advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বহিষ্কার আতঙ্কে অনুপ্রবেশকারীরা

নজরুল মৃধা রংপুর
৯ নভেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ৯ নভেম্বর ২০১৯ ০১:৫৫
আওয়ামী লীগের লোগো। ছবি : সংগৃহীত
advertisement

আগামী ২৬ নভেম্বর রংপুর জেলা ও ২৭ নভেম্বর মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন। গুরুত্বপূর্ণ এ দুটি সম্মেলনের আগেই দলে অনুপ্রবেশকারী নেতাদের বহিষ্কার দেখতে চান আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

এদিকে সম্মেলন সামনে রেখে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশীরা লবিং শুরু করেছেন। এর পাশিপাশি দলে অনুপ্রবেশকারীদের বহিষ্কারের দাবিটিও তারা তুলে ধরছেন নেতাকর্মীদের কাছে।

দলীয় সূত্র মতে, রংপুরে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগে জামায়াত-শিবিরের কমপক্ষে ১০ নেতা দাপটের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ পদ ধরে রেখেছেন। বহিষ্কার করাতে না পারলে সম্মেলনে তারাই প্রভাবশালী হয়ে উঠবেন বলে মনে করছেন অনেক নেতাকর্মী। তবে সম্প্রতি শিবিরের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকার অভিযোগে ওয়ার্ড পর্যায়ের এক নেতাকে বহিষ্কার করায় অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে বহিষ্কার আতঙ্ক শুরু হয়েছে।

দলের একটি সূত্র দাবি করেছে, আওয়ামী লীগ ও যুবলীগসহ সহযোগী সংগঠনের কমপক্ষে ১০ নেতা রয়েছেনÑ যারা এক সময় জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট ছিলেন। মামলা থেকে বাঁচতে বিভিন্ন কূটকৌশলে তারা আওয়ামী লীগ ও যুবলীগে ঢুকে পড়েন। শুধু তা নয়, তারা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদও দখল করেন। অভিযোগ রয়েছে, অনুপ্রবেশকারী এসব নেতার দাপটে দলের প্রকৃত নেতাকর্মীরা অনেকটাই কোণঠাসা রয়েছেন। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সম্মেলনের আগেই অনুপ্রবেশকারীদের বহিষ্কার চান তারা।

মহানগর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয় ২৬ অক্টোবর। এতে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবীর নানকসহ বেশ কয়েক নেতা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে নেতাকর্মীদের অভিযোগের ভিত্তিতে নগরীর ২৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজানকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এ সময় নানক বলেন, মিজান শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল। তার শ্বশুর এখনো জামায়াতের নগর কমিটির নেতা। তাই তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অন্য অনুপ্রবেশকারীদেরও দল থেকে বের করে দেওয়া হবে। নানকের এ রকম ঘোষণায় দলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা খুশি হলেও সন্তুষ্ট হতে পারেননি অনুপ্রবেশকারীরা। তারা গোপনে নিজেদের পাল্লা ভারী করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন সামনে রেখে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী এক ডজন নেতা কাউন্সিলরদের কাছে দৌড়ঝাঁপ করছেন। তাদের মধ্যে সভাপতি পদে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, মুক্তিযোদ্ধা মোছাদ্দেক হোসেন বাবলু, সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়াসহ বেশ কয়েকজনের নাম শোনা যাচ্ছে। সাধারণ সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রাজু, জেলা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাজেদ আলী বাবুল, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক তৌহিদুর রহমান টুটুলসহ বেশ কয়েকজন প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন।

এদিকে মহানগর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হতে আগ্রহী বেশ কয়েক নেতা। তাদের মধ্যে সভাপতি পদে বর্তমান জেলা সভাপতি সাফিয়ার রহমান, কোষাধ্যক্ষ আবুল কাশেম, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি আতাউজ্জামান বাবু, বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট দিলশাদ ইসলাম মুকুল ও সদস্য ডা. দেলোয়ার হোসেন রয়েছেন। সাধারণ সম্পাদক পদে লড়তে আগ্রহী বর্তমান সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মণ্ডল ও প্রচার সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মিলন এবং জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য নাজিমুল ইসলাম ডালিমসহ কয়েকজন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৬ সালে জেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে তিনটি প্যানেল হওয়ায় শেষ পর্যন্ত কাউন্সিল ও কমিটি ঘোষণা না করেই কেন্দ্রীয় নেতারা রংপুর ত্যাগ করেন। এর ৫ বছর পর ২০১১ সালে ঢাকা থেকে জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়। সভাপতি করা হয় প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা আবুল মনসুর আহাম্মেদ ও সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রাজুকে। আবুল মনসুর আহাম্মেদ মৃত্যুবরণ করায় সহ-সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহাম্মেদ ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১১ সালের পর আর জেলা সম্মেলন হয়নি। অন্যদিকে মহানগর কমিটি গঠন করা হয় ২০০৭ সালে। এর পর মহানগরের সম্মেলনও আর হয়নি।

মহানগর সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মণ্ডল অনুপ্রবেশকারীদের প্রসঙ্গে বলেন, মূলত ওয়ান-ইলেভেনের পর আওয়ামী লীগে অনেকেই অনুপ্রবেশ করেছেন। তাদের চিহ্নিত করে বহিষ্কারের দাবি করছি। তিনি বলেন, ২৭ নভেম্বর মহানগরের কাউন্সিলের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন করা হয়েছে। সম্মেলনে আবারও সাধারণ সম্পাদক পদে লড়তে আগ্রহী বলেও জানান তিনি।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী তৌহিদুল ইসলাম টুটুল বলেন, কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে এক অনুপ্রবেশকারীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আশা করি, সম্মেলনের আগে অন্য অনুপ্রবেশকারীদের দল থেকে বের করা হবে।

মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড রংপুর জেলা কমিটির সভাপতি ও কাউন্সিলর তৌহিদুল ইসলাম জানান, আওয়ামী লীগ ও যুবলীগে বেশ কয়েকজন রয়েছেনÑ যারা এক সময় সরাসরি জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি করতেন। কয়েক নেতার দুর্বলতার সুযোগে তারা দলে ঢুকে পড়েছেন। সময় থাকতে তাদের বহিষ্কার করা না হলে দলকে খেসারত দিতে হবে।

advertisement