advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সুস্থ ধারার রাজনীতির ক্ষতি হলো

৯ নভেম্বর ২০১৯ ০০:০০
আপডেট: ৯ নভেম্বর ২০১৯ ০০:১৪
advertisement

দুজন রাজনীতিবিদের মৃত্যু সাধারণ মানুষকেও স্পর্শ করেছে। সাদেক হোসেন খোকা কেবল বিএনপির একজন নেতা ছিলেন না, তিনি ক্রীড়াঙ্গনের সংগঠক ছিলেন, তিনবার নির্বাচন করে বিজয়ী হয়েছেন, এমনকি আওয়ামী লীগপ্রধান শেখ হাসিনাকেও হারিয়ে ছিলেন, দুবার মন্ত্রী ছিলেন, তবে তাকে মানুষ বিশেষভাবে মনে রেখেছে একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং ঢাকা মহানগরীর অবিভক্ত করপোরেশনের মেয়র হিসেবে। তিনি বিএনপির রাজনৈতিক কর্মকা-ে নিয়মিত অংশগ্রহণ করলেও নাগরিক সমাজের সর্বস্তরে যোগাযোগও রাখতেন। তা ছাড়া একজন সক্রিয় মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তিনি নিজের সেই ভূমিকার মর্যাদাও রক্ষা করতেন। বিএনপির রাজনীতিতে সাদেক হোসেন খোকার মতো নেতাদের নীতিনির্ধারণে ও দল পরিচালনায় আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখা সম্ভব হলে দলের উপকার হতো এবং এতে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতিও উপকৃত হতো।

গত বৃহস্পতিবার বেঙ্গালুরুর বিখ্যাত নারায়ণ হৃদয়ালয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন জাসদের একাংশের কার্যকরী সভাপতি সংসদ সদস্য মইন উদ্দীন খান বাদল। তিনিও তিনবার তার আসন থেকে বিজয়ী হয়ে সংসদ সদস্য হয়েছেন। তিনি ছোট দলের নেতা, ১৪ দলের মহাজোটে অন্তর্ভুক্ত থেকেই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া তার। কিন্তু বাদল নিজগুণে গণতন্ত্রসচেতন মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন। সংসদে তিনি সক্রিয় ছিলেন, বিভিন্ন ইস্যুতে সুচিন্তিত অভিমত দিতেন। এ ছাড়া টেলিভিশনের টক শোতে প্রায়ই অংশ নিয়ে এবং অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় যুক্তিসহকারে নিজের বক্তব্য উপস্থাপন করতেন। তার অবস্থান পরিষ্কার করেই তিনি সবার বা বৃহত্তর কল্যাণের কথা বলতেন। রাজনীতির নানা দর্শন আর তত্ত্বকথা তিনি জানতেন এবং উপযুক্ত স্থানে সেগুলো প্রয়োগ করতেন, আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও ইতিহাসের গতিধারা সম্পর্কেও তার ধারণা ছিল। আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশিরভাগ মানুষই নিজেদের এলাকার বিষয় বা সমকালীন ইস্যুগুলোর মধ্যে ঘুরপাক খান। কিন্তু বাদল বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক আলোচনার একটা সুস্থ গণতান্ত্রিক বাতাবরণ তৈরি করতে সক্ষম ছিলেন। তার মৃত্যুতে দেশ বলিষ্ঠ একজন পার্লামেন্টারিয়ানকে হারাল। এ ক্ষতিও সহজে পূরণ হওয়ার নয়।

আজ রাজনৈতিক অঙ্গনে বিত্তবান আর ক্ষমতাবান মানুষের ভিড়ে দুপক্ষের এমন দুই নেতার কথা আমরা স্মরণ করছি, যারা জাতীয়ভাবে রাজনীতিতে চিন্তা করার ক্ষমতা রাখতেন। আজ দলীয় রাজনীতির বৃত্ত ভেঙে জাতীয় রাজনীতির আলোকে কথাবার্তা বলা প্রয়োজন। দেশকে বিভাজন নয়, ঐক্যবদ্ধ করার সময় এসেছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশের দ্বিধারায় বিভক্ত রাজনীতি ও জনগণকে এক জায়গায় আনার ক্ষেত্রে কার্যকর হতে পারতেন এমন দুজন রাজনীতিকের অকালমৃত্যু সত্যিই দেশ ও গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতির কারণ হলো। আমরা তাদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করছি এবং আশা করব এদের রাজনৈতিক জীবনের ইতিবাচক গুণগুলো নিয়ে চর্চা হবে ও তা চলমান রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।

advertisement