advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

দুর্বল বুলবুলের আঘাত

মো. মাহফুজুর রহমান
১০ নভেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১০ নভেম্বর ২০১৯ ০৮:৫৮
ঘুর্ণিঝড় বুলবুলে জারি করা হয়েছে ১০ নম্বর মহবিপদ সংকেত। উপকূলীয় এলাকার আতঙ্কিত মানুষজন আশ্রয় নিয়েছে বিভিন্ন কেন্দ্রে। ছবি : আমাদের সময়
advertisement

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ ঘিরেই উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় কাটছে উপকূলবাসীর সময়। গতকাল শনিবার রাত সাড়ে ৯টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড়টি ঘণ্টায় প্রায় ১৫ কিলোমিটার বেগে উত্তর- উত্তরপূর্ব দিকে ধেয়ে আসছিল। এটি আরও উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে মধ্যরাত নাগাদ সুন্দরবনের কাছ দিয়ে অতিক্রম করতে পারে। তবে আরও সরে গিয়ে খেপুপাড়ার কাছেও আছড়ে পড়ার শঙ্কা। কেননা সেদিকেই বাঁক নিচ্ছিল ঘূর্ণিঝড়। যেখানেই আঘাত হানুক না কেন, এর প্রভাবে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৫ থেকে ৭ ফুটের অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে উপকূল। এরই মধ্যে ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে দেশের উপকূলীয় এলাকায় দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। দুদিন ধরে বৃষ্টি ঝরছে সারাদেশেই। এরই মধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে ১৮ লাখ ৬৩ হাজার উপকূলবাসীকে। বৈরী আবহাওয়ায় বন্ধ রয়েছে নৌ চলাচল। অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনায়ও বিঘœ ঘটেছে।

গতকাল রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার, যা দমকা বা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছিল। সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে। মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরগুলোকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা ও অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোও এই সংকেতের আওতায় থাকবে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর ও অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোও এই মহাবিপদ সংকেতের আওতায়। আর কক্সবাজার উপকূলকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা বলছেন, এ ধরনের ঘুর্ণিঝড় অনেকটা জায়গাজুড়ে আঘাত হানে। এখন পর্যন্ত যা গতি-প্রকৃতি বোঝা যাচ্ছে, তাতে সুন্দরবন এবং এর আশপাশেই বুলবুল আছড়ে পড়বে বলে মনে হচ্ছে।

দুর্যোগপরবর্তী উদ্ধার, ত্রাণ ও চিকিৎসা সহায়তায় বরিশাল, ঝালকাঠি, পটুয়াখালী, বরগুনা, সাতক্ষীরায় পাঁচটি, চট্টগ্রামে তিনটি ও সেন্টমার্টিনে নৌবাহিনীর দুটি যুদ্ধজাহাজসহ নৌ কন্টিনজেন্ট প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উপকূলীয় ১৩ জেলার স্থানীয় সরকার বিভাগ, স্বাস্থ্য বিভাগ ও ফায়ার সার্ভিসের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কর্মস্থলে থাকার। জেলাগুলো হলো- সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, ভোলা, বরগুনা, পিরোজপুর, নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, খুলনা, চাঁদপুর, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম।

বুলবুলের গতিপথ : ভারতের সাগরদ্বীপ, বকখালিসহ সুন্দরবনের দিকে বুলবুলের গতিপথ। পশ্চিমবঙ্গের আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, সমুদ্রে ঘূর্ণিঝড়টির গতিবেগ বেশি থাকলেও, স্থলভাগে আছড়ে পড়ার সময় তা কমবে; কিন্তু যেভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠেছে, তাতে মনে করা হচ্ছে- স্থলভাগে আছড়ে পড়লেও এর গতি হবে ঘণ্টায় ১১০ থেকে ১২০ কিলোমিটার। শেষ মুহূর্তে যদি শক্তি বৃদ্ধি পায়, তা হলে ১৩০ কিলোমিটার গতিতেও তা পৌঁছে যেতে পারে। প্রায় একই কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশের আবহাওয়াবিদ আব্দুর রহমান খানও।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ ২৬ নম্বর বিশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত বুলবুল উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে ঘণ্টায় প্রায় ১৫ কিলোমিটার বেগে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি শনিবার বিকাল ৩টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৪৫, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৪৫ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ২৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ২৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরও উত্তর ও উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে শনিবার মধ্যরাত নাগাদ পশ্চিমবঙ্গ-খুলনা উপকূল সুন্দরবন ঘেঁষে অতিক্রম করতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় দমকা ও ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাচ্ছে।

আবহাওয়াবিদ আব্দুর রহমান খান বলেন, ‘বুলবুল উপকূলে যখন আঘাত হানবে, তখন এসব অঞ্চলের নদ-নদীগুলো এবং সাগরে জোয়ার থাকবে। জোয়ারের পানি বৃদ্ধির প্রভাবে জলোচ্ছ্বাসের মাত্রা বেশি হবে। উপকূলের আট জেলা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ঘূর্ণিঝড় ও মুন ফেজের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, ভোলা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং জেলাগুলোর অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোর নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৫ থেকে ৭ ফুটের অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ ও খুলনা উপকূলে আঘাত হানার পর ঘূর্ণিঝড়টি দেশের মধ্যাঞ্চল অতিক্রম করবে। এর প্রভাবে রবিবার (আজ) ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টি হতে পারে।’

সাতক্ষীরার শ্যামনগরের উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. কামরুজ্জামান আমাদের সময়কে বলেন, ‘বড় জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা রয়েছে। যদি তাই হয় তো আমরা বিপদে পড়ে যাব। কারণ এখানে মাত্র ১৫টি সাইক্লোন শেল্টার রয়েছে। দরকার আরও বেশি। তবে উপকূলের মানুষ সবসময়ই সাহসী হয়ে থাকে। এ উপজেলার গাবুরা ইউনিয়ন ঘূর্ণিঝড় আইলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তারপরও শনিবার দুপুর পর্যন্ত মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে আসতে না চাওয়ায় কিছুটা জোর করতে হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহও বন্ধ রয়েছে।’

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান সার্বিক প্রস্তুতির তথ্য দিয়ে শনিবার রাত ১০টার দিকে বলেন, ‘ইতোমধ্যে ১৮ লাখ লোককে ৬৩ হাজার ৭৫৮ জনকে ৭১টি আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।’ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিপ্তরের মহাপরিচালক শাহাদৎ হোসেন বলেন, ‘বলার পরও যারা আশ্রয়কেন্দ্রে যাচ্ছেন না, তাদের নিতে বাধ্য করতে পুলিশ নামানো হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) ৫৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে উদ্ধার ও জরুরি ত্রাণ তৎপরতার জন্য। পাশাপাশি উপকূলীয় সেনা ক্যাম্পগুলোকে সতর্ক রাখা হয়েছে। প্রতিটি জেলায় খোলা হয়েছে নিয়ন্ত্রণকক্ষ। ২২টি কমিউনিটি রেডিওর মাধ্যমে সতর্কবার্তা প্রচার করা হচ্ছে।’

যুদ্ধজাহাজসহ নৌ কন্টিনজেন্ট প্রস্তুত : ঘূর্ণিঝড়পরবর্তী জরুরি উদ্ধার, ত্রাণ ও চিকিৎসা সহায়তায় খুলনা, চট্টগ্রাম ও সেন্টমার্টিনে ১০টি যুদ্ধজাহাজসহ নৌ কন্টিনজেন্ট ও মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত রয়েছে। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে আরও জানানো হয়, ঘূর্ণিঝড়পরবর্তী উদ্ধার তৎপরতায় তিনস্তরের ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে নৌবাহিনী। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের মাধ্যমে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

নেতাকর্মীদের মাঠে থাকার নির্দেশ শেখ হাসিনার : ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সরকারের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের কাজ করতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল রাজধানীর ধানম-িতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এ কথা জানান। ত্রাণ ও সমাজকল্যাণবিষয়ক উপকমিটির ডাকা জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা প্রস্তুত রয়েছে। দলীয়ভাবে মেডিক্যাল টিমও প্রস্তুত রাখা হবে। টিমের কর্মীরা জরুরি ত্রাণ পৌঁছানোর কাজ করবেন। এ বিষয়ে দলের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপকমিটির সমন্বয়ে একটি মনিটরিং টিম প্রস্তুত রয়েছে। এ টিমের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী। টিমটি আওয়ামী লীগের সভাপতির ধানম-ির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সার্বক্ষণিক কাজ করবে।

খুলনা জেলায় ৩৪৯টি সাইক্লোন শেল্টার খোলা রাখা হয়েছে। গতকাল দুপুর ২টা পর্যন্ত চার উপজেলার আশ্রয়কেন্দ্রে ১ লাখ ২০ হাজার লোক অবস্থান নিয়েছে বলে জানায় জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোলরুম। সাতক্ষীরার ২৭০ আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছে ১ লাখ ২ হাজার মানুষ। একই সঙ্গে প্রশিক্ষিত ২২ হাজার স্বেচ্ছাসেবকসহ ৮৫টি মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত রয়েছে বলে দাবি জেলা প্রশাসনের। এদিকে ঝুঁকিপূর্ণ শ্যামনগর উপজেলায় মোতায়েনর জন্য একশ সেনাসদস্য সাতক্ষীরায় পৌঁছেছেন। বাগেরহাটের উপকূলীয় উপজেলা মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা, রামপাল ও মোংলার ঝুঁকিপূর্ণ লোকজনকে গতকাল দুপুরের মধ্যেই আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়। সুন্দরবনের দুবলারচরের শুঁটকিপল্লী­র জেলেদের সরানোর জন্য নেওয়া হয়েছে র‌্যাব, কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর সহযোগিতা। মোংলা সমুদ্রবন্দরে অবস্থানরত সব দেশি-বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজের পণ্য খালাস-বোঝাই কাজ বন্ধ রয়েছে। নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে পশুর ও মোংলা নদীর সব নৌযান। পৌরসভাসহ সব ইউনিয়নের ৮৪টি আশ্রয়কেন্দ্র খুলে রাখা হয়েছে।

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে ভোলার দৌলতখান উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৯৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সতর্কতামূলক মাইকিংয়ের পাশাপাশি খোলা হয়েছে ২৬টি কন্ট্রোলরুম। লালমোহন উপজেলায়ও ৮৬টি আশ্রয়কেন্দ্র, একাধিক মেডিক্যাল টিম ও একটি কন্ট্রোলরুম চালু রাখা হয়েছে। পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় উপজেলায় গতকাল দুপুর থেকেই ৫৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে মানুষ আসা শুরু করে। বলেশ^র নদের মাঝেরচরের ১২শ জেলে পরিবারকেও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে আশ্রয়কেন্দ্রে। বঙ্গোপসাগরে একটি ট্রলারসহ বরগুনার ১৫ জেলে নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। শনিবার সকালে নারিকেলবাড়িয়ায় ইঞ্জিন বিকল হলে ট্রলারটি নিখোঁজ হয় বলে জানান জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তাফা চৌধুরী। এ ছাড়া বরিশাল জেলার বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ৪০ হাজার ও ঝালকাঠিতে ১০ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছে।

নদীগুলো উত্তাল হয়ে উঠায় চাঁদপুর থেকে সব রুটের লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান জানান, জেলার ৩১১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে। চট্টগ্রামের উপকূলীয় বিভিন্ন সাইক্লোন শেল্টারে ৫০ হাজারের মতো লোক আশ্রয় নিয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। বান্দরবানের দুর্গম থানচি উপজেলার পর্যটন এলাকা রেমাক্রী নাফাকুমে পর্যটক ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। ফেনীর উপকূলীয় সোনাগাজী উপজেলায় সিপিপির দেড় হাজার স্বেচ্ছাসেবকসহ দুই হাজার কর্মী প্রস্তুত আছে; মওজুদ রাখা হয়েছে শুকনো খাবার। প্রস্তুত আছে অর্ধশত আশ্রয়কেন্দ্র।

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে বন্ধ রয়েছে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ও আরিচা-কাজীরহাট নৌরুটের লঞ্চ চলাচল। দুর্ঘটনা এড়াতে শনিবার বেলা সোয়া ২টা থেকে লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। তবে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটের ফেরি চলাচল চালু রয়েছে। কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়া নৌরুটেও লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচল বন্ধ। ফেরি চলছে বলে জানিয়েছে ঘাট কর্তৃপক্ষ।

প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন চট্টগ্রাম ব্যুরো থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক মহিউদ্দিন, খুলনা থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক এসএম কামাল হোসেন, সাতক্ষীরা থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জল, বরিশাল প্রতিনিধি আল মামুন, বান্দরবান প্রতিনিধি এনএ জাকির, বরগুনা প্রতিনিধি মাহবুবুল আলম মান্নু, বাগেরহাট প্রতিনিধি নেয়ামুল হাদী রানা, চাঁদপুর প্রতিনিধি এমএ লতিফ, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি আশরাফুল আলম লিটন, ফেনী প্রতিনিধি আরিফুর রহমান, মোংলা প্রতিনিধি কামরুজ্জামান জসিম, লৌহজং উপজেলা প্রতিনিধি রুবেল ইসলাম, মঠবাড়িয়া প্রতিনিধি ইসরাত জাহান মমতাজ, লালমোহন প্রতিনিধি এনামুল হক রিংকু, দৌলতখান সংবাদদাতা রোমানুল ইসলাম সোহেব।

advertisement