advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

৩ বছরে নকশাই চূড়ান্ত হয়নি

এম এ লতিফ চাঁদপুর
৯ নভেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ৯ নভেম্বর ২০১৯ ০০:১৬
advertisement

একনেকে অনুমোদনের পর পেরিয়ে গেছে তিন বছর। এখনো কোনো গতি আসেনি চাঁদপুরে আধুনিক নৌ-টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পের। শুরু হয়নি টেন্ডার প্রক্রিয়া। এখনো চূড়ান্ত হয়নি নকশাও।

একটি সূত্রে জানা গেছে, আগামী বছরের জানুয়ারির দিকে কনসালটেন্ট ডিজাইন বা নকশা বিআইডব্লিউটিএর কাছে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। যদি তা-ই হয়, এরপরই টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আধুনিক নৌ-টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প ২০১৬ সালের ১০ নভেম্বর একনেকে অনুমোদন পায়। এরপর তড়িঘড়ি করে ২০১৮ সালের ৪ নভেম্বর তখনকার নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান এর ভিত্তি স্থাপন করেন।

জানা যায়, দুইশ বছর আগে ডাকাতিয়া-মেঘনা নদীর তীরে চাঁদপুর নদী বন্দর স্থাপিত হয়। ব্রিটিশ শাসন আমলে আইজি অ্যান্ড আরসিন কোম্পানি ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে স্টিমার ঘাট এবং রেলওয়ে স্টেশন প্রতিষ্ঠা করে চাঁদপুর নৌ-বন্দরের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করে। তখন অবিভক্ত বাংলার সঙ্গে আসাম-বেঙ্গল সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা এ নদী বন্দরকে ঘিরেই গড়ে ওঠে।

এরপর ২০০০ সালে নদীভাঙনে বিলীন হয়ে যায় লঞ্চঘাট। দীর্ঘ বছর পেরিয়ে গেলেও আজও একটি স্থায়ী নৌ-টার্মিনাল নির্মাণ সম্ভব হয়ে ওঠেনি। ওই সময় থেকে চাঁদপুর শহরের মাদ্রাসা রোডে ২.৪৮ একর জমির ওপর অস্থায়ী ঘাট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। কয়েক বছর আগে এটিকে স্থায়ী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। চাঁদপুর বন্দর কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাক জানিয়েছেন ওই জমির সঙ্গে আরও দেড় একর বাড়িয়ে প্রায় ৪ একর জমির ওপর দ্বিতল ভবনের নতুন লঞ্চঘাট নির্মাণ করা হবে। আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে কাজ শুরু হবে বলে তিনি জানান।

আধুনিক নৌ-টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক ফরহাদুজ্জামান জানান, প্রায় দুই বছর গবেষণার পর ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারির দিকে রিপোর্ট দেওয়ার কথা রয়েছে। তারপর টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাজ শুরু হবে। আগামী ২০২২ সালের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। প্রাথমিক অবস্থায় ২.৪৮ একর জায়গায় ৫০ কোটি ২৪ লাখ টাকায় তৈরি হবে ভবন। কাজ চলাকালীন আরও যে ভূমি লাগবে তা অধিগ্রহণ করা হবে।

এ দিকে বর্তমানে নানা সমস্যা রয়েছে এ নৌ-টার্মিনালে। যাত্রীদের নেই কোন সুযোগসুবিধা। ঘাটে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের জন্য নেই কোনো টয়লেট কিংবা বসার স্থান। ফলে প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছে ঢাকা, চাঁদপুরসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলের হাজার হাজার যাত্রী। যদিও এ নৌ-টার্মিনাল দিয়ে চাঁদপুর-ঢাকা ও চাঁদপুর-নারায়ণগঞ্জসহ দক্ষিণাঞ্চলের নৌ-পথে প্রতিদিন চলাচল করে প্রায় একশ ছোট বড় লঞ্চ।

advertisement