advertisement
advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

চট্টগ্রাম বন্দরের বাণিজ্যিক ক্ষতি ৩০ কোটি টাকা

চট্টগ্রাম ব্যুরো ও মোংলা প্রতিনিধি
১২ নভেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১২ নভেম্বর ২০১৯ ০১:০১
advertisement

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে চট্টগ্রাম বন্দরে কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে জেটিতে একদিন এবং বহির্নোঙরে তিনদিন কাজ বন্ধ থাকায় দেশি-বিদেশি জাহাজ মালিক, লাইটারেজ মালিক এবং পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩০ কোটি টাকার বাণিজ্যিক ক্ষতি হয়েছে। জেটিতে কাজ বন্ধের জেরে কনটেইনার জটের সৃষ্টি হলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। তাই আর্থিক ক্ষতি কমাতে তারা চট্টগ্রাম কাস্টম, বন্দর কর্তৃপক্ষ, আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত সব প্রতিষ্ঠান এবং বন্দর ব্যবহারকারী পক্ষগুলোকে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার তাগিদ দিয়েছেন।

চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব মো. ওমর ফারুক জানান, গতকাল সোমবার আউটার এবং জেটিতে মিলে ১৭০টি জাহাজের মধ্যে ৯১টিতে কাজ চলছিল। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে এসব জাহাজকে গড়ে দুই থেকে আড়াই দিন বেশি অপেক্ষা করতে হয়েছে। এতে তাদের পরিচালনা ব্যয় বেড়ে যাবে।

বাংলাদেশ কার্গো ভেসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক নুরুল হক বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে জাহাজ মালিকরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তার পরও ঘূর্ণিঝড় আঘাত না করায় বড় ধরনের ক্ষতি থেকে রক্ষা পেয়েছেন তারা।

চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে চট্টগ্রাম বন্দরে প্রায় ৩৬ ঘণ্টা কাজ হয়নি। ফলে

ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগের ওপর কারও হাত নেই। এর পরও সামনে বন্দরকে কনটেইনার জটমুক্ত রাখতে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের সময় একই অবস্থা ছিল মোংলা বন্দরেও। তবে দুর্যোগ কেটে যাওয়ায় গতকাল সোমবার সকাল থেকে মোংলা বন্দরে শুরু হয়েছে পণ্য বোঝাই ও খালাস। বন্দরে অবস্থানরত ১৪টি বিদেশি জাহাজে সকাল থেকেই কাজ শুরু হয়। এ ছাড়া এদিন আরও ৬টি বিদেশি জাহাজের বন্দরে আসার কথা রয়েছে। একই দিনে বন্দর ত্যাগের কথা রয়েছে দুটি জাহাজের। বর্তমানে বন্দরে ১৮টি জাহাজ অবস্থান করছে। বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার কমান্ডার শেখ ফখর উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মোংলার ইউএনও রাহাত মান্নান জানান, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে উপজেলায় মোট ১ হাজার ৩৭০টি বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৯৮টি বাড়িঘর সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১ হাজার ১৭২টি বাড়িঘর। জোয়ারের পানিতে ভেসে গেছে ১ হাজার ৬৮০টি ঘেরের বাগদা ও চিংড়ি। ফলে এ খাতে প্রায় ১ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। উপড়ে পড়েছে প্রচুর গাছ এবং রাস্তাঘাট ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে গেছে। টানা বর্ষণে পৌরসভাসহ উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। তবে বর্তমানে মোংলাসহ সুন্দরবনের আশপাশের এলাকায় পরিস্থিতি ক্রমেই স্বাভাবিক হয়ে উঠছে। দ্রুত ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।

অন্যদিকে পায়রা বন্দরের সুপারিনটেন্ডেন্ট (লাইট অ্যান্ড মুরিং) এসএম ইমতিয়াজ ইসলামের বরাত দিয়ে পটুয়াখালী প্রতিবেদক জানান, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব কেটে যাওয়ায় গতকাল থেকে বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়েছে। যেহেতু পায়রা বন্দরের নিয়মিত অপারেশনাল কার্যক্রম নেই, তাই রাজস্ব আয়ের কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে অবকাঠামোগত কিছু ক্ষতি হয়েছে।

advertisement