advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ঐতিহাসিক দিনে ডাকছে আরেক ইতিহাস

সাইফুল ইসলাম রিয়াদ,নাগপুর থেকে
১০ নভেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১০ নভেম্বর ২০১৯ ১২:৪৩
নাগপুরের বিদর্ভ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে অনুশীলনে টাইগাররা
advertisement

বায়ুদূষণের নগরী ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি­ আর সবুজে ঘেরা ঝলমলে রাজকোট পেরিয়ে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ-মুশফিকরা এখন নাগপুরে। একই দেশ, একই জাতীয় সংগীত। সবাই সুর মেলান বন্দেমাতরমে। তবে সংস্কৃতির ভিন্নতার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিটি শহরের রয়েছে নিজস্বতা। নাগপুরও স্বকীয়তা বজায় রেখে বিখ্যাত। মহারাষ্ট্রের শীতকালীন রাজধানী নাগপুর বিখ্যাত কমলার জন্য।

এই কমলার নগরীতে বাংলাদেশকে হাতছানি দিচ্ছে আরেকটি ইতিহাস গড়তে। দিনটি বাংলাদেশের ক্রিকেটের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা। এদিনে ১৯ বছর আগে ভারতে বিপক্ষে টেস্ট দিয়ে কুলীন ক্রিকেটে যাত্রা শুরু করেছিল টাইগাররা। তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে আজ ভারত-বাংলাদেশ মুখোমুখি হবে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায়। নাগপুরের বিদর্ভ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে ট্রফির লড়াইয়ে লড়বেন রিয়াদ-রোহিতরা।

এই সিরিজের আগে বাংলাদেশ কখনো টি-টোয়েন্টিতে ভারতকে হারাতে পারেনি। প্রথম ম্যাচে দিল্লি­তে রোহিতদের উড়িয়ে দিয়ে টিম টাইগার জানান দিয়ে রাখল টি-টোয়েন্টির সংক্ষিপ্ত সংস্করণে ভারতকে হারাতে পারি। দিল্লি­তে উড়ন্ত সূচনার পর রিয়াদরা স্বপ্ন দেখতে থাকেন সিরিজ জয়ের। দ্বিতীয় ম্যাচে রাজকোটে বড় ব্যবধানে হারলেও সিরিজ জয়ের আত্মবিশ্বাসে কোনো ছেদ পড়েনি। ‘আমরা যদি নিজস্ব খেলাটা খেলতে পারি, ভারতকে চাপে ফেলতে পারি, তবে যে কোনো দিন তাদের হারাতে পারব’Ñ এভাবেই মন্তব্য করেছেন টাইগারদের গুরু রাসেল ডমিঙ্গো।

নিজেদের দিনে বাংলাদেশ যে কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে ভারত টের পেয়েছে প্রথম ম্যাচে। দিল্লিতে ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিংয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে টাইগাররা সহজ জয় এনে দেন দেশকে। দ্বিতীয় ম্যাচে খোলস ছেড়ে বেরোতে পারেননি মুশফিকরা। তবে সিরিজ জয়ের স্বপ্ন দেখছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। রাসেল ডমিঙ্গো বলেন, ‘আমরা অবশ্যই তাদের হারাতে পারব। আমি ছেলেদের নিয়ে গর্বিত। তারা যেভাবে খেলেছে সত্যিই প্রশংসনীয়। দ্বিতীয় ম্যাচে ভালো অবস্থানে থেকেও কিছু ভুল করেছি, সেগুলোর জন্য হারতে হয়েছে।’

নাগপুরে আসার পর টাইগাররা একদিন সুযোগ পায় নিজেদের ঝালিয়ে নিতে। সকাল থেকেই ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং অনুশীলন চালিয়ে যান মুশফিকরা। এই সিরিজের দুই ম্যাচে মোস্তাফিজুর রহমান প্রত্যাশামতো বোলিং করতে পরেননি। দ্য ফিজকে দেখা গেছে বোলিং নিয়ে ঘাম ঝরাতে। ১১টার দিকে দলের সঙ্গে অনুশীলনে যোগ দেন মুমিনুল হকসহ টেস্ট দলের বাকি সদস্যরা। অবশ্য তারা আলাদা অনুশীলন করেন। রাজকোটের মাঠে গড় রান ১৭০/১৮০ থাকলেও টাইগাররা করতে পারে মাত্র ১৫৩। তবে নাগপুরের এই মাঠে রান আরও কম ওঠে। সব শেষ ১৫ টি-টোয়েন্টিতে ১৫০ রানের বেশি করতে পারেনি কোনো দল।

আজ টস গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে জানিয়েছেন রাসেল ডমিঙ্গো। আগের দুই ম্যাচের একাদশ থেকে পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা খুব কম। সিরিজে পিছিয়ে থেকে দুর্দান্ত কামব্যাক করেছে ভারত। নিজেদের মাঠ, চেনা পরিবেশ, হাজার হাজার দর্শকের সমর্থনসহ পারফরম্যান্সের বিচারে ভারত অনেক এগিয়ে। তবু নিজেদের ফেভারিট ভাবতে চান না অধিনায়ক রোহিত শর্মা। ‘আমরা ফেভারিট-তত্ত্ব বিশ্বাস করি না। আমরা মাঠে যাব এবং সেরাটা দেব। এভাবেই ম্যাচ জেতা সম্ভব, ফেভারিট তকমা নিয়ে ম্যাচ জেতা যায় না। নির্দিষ্ট দিনে ভালো করতে পারলেই যে কোনো দলের বিপক্ষে ম্যাচ জেতা সম্ভব।’ রাসেল ডমিঙ্গোর সঙ্গে সুর মিলিয়ে রোহিতও একই কথার আবৃত্তি করেছেন। তার মতে, বাংলাদেশ প্রথম ম্যাচে নিজেদের সেরা খেলাটা খেলেছে। তাদের জয়টাও প্রাপ্য ছিল। এই ম্যাচের উইকেট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ভারতীয় অধিনায়ক তার দলের ¯িপনারদের প্রশংসায় ভাসান। তার মতে, দলে যদি দক্ষ খেলোয়াড় থাকে তা হলে উইকেট কোনো বিষয়ই না। সংবাদ সম্মেলন শেষে কোচ রবি শাস্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে পিচ দেখেন রোহিত।

টাইগারদের সামনে ভারতকে তাদের মাটিতে হারানোর সুযোগ।

advertisement
Evall
advertisement