advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ত্রিমোহিনী স্টেশন বন্ধ, যাত্রীদের ভোগান্তি

খায়রুল ইসলাম গাইবান্ধা
৯ নভেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ৯ নভেম্বর ২০১৯ ০০:১৬
advertisement

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের গাইবান্ধা-বোনারপাড়া সেকশনের ত্রিমোহিনী জংশন স্টেশনটি ক্লোজ করায় রেলযাত্রীরা পড়েছেন নানা ভোগান্তির মধ্যে। দীর্ঘদিন ধরে এতদঞ্চলের মানুষ স্টেশনটি ফের চালুর দাবি জানিয়ে আসছে। রেলওয়ের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে স্টেশন মাস্টার সংকট চলছে। স্টেশন মাস্টারদের প্রশিক্ষণ চলছে। প্রশিক্ষণ শেষ হলে আগামী তিন মাসের মধ্যে ত্রিমোহনী স্টেশনটি চালু করা সম্ভব হবে।

এদিকে ক্লোজ করা হলেও এখনো ত্রিমোহিনী স্টেশনে সান্তাহার-লালমনিরহাট ও সান্তাহার-পঞ্চগড় রুটে ৭টি লোকাল আপ ও ডাউন ট্রেনের স্টপেজ রয়েছে। কিন্তু কোনো আন্তঃনগর ট্রেনের স্টপেজ নেই। টিকিট কাউন্টার না থাকায় যাত্রীদের ট্রেনে উঠে টিকিট চেকারের কাছ থেকে টিকিট সংগ্রহ করতে হয়। যাত্রীরা টাকা দিয়ে টিকিট সংগ্রহ করেও বসার জায়গা পান না। টয়লেটও নেই। পানীয়জল ও বৈদ্যুতিক আলো না থাকা এবং ট্রেন কখন আসবে তা জানার ব্যবস্থা না থাকায় যাত্রীদের বিপাকে পড়তে হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বেশি বিপাকে পড়েন নারী যাত্রীরা।

২০১৬ সালের মার্চ মাসে ক্লোজ করার পর থেকে ত্রিমোহিনী জংশন স্টেশন মাস্টার ও টিকিট কাউন্টারের কক্ষে তালা ঝুলছে। এখানে কোনো স্টাফ নেই। স্টেশনসংলগ্ন স্থানে জমিয়ে রাখা মূল্যবান রেলের পাতসহ সব জিনিসপত্র খোয়া যাচ্ছে। স্টেশনের পাশের রেলওয়ের স্টাফ কোয়ার্টারটি পরিত্যক্ত। স্টেশন ও স্টাফ কোয়ার্টারের জমি দখল করে ধান ও কলাসহ নানা ফসল চাষ করছে পার্শ্ববর্তী এলাকার লোকজন। স্টেশনের আশপাশের এলাকা দখল করে বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও গড়ে তুলেছে একশ্রেণির লোক।

ত্রিমোহিনী স্টেশন থেকেই ব্রহ্মপুত্র নদের বালাসী ফেরিঘাট এবং বোনারপাড়া-সান্তাহার সেকশনে ট্রেন চলাচল করত। বালাসী-বাহাদুরাবাদঘাট ফেরি পারাপারের মাধ্যমেই দেওয়ানগঞ্জ-জামালপুর-ময়মনসিংহ হয়ে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে ছিল উত্তরাঞ্চলের ৮ জেলার ট্রেন যোগাযোগ। যমুনায় বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে রেল ও সড়ক যোগাযোগ চালু হওয়ার পর কর্তৃপক্ষ এই রুটের রেলফেরি চলাচল বন্ধ করে দেয়। এতে বন্ধ হয়ে যায় ত্রিমোহিনী-বালাসীঘাট রুটে রেল চলাচল। রেললাইনও হয়ে যায় পরিত্যক্ত। রেলওয়ে ফেরি চলাচল শুরু করে বিকল্প এই পথে ফের ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের রেল চলাচলের উদ্যোগ একাধিকবার নেওয়া হলেও এখনো তা আলোর মুখ দেখেনি। ফলে এতদঞ্চলের যাত্রীদের ট্রেনযোগে সরাসরি ময়মনসিংহ, জামালপুর ও দেওয়ানগঞ্জ যাতায়াতের ব্যবস্থা নেই। তাদের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় নদী পার হয়ে দেওয়ানগঞ্জ গিয়ে সেখান থেকে ঢাকাসহ ওই সব এলাকায় ট্রেনে যাতায়াত করতে হচ্ছে।

এ ব্যাপারে পঞ্চগড়গামী ৭ নম্বর আপ উত্তরবঙ্গ মেইল ট্রেনের গার্ড ফিরোজ হাসান জানান, ত্রিমোহিনীতে সব লোকাল ট্রেনের স্টপেজ মাত্র ২ মিনিট। ক্লোজড স্টেশন বলে এখানে সতর্ক থাকতে হয়। তবে কবে এই স্টেশন ফের চালু হবে তা তিনি অবগত নন বলেও জানান।

ত্রিমোহিনী স্টেশনের কুলি সর্দার মো. মিলন মিয়া ও বোয়ালী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার কাজী মো. আজিজার রহমান এলাকাবাসীর দাবির সঙ্গে একমত পোষণ এবং অবিলম্বে স্টেশনটি চালুর দাবি জানান। তারা আরও জানান, এ স্টেশনে ট্রেনের স্টপেজ ২ মিনিট হলেও ১ মিনিটের বেশি ট্রেন থামে না। এতে যাত্রীদের ওঠানামায় কষ্ট হয়। এজন্য অন্তত ২ মিনিটের বেশি ট্রেনের স্টপেজ তারা দাবি করেন।

এ ব্যাপারে রেলওয়ের লালমনিরহাটের অতিরিক্ত বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, রেল মাস্টার সংকট রয়েছে; আর কিছু মাস্টার প্রশিক্ষণে গেছেন। প্রশিক্ষণ শেষে ফিরে এলেই আগামী তিন মাসের মধ্যে ত্রিমোহিনী রেলস্টেশন চালু করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।

advertisement