advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

পানি ও বায়ুদূষণ রোধে ব্যবস্থা নিতে হবে

৯ নভেম্বর ২০১৯ ০০:০০
আপডেট: ৯ নভেম্বর ২০১৯ ০০:১৪
advertisement

বাংলাদেশে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের যেন মহাযজ্ঞ শুরু হচ্ছে। এযাবৎ দিনাজপুর জেলার বড়পুকুরিয়াতে দেশের একমাত্র কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। এটি ৫৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে থাকে। বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে, এর আশপাশের এলাকায় পানিতে সিসার পরিমাণ আর বাতাসে মাইক্রো পার্টিকলের উপস্থিতি স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি। এর পাশাপাশি বাংলাদেশ আরও নতুন ২৯টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাস্তবায়নের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক দুটি প্রতিষ্ঠান জরিপ চালিয়ে দেখেছে, বাংলাদেশে পানি ও বায়ুদূষণ বাড়ছে এবং তা মাত্রাছাড়া পর্যায়ে রয়েছে। এভাবে চললে ঢাকা প্রতিবেশী রাজধানী দিল্লির চেয়েও বেশি দূষিত নগরে পরিণত হবে। এই বিপর্যয় শ্বাসতন্ত্রের রোগ বাড়াবে এবং ফুসফুস ও কিডনির নানাবিধ রোগ ছড়াবে, যার মধ্যে মরণঘাতী ক্যানসার হবে অন্যতম।

দেশের অভ্যন্তরে যেসব প্রতিষ্ঠান পরিবেশ ও সুশাসন নিয়ে কাজ করে তারাও নতুন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। আমরা অবাক হই যে, বাংলাদেশের রয়েছে বিস্তৃত সমুদ্র, বছরব্যাপী বৃষ্টিপাত এবং ঝলমলে সূর্যালোক তার কেন পরিবেশ দূষণ ঘটবে এভাবে? কেবল জনসংখ্যাকে দোষারোপ করে লাভ নেই। আমাদের নজর দিতে হবে ভবিষ্যতের দিকে। ভবিষ্যতে দেশে মানুষ আরও বাড়বে, হয়তো বিদেশে কর্মসংস্থান ও অভিবাসনের সুযোগ হ্রাস পাবে, বেকার সমস্যা বাড়তে পারে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে স্থানীয়ভাবে ভূমিচ্যুত মানুষের সংখ্যা বাড়বে, এমনকি বসবাসের যোগ্য জমির পরিমাণ কমবে। বাংলাদেশ ভবিষ্যতের সেই বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত আছে কি? আমরা তো বর্তমান সংকটকে উপলব্ধি করে ব্যবস্থা নিচ্ছি না। বরং উন্নত বিশ্ব যে ভুলগুলো দু’শ বছর আগে করেছে তা অনুসরণ করে চলেছি। আবহাওয়াবিদরা বলেছেন, এভাবে চললে বাংলাদেশ এক সময় কার্বন বোমায় পরিণত হবে। ইটভাটা, ক্রমবর্ধমান গাড়ির চাপ, কলকারখানার বিষাক্ত ধোঁয়া মিলিয়ে এই পরিণতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবনা নিশ্চয় রয়েছে সবার মধ্যে। কিন্তু অগ্রাধিকার এবং গুরুত্ব নির্ণয়ে যেন ভুল না হয়। আজকের দিনে জলবায়ু পরিবর্তন এবং তার সঙ্গে সম্পৃক্ত পানি ও বায়ুদূষণের বিষয়টি নীতিনির্ধারক ও পরিকল্পনাবিদদের মনে রাখতে হবে। আমরা মনে করি ক্রমবর্ধমান নগরায়ণের চাহিদা পূরণে ঐতিহ্যবাহী ইটভাটা থেকে সরে এসে নতুন পদ্ধতিতে মেশিনে তৈরি ইটের দিকে যেতে হবে। তাতে গাছও বাঁচবে, দূষণও কমবে। সেই সঙ্গে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের চিন্তা থেকে সরে আসতে হবে। আমরা বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করতে পারছি। ভবিষ্যতের চাহিদা পূরণে আমরা ভুটান, নেপাল বা ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সঙ্গে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারি। দেশকে দূষণমুক্ত রাখা এবং জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি কমানো আমাদের প্রধান একটি কাজ।

advertisement