advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

তালিকায় ভারতের নাগরিক, কৌতুকে মোশাররফ-বাবু!

বিনোদন সময় প্রতিবেদক
৯ নভেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ৯ নভেম্বর ২০১৯ ০০:১৫
advertisement

চলতি বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের জন্য চলচ্চিত্র আহ্বান করে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ড যে বিজ্ঞপ্তি দেয়, সেখানে প্রথম শর্তেই বলা হয়েছেÑ ‘কেবল বাংলাদেশি নাগরিকগণ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হবেন।’ অথচ বৃহস্পতিবার বিকালে ২০১৭ ও ২০১৮ সালে চলচ্চিত্রশিল্পে অবদানের জন্য ২৮টি বিভাগে বিশিষ্ট শিল্পী ও কলাকুশলীকে ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার’ প্রদানের যে ঘোষণা করেছে তথ্য মন্ত্রণালয়, সেখানে নাম আছে এক ভারতীয় নাগরিকের। পুরস্কার ঘোষণার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ চলচ্চিত্র অঙ্গনে এটি নিয়ে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। প্রশ্ন ওঠে, ভারতীয় একজন চলচ্চিত্র সম্পাদকের পুরস্কার নিয়ে।

এ ছাড়া ‘কৌতুক অভিনেতা’ বিভাগে মোশাররফ করিমের পুরস্কার পাওয়ার বিষয়টি নিয়েও ফেসবুকে সমালোচনা হচ্ছে।

পুরস্কার ঘোষণার পর সবচেয়ে বেশি কথা উঠেছে ‘ঢাকা অ্যাটাক’ চলচ্চিত্রের জন্য ‘সেরা সম্পাদক’ হিসেবে ঘোষিত মো. কালামের পুরস্কার নিয়ে। চলচ্চিত্র পরিচালক হাসিবুর রেজা কল্লোল মন্তব্য করেন, ‘তামাশার শেষ নেই! ২০১৭ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ চিত্র সম্পাদক হয়েছেন একজন ভারতীয়!’ এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ‘ঢাকা অ্যাটাক’ ছবিটির পরিচালক নিশ্চিত করেন মো. কালাম ভারতের নাগরিক। ২০১৭ সালের পুরস্কারের জুরি বোর্ডের সদস্য ও চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার বলেন, তিনি (কালাম) যে একজন বিদেশি, সেটা তাদের জানা ছিল না। ফরমে উল্লেখ থাকে কে কোন দেশের। ওরা প্রযোজক তা হলে ভুল তথ্য দিয়েছে।’ বিষয়টি নিয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কর্মকর্তা জানান, প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার পর বিষয়টি তাদের নজরে পড়েছে। সোমবার অফিস খুললে এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনে পুরস্কারটি অবশ্যই বাতিল করা হবে। ‘ঢাকা অ্যাটাক’ সিনেমার পরিবেশক জাহিদ হাসান বলেন, ‘ভুল তথ্য’ দেওয়ায় ক্ষমা চেয়ে গতকাল দুপুরে চিঠি পাঠিয়েছি জুরি বোর্ডের সদস্যদের কাছে। ভুলবশত: কালামের নামটি বাংলাদেশি হিসেবে পাঠিয়েছিলাম আমরা। বিষয়টি দৃষ্টিগোচরে আসার পর ক্ষমা চেয়ে চিঠিটি পাঠিয়েছি।

আরও দুটি পুরস্কার নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। ২০১৮ সালে ‘কমলা রকেট’ ছবির জন্য মোশাররফ করিম পেয়েছেন শ্রেষ্ঠ কৌতুক অভিনেতার পুরস্কার। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দর্শক। একই ঘটনা ২০১৭ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের ক্ষেত্রে। ফজলুর রহমান বাবু ‘গহীন বালুচর’ ছবিতে অভিনয় করে নির্বাচিত হয়েছেন ‘শ্রেষ্ঠ কৌতুক অভিনেতা’। তিনি বলেন, ‘ছবিটিতে আমার ব্যতিক্রম চরিত্র ছিল। তবে আর যা-ই হোক, সেটি কৌতুক চরিত্র না। খলচরিত্র বলা যায়। তবে আমি কোনোভাবেই কৌতুক চরিত্রকে ছোট করে দেখছি না। বরং চলচ্চিত্রের ইতিহাসে কৌতুক অভিনেতা গুরুত্বপূর্ণ।’

জানা গেছে, আগামী ডিসেম্বরে দুই বছরের বিজয়ীদের হাতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।

advertisement