advertisement
International Standard University
advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

আগলে রাখছে সুন্দরবন

মো. মাহফুজুর রহমান
১২ নভেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১২ নভেম্বর ২০১৯ ০২:০৮
advertisement

ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাসসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে দেশকে মারাত্মক আঘাত থেকে বরাবরই রক্ষা করছে সুন্দরবন। ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’-এর ক্ষেত্রেও এর ব্যত্যয় ঘটেনি। বুলবুলের বিধ্বংসী ক্ষমতার অনেকখানিই নিজের বুক দিয়ে আগলে রেখেছে বিশ্বের একমাত্র এই ম্যানগ্রোভ বন। এর আগে ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় সিডর এবং ২০০৯ সালের ২৫ মে ঘূর্ণিঝড় আইলা মারাত্মক বিধ্বংসী ক্ষমতা নিয়ে আছড়ে পড়লেও সুন্দরবনে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে দুর্বল হয়ে পড়েছিল। ফলে অনেক কম ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল; প্রাণহানিও হয়েছিল আশঙ্কার চেয়ে অনেক কম। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় উপকূল ও তৎসংলগ্ন এলাকার মানুষকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষায় দেয়ালের মতো কাজ করে সুন্দরবন। অথচ ৬ হাজার বর্গকিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত এ বনের অস্তিত্ব ক্রমেই বিপন্ন হচ্ছে। এ বন নিয়ে যারা গবেষণা করেন, তারা বলছেনÑ জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষার অন্যতম শক্তি সুন্দরবন। অথচ তেলের ট্যাংক ডুবে বনের অভ্যন্তরের পানি, পরিবেশ-প্রতিবেশ দূষিত হওয়া, চোরাশিকারি ও বনসংলগ্ন এলাকায় শিল্প-কারখানা নির্মাণের কারণে সুন্দরবনের অস্তিত্ব হুমকির মুখে ফেলছে। আর এ বনের পাশে নির্মিতব্য রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দেখা দিয়েছে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান পাওয়া সুন্দরবন। এভাবে চলতে থাকলে কতদিন প্রাকৃতিক আঘাত সামলানোর সক্ষমতা থাকবে সুন্দরবনের? সঙ্গত কারণেই এখন এমন প্রশ্ন জাগছে।


দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো এনামুর রহমান এরই মধ্যে বলেছেন, সুন্দরবন আমাদের রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করেছে। আমরা সুন্দরবনকে বাঁচাতে এবং এটি যাতে আর কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে জন্য আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেশ করব। গাছ কেটে বন উজাড় করা হচ্ছে নানাভাবে বনের ক্ষতি করা হচ্ছে, এটি বন্ধ করে সুন্দরবনকে সুরক্ষা দিতে হবে।
পরিবেশবিদ ড. একিউএম মাহবুব বলেছেন, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের ছোবল থেকে উপকূলীয় এলাকা রক্ষায় সুন্দরবন ঢাল হিসেবে কাজ করেছে। মনে করেন আপনার বাড়ির সামনে একটি দেয়াল আছে। সেটির কারণে বন্যার পানি, দমকা বাতাস আপনার ঘরে ঢুকতে পারবে না। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের জন্য সুন্দরবন ঠিক সেই দেয়ালের কাজটিই করে। সুন্দরবন না থাকলে উপকূলে বড় ধরনের তা-ব হতে পারত বলে তিনি আশঙ্কা করেন। তিনি আরও বলেন, ভূখ-ে আঘাত হানার সময় এর গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৪০ কিলোমিটার, কিন্তু সুন্দরবনের গাছপালার কারণে সেটির প্রভাব ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটারের মতো অনুভূত হয়।
সুন্দরবনের কারণেই প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের শক্তি কমেছে, বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ক্ষতির মাত্রাও হয়েছে কম। তাই দেশের স্বার্থেই বিশ্বের বৃহৎ ম্যানগ্রোভ বনটি রক্ষায় অবিলম্বে সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। একই সঙ্গে সুন্দরবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলা রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণকাজ এবং পরিবেশবিনাশী শিল্পায়ন প্রক্রিয়া বন্ধ করারও জোর দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি। গতকাল সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অধিকাংশ ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে সুদৃঢ় বর্ম হয়ে এই অঞ্চলকে রক্ষায় সুন্দরবনের অবদান অনস্বীকার্য। নিñিদ্র সুরক্ষায় বেষ্টনী হয়ে ৬ দশমিক ১৭ হাজার বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ বন বছরের পর বছর ধরে বিশ্বের অন্যতম প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চল বাংলাদেশের প্রাণ ও সম্পদ রক্ষা করে আসছে। দেশে আঘাত হানার আগেই প্রবল ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের শক্তিও হ্রাস করে ক্ষতির মাত্রা কমিয়ে দিয়েছে সুন্দরবন। তাই সুন্দরবন রক্ষায় বাংলাদেশকে সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নিতে হবে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প সুন্দরবনকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে বলেও অভিযোগ ড. জামানের।
তেল-গ্যাস-খনিজসম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দররক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. আনু মুহাম্মদ আমাদের সময়কে সুন্দরবন প্রসঙ্গে বলেন, দুঃখজনক হলোÑ সরকারের যে মনোভাব, তাতে মনে হচ্ছেÑ সুন্দরবন ধ্বংসে তারা মেতে উঠেছে। গত ১০ বছর ধরে যথেষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করার পরও রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের সিদ্ধান্তে অনড় সরকার। রেড জোনকে গ্রিন হিসেবে উপস্থাপন করে শতাধিক বিষাক্ত শিল্প কারখানা স্থাপন করা হচ্ছে। আমি স্পষ্ট বলতে চাই, এ ধারা অব্যাহত থাকলে সুন্দরবনের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে।
বুলবুলের আঘাতের শিকার ভারতও। সে দেশের গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রকাশ হয়েছে, বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল আঘাত হানলেও এর তীব্রতা আশঙ্কার চেয়ে কম ছিলÑ দক্ষিণে সুন্দরবন দিয়ে প্রবেশ করায় তা আরও দুর্বল হয়ে যায়। বিশ্লেষকরা বলছেন, সুন্দরবনই বারবার বাংলাদেশকে বুক পেতে রক্ষা করছে।
সার্ক আবহাওয়া কেন্দ্রের সাবেক বিজ্ঞানী আব্দুল মান্নান আমাদের সময়কে জানান, অতিপ্রবল শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ বঙ্গোপসাগর দিয়ে মূলত বাংলাদেশের স্থলভাগে প্রবেশ করে। ওই সময় ঘূর্ণিঝড়ের একপাশে ছিল পশ্চিমবঙ্গ, আর সুন্দরবন ছিল তিন পাশে। সুন্দরবন অতিক্রম করতে ঘূর্ণিঝড়ের দীর্ঘসময় লাগে ও গতি কমে আসে। ফলে পূর্ণশক্তি নিয়ে বুলবুল বাংলাদেশের স্থলভাগে আঘাত করতে পারেনি। তিনি বলেন, এটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করেনি। কিন্তু ঘূর্ণিঝড়ের একপাশে পশ্চিমবঙ্গ ছিল। ঘূর্ণিঝড়ের তিন দিক জুড়েই ছিল সুন্দরবন।
বুলবুলের গতি কমার বিষয়টি ব্যাখ্যা করে আব্দুল মান্নান বলেন, বুলবুল যে গতিতে আসার কথা ছিল, সেই গতিতে আসেনি। যখন ঘূর্ণিঝড় জলভাগের ওপর দিয়ে চলে, সেই জলভাগ ঘূর্ণিঝড়ের ওপর তেমন শক্তি প্রয়োগ করতে পারে না। কিন্তু স্থলভাগে গাছ, স্থাপনা দাঁড়ানো থাকে। এগুলোর সঙ্গে সবসময় সংঘর্ষে লিপ্ত হয় ঘূর্ণিঝড়, বাধাপ্রাপ্ত হয়। ফলে রিটার্নিং ফোর্সের (বিরোধী শক্তি) কারণে গতি আস্তে আস্তে কমে যায়। তিনি বলেন, যেহেতু ঘূর্ণিঝড়ের তিন দিকেই সুন্দরবন জুড়ে ছিল এবং উত্তর দিকে অগ্রসর হচ্ছিলÑ সেহেতু সুন্দরবনের কারণে তার অবস্থানের পরিবর্তন কমে ঘূর্ণিঝড়ের নিজস্ব শক্তিও কমে আসে। এ কারণে উপকূল অতিক্রম করতে গিয়ে বুলবুলের দীর্ঘ সময় লেগেছে। তিনি আরও বলেন, বরিশাল অংশ দিয়ে বুলবুল প্রবেশ করলে এর গতি ১১৫ থেকে ১২০ কিলোমিটার বা তার চেয়ে বেশি গতিতে দ্রুত স্থলভাগে প্রবেশ করত।
তথ্য-উপাত্ত বলছে, ঘূর্ণিঝড় বুলবুল সুন্দরবন ও সংলগ্ন এলাকায় আঘাত করে শনিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে। এর পরই তার তীব্রতা কমে আসে। ধীরে ধীরে এটি সাইক্লোন থেকে গভীর স্থল নিম্নচাপে রূপ নেয়। তবে এর আগে প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা আরও একটু কমে যায়। একই সঙ্গে সুন্দরবন বারবারই বাংলাদেশকে ঘূর্ণিঝড় থেকে ঢাল হয়ে রক্ষা করছে। আর উপকূলীয় এলাকার সবুজবেষ্টনীও এ সময় কাজ করেছে। তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশে আঘাত হানে পশ্চিমবঙ্গ ও খুলনা হয়ে, সুন্দরবনের ওপর দিয়ে। এর গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৯০ থেকে দমকা হাওয়ায় ১২০ কিলোমিটার। তখন এটি ছিল প্রবল ঘূর্ণিঝড়। কিন্তু স্থলভাগে সুন্দরবনের গাছপালায় বাধা পেয়ে এটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়। বাতাসের গতিবেগ কমে ৬০ থেকে দমকায় ৮০ কিলোমিটার হয়।
জানা গেছে, এবারের ঘূর্ণিঝড়ে সুন্দরবনের গাছপালার কী ধরনের ক্ষতি হয়েছে তা এখনো নিরূপণ হয়নি। তবে প্রধান বন সংরক্ষক মোহাম্মদ সফিউল আলম চৌধুরী জানান, বুলবুলে সুন্দরবনের ক্ষতি নির্ণয়ের সুবিধার্থে দর্শনার্থীদের প্রবেশে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এ জন্য ৮০টি দল গঠন করা হয়েছে।
তবে জলোচ্ছ্বাস না হওয়ায় বন্য প্রাণীর তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে বন বিভাগ। ওই অঞ্চলে বিভিন্ন স্থাপনার বড় ধরনের কোনো ক্ষতির খবরও পাওয়া যায়নি।
বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বশিরুল আল মামুন বলেন, সিডরে সুন্দরবনের অনেক ক্ষতি হয়েছিল। তবে ১২ বছরে প্রাকৃতিকভাবে সুন্দরবন আবার তার আগের অবস্থায় ফিরে এসেছে। সেখানে তো গাছ লাগাতে হয় না। ওটা একটা প্রাকৃতিক সিস্টেম। একটু ভালো ব্যবস্থাপনা হলেই এই ম্যানগ্রোভ শতাব্দীর পর শতাব্দী এভাবেই টিকে থাকবে।
চলতি বছর এ নিয়ে ৭টি ঘূর্ণিঝড় বঙ্গোপসাগর এলাকায় সৃষ্টি হলো। এর মধ্যে ঘূর্ণিঝড় পামুক চীনে, ফণী ভারতের উড়িষ্যা ও বাংলাদেশে, বায়ু ভারতে, হিক্কা, কায়ার ও মাহা ভারতে আঘাত করে।
দেশে আঘাত হানা ভয়াল ৫ সাইক্লোন
’৭০-এর সাইক্লোন থেকেই মূলত মোটামুটিভাবে এটি মনিটর করা শুরু হয়। সেই ঘূর্ণিঝড় সরাসরি বরিশালের মাঝখান দিয়ে উঠে আসে। ভোলাসহ অনেক এলাকা পানিতে ভাসিয়ে নিয়ে যায়।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক মো. শাহ আলম বলেন, সবচেয়ে প্রলয়ঙ্করী ছিল ১৯৭০ এবং ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়। এর পরে সাইক্লোন সিডরের কথা উল্লেখ করেন তিনি।
১৯৭০-এর ঘূর্ণিঝড় : ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর সর্বোচ্চ ২২৪ কিলোমিটার বেগে চট্টগ্রামে আঘাত হানা এই প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে ১০-৩৩ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হয়েছিল। যে হিসাব পাওয়া যায় তাতে ১৯৭০-এর সালের প্রবলতম ঘূর্ণিঝড়ে ৫ লাখ মানুষ নিহত হয়। যদিও অনেকে মনে করেন মৃতের সংখ্যা বেশি ছিল।
১৯৮৫ সালের ঘূর্ণিঝড় : উড়িরচরের ঘূর্ণিঝড় নামে পরিচিত এই সাইক্লোন, যার বাতাসের গতিবেগ ছিল ১৫৪ কিলোমিটার। এটা অল্প জায়গায় হয় বিধায় ক্ষতি বেশি ছিল না।
১৯৯১-এর ঘূর্ণিঝড় : নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকে এই ঘূর্ণিঝড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। ১২-২২ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ২২৫ কিলোমিটার।
১৯৯১ সালের ২৯-৩০ এপ্রিলের এই ঘূর্ণিঝড়কে আখ্যা দেওয়া হয় ‘শতাব্দীর প্রলয়তম ঘূর্ণিঝড়’ হিসেবে। ১ লাখ ৩৮ হাজার মানুষ মারা যায় বলে জানা যায়। যদিও বেসরকারি সংগঠনের দাবি অনেক মাছ ধরার ট্রলার সাগরে ডুবে নিখোঁজ হন অনেকে, ক্ষতিগ্রস্ত হয় এক কোটি মানুষ।
ঘূর্ণিঝড় সিডর : ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর খুলনা-বরিশাল উপকূলীয় এলাকায় ১৫-২০ ফুট উচ্চতার প্রবল ঘূর্ণিঝড় সিডর আঘাত হানে, যার বাতাসের গতিবেগ ছিল ২২৩ কিলোমিটার। জোয়ারের সময় আঘাত আসেনি বলে প্লাবন কম হয়, তুলনামূলক মানুষ কম মারা যায়। কিন্তু অবকাঠামোগত অনেক ক্ষতি হয়। সিডরে রেডক্রসের হিসেবে ১০ হাজার মারা যায় বলা হলেও সরকারিভাবে ৬ ছয় হাজার বলা হয়েছিল।

advertisement