজির এক্সরে ফিল্মে বাজার সয়লাব হয়ে গেছে। বাংলাদেশে ফুজি ফিল্মের একমাত্র আমদানিকারক এজেন্ট ও পরিবেশক হচ্ছে জিএমই গ্রুপের ‘গ্রাফিক মেশিনারিজ অ্যান্ড ইকুইপমেন্ট লিমিটেড’। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি ছাড়া এক্সরে ফুজি ফিল্ম কেউ আমদানি করতে পারে না; কিন্তু কিছু অসাধু ব্যবসায়ী তথ্য গোপন করে ভিন্ন নামে এসব ফিল্ম আমদানি ও বাজারজাত করছে। বিভিন্ন দেশ থেকে সংগৃহীত এসব ফিল্মের মান নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া অবৈধ পথেও নিয়ে আসা হচ্ছে পণ্যটি।

২০১৭ সালের ৪ এপ্রিল হাইকোর্টে একটি রিট দাখিল করা হয়। সেই রিটের শুনানি শেষে ‘গ্রাফিক মেশিনারিজ অ্যান্ড ইকুইপমেন্ট লিমিটেড’ ও তাদের অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান ব্যতীত ফুজি ফিল্মের এক্সরেসহ যে কোনো পণ্য আমদানি বা বাজারজাত ও বিক্রি করতে পারবে না বলে আদালত নিষেধাজ্ঞা দেন। চলতি বছরের ২৭ আগস্ট নিষেধাজ্ঞাটি ছয় মাসের জন্য বাড়ানো হয়। আদালতের নির্দেশনা কেউ অমান্য করলে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ওই আদেশে থাকলেও প্রকাশ্যেই অনেক অসাধু ব্যবসায়ী তাদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। বাধ্য হয়ে ব্যবস্থা নিতে গত ২৮ অক্টোবর শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে খোঁজ নিতে বিএমএ ভবনসহ দেশের বেশ কয়েক বিক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এসব ফিল্ম বিক্রির কথা স্বীকার করে দোকানদার ও বিক্রেতা পরস্পরকে দোষারোপ করছেন। কিন্তু কেউই স্পষ্ট করে কারও নাম বলছেন না।

এক দোকানী বলেন, ‘আমি তিনজনের কাছ থেকে ফুজি ফিল্ম কিনে বিক্রি করি। বিদেশ থেকে আনার মতো এত টাকা আমার নেই। আরেক সার্জিক্যাল সামগ্রী ব্যবস্যায়ী বলেন, আমাদের বাইরের একজন দিয়ে যায়। আমরা একটু লাভের জন্য বিক্রি করি; কিন্তু তারা কীভাবে দেশে নিয়ে আসেন সেটি আমরা জানি না। নোয়াখালীর মুহিন নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, এসব ফিল্ম বিএমএ ভবন থেকে নিয়ে আসি। অবৈধ নাকি তা জানি না।

‘গ্রাফিক মেশিনারিজ অ্যান্ড ইতুইপমেন্ট লিমিটেড’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক আহেমদ আমাদের সময়কে বলেন, ‘অবৈধভাবে আনা এসব এক্সরে ফিল্মের কারণে যে শুধু আমরাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি এমন নয়, এতে সরকারও বিপুল অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ঘোষণা ছাড়াই এসব পণ্য আনছেন। অনেক ক্ষেত্রে তারা ক্রয়মূল্য কম দেখিয়েও সরকারি ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে পণ্য আনছেন।’ তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট দেশের আবহাওয়া ও তাপমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এসব ফিল্ম তৈরি করা হয়। এক দেশের সংরক্ষণনীতির সঙ্গে অন্য দেশের মেলে না। ফলে এক দেশের জন্য তৈরি করা ফিল্ম অন্য দেশের জন্য ব্যবহার উপযোগী নয়।

জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সিনিয়র মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট মো. সেলিম বলেন, মানের দিক থেকে ফুজির ফিল্ম সব থেকে ভালো। বেশিরভাগ হাসপাতালেই ফুজির মেশিন ও ফিল্ম দিয়ে কাজ করানো হয়। ফুজির ফিল্ম কোনটি বৈধপথে আসা বা কোনটি অবৈধ পথে আসা সে সম্পর্কে আমাদের স্পষ্ট কোনো ধারণা নেই।’

শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মতিউর রহমান জানান, বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের জনসংযোগ কর্মকর্তা সৈয়দ এ মুমেন বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

advertisement