advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

প্রস্তুত নিয়ন্ত্রণ কক্ষ

নিজস্ব প্রতিবেদক
১০ নভেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১০ নভেম্বর ২০১৯ ১০:৪১
সচিবালয়
advertisement

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’-এর প্রভাবে জরুরি দুর্যোগ মোকাবিলায় তথ্য ও সার্বিক যোগাযোগের জন্য গতকাল শনিবার সচিবালয়ে অস্থায়ী কন্ট্রোল রুম (নিয়ন্ত্রণ কক্ষ) খুলেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের ৮০১ (ক) নম্বর কক্ষটিতে এ কার্যক্রম চলবে। কন্ট্রোল রুমের ফোন নম্বর : ০২-৯৫৪৬০৭২। মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মনোজ কান্তি বড়াল সার্বিক দায়িত্ব পালন করবেন। গতকাল শনিবার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

এতে জানানো হয়, ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ মোকাবিলার প্রস্তুতিসহ পরবর্তী প্রয়োজনীয় সব ধরনের কার্যক্রম গ্রহণের লক্ষ্যে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও এর অধীনস্থ দপ্তরগুলোর সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ৯ ও ১০ নভেম্বরের সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটি বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রত্যেক দপ্তর/সংস্থায় জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগ নিশ্চিতকল্পে এবং জনগণের এ সম্পর্কিত তথ্য প্রাপ্তির সুবিধার্থে কন্ট্রোল রুম খোলা এবং ব্যাপক প্রচার ও অন্যান্য জরুরি সব ধরনের কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু

ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’-এর সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলার জন্য আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ, স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন দপ্তর/সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রস্তুতি তদারকি এবং সমন্বয়ের লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ (কক্ষ নং-৬১৬, ভবন-৭ বাংলাদেশ সচিবালয়, ফোন নং- ৯৫৭৫৫৭৬) খোলা হয়েছে। নিয়ন্ত্রণ কক্ষে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা/কর্মচারারা বিভাগ ও জেলা পর্যায়ের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদসহ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘূর্ণিঝড়সৃষ্ট পরিস্থিতির সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছেন ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করছেন।

সব জেলায় প্রস্তুত ‘কুইক রেসপন্স টিম’

‘বুলবুল’ মোকাবিলায় প্রত্যেক জেলার পুলিশ সুপারের (্এসপি) কার্যালয়ের বিশেষ শাখার (ডিএসবি) তত্ত্বাবধানে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। পাশাপাশি প্রত্যেক থানাতেও খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম এবং প্রতিটি পুলিশ লাইন্সে প্রস্তুত রাখা হয়েছে এক প্লাটুন কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) ফোর্স। এ ছাড়া যে কোনো জরুরি প্রয়োজনে তথ্য প্রদান ও সহযোগিতার জন্য কন্ট্রোল রুম স্থাপন করেছে পুলিশ সদর দপ্তর।

গতকাল পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) সোহেল রানা জানান, ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ মোকাবিলায় প্রত্যেক জেলা পুলিশের কার্যালয়ে ডিএসবির তত্ত্বাবধানে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। এ ছাড়া প্রত্যেক থানায়ও খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। প্রতিটি পুলিশ লাইন্সে এক প্লাটুন কুইক রেসপন্স টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ওয়ার্ড মেম্বার, ইউপি চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র, উপজেলা চেয়ারম্যানসহ এলাকার নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ওসিসহ সিনিয়র কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। প্রতিটি জেলার পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের সহযোগিতা নেওয়ার জন্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় যে কোনো প্রয়োজনে পুলিশ সদর দপ্তরে স্থাপতি কন্ট্রোল রুমের ০১৭৬৯-৬৯০০৩৩, ০১৭৬৯-৬৯০০৩৪ নম্বরে এবং জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

টেলিযোগাযোগ সেবা সচল রাখতে জরুরি ব্যবস্থা

ঘূর্ণিঝড় বুলবুল সম্ভাব্য আঘাতের পর দেশের টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক ও সব সংযোগ সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট সব অপারেটরকে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ। আক্রান্ত এলাকায় মানুষ যেন টেলিযোগাযোগ সেবা থেকে বিচ্ছিন্ন না হয়ে পড়ে- এ জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। বিটিসিএল, বিএসসিসিএল এবং সব মোবাইল অপারেটর ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে বলে জানিয়েছে।

বেসরকারি মোবাইল অপারেটররা বলছে, দক্ষিণাঞ্চল এলাকার টাওয়ার স্টেশনগুলোয় বিদ্যুৎ না থাকলে জেনারেটরের মাধ্যমে নেটওয়ার্ক সচল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানিসহ সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া কক্সবাজার ও কুয়াকাটায় সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশন দুটি দুর্যোগকালীন সময়ে সচল রাখতে বিকল্প বিদ্যুৎ প্রস্তুত রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

দেড় হাজারের বেশি মেডিক্যাল টিম গঠন

ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবিলায় দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্যোগপ্রবণ এলাকার মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে দেড় হাজারের বেশি মেডিক্যাল টিম করা হয়েছে। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সহকারী পরিচালক ডা. আয়শা আক্তার বলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাক্তার আবুল কালাম আজাদ দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য সার্বিক প্রস্তুত গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। সেই নির্দেশনামতে দুর্যোগপ্রবণ এলাকা ঘিরে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়প্রবণ এলাকায় স্বাস্থ্য বিভাগের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এটি বলবৎ থাকবে। ছুটি বাতিল হওয়া সবাইকে কর্মস্থল ত্যাগ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে স্থানীয় প্রশাসন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে বলা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, খুলনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরগুনা, পিরোজপুর, বরিশাল, নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামসহ ১৫টি জেলাকে দুর্যোগপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় ১১৬টি উপজেলায় এক হাজার ১৩৫টি ইউনিয়ন রয়েছে। দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় চার হাজার ৫১৬টি আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে। এসব এলাকার মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে এক হাজার ৫৭৭টি মেডিক্যাল টিম করা হয়েছে। প্রতিটি টিমে মেডিক্যাল অফিসার, সিনিয়র স্টাফ নার্স, মিডওয়াইফ, উপসহকারী মেডিক্যাল অফিসার, স্বাস্থ্য সহকারী, কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার ও অন্যান্য কর্মচারী রয়েছেন। টিমগুলো আশ্রয়কেন্দ্রসহ সব ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করবে। কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বক্ষণিক মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি ও কার্যক্রম তদরকি করা হচ্ছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং উপদ্রুত জেলাগুলোর কন্ট্রোল রুমের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

ডা. আয়শা আক্তার আরও বলেন, ঘূর্ণিঝড়প্রবণ এলাকায় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামাদি মজুদ রাখা হবে। দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় সব কিছু দুর্গত এলাকায় পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হবে। এ ছাড়া দুর্গত এলাকায় গর্ভকালীন ও জরুরি প্রসূতি সেবার প্রতি বিশেষ নজর রাখা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের ছুটি বাতিল, নিয়ন্ত্রণ কক্ষ

বুলবুলের সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় ১৩ উপকূলীয় জেলার স্থানীয় সরকার বিভাগের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। গতকাল, আজ ও আগামীকালের সরকারি ছুটি বাতিল করে তাদের কর্মস্থলে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগাম প্রস্তুতি হিসেবে ১৩টি উপকূলীয় জেলার স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে (জেলা পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ) কর্মরত সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর কর্মস্থল ত্যাগ না করার নির্দেশনা দিয়ে আদেশ জারি করা হয়েছে। জেলাগুলো হলোÑ সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, ভোলা, বরগুনা, পিরোজপুর, নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, খুলনা, চাঁদপুর, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম।

মন্ত্রণালয়ের আলাদা আরেকটি আদেশে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলাসহ মাঠ পর্যায়ের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করতে বলা হয়। যথাযথ কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান এবং প্রয়োজনে ঘূর্ণিঝড়-পরবর্তী রাস্তাঘাট-কালভার্ট সংস্কার ও মেরামতপূর্বক সচল রাখার কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে উপদ্রুত এলাকা ও আশ্রয়কেন্দ্রে পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানীয় জলের সরবরাহ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

advertisement