advertisement
advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সুন্দরবনে পর্যটক প্রবেশ বন্ধ, ক্ষতি নিরূপণে ক্যাম্প

এসএম কামাল, খুলনা মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জল, সাতক্ষীরা ও নিয়ামুল হাদী রানা, বাগেরহাট
১২ নভেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১২ নভেম্বর ২০১৯ ০১:০১
advertisement

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের ছোবল থেকে উপকূলীয় এলাকা রক্ষায় এবারও ঢাল হিসেবে কাজ করেছে সুন্দরবন। ঝড়ের পর বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ এই বনে পর্যটক প্রবেশ আপাতত নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে বন বিভাগ। এ ছাড়া বনের ক্ষতি নিরূপণে গতকাল সোমবার থেকে বন বিভাগের চারটি রেঞ্জের আওতায় ১৬টি স্টেশনে কাজ শুরু করে ৬৩ দল। এখন পর্যন্ত বাঘ কিংবা অন্য কোনো প্রাণীর মৃত্যুর খবর নেই বন বিভাগের কাছে।

এর আগেও ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় সিডর এবং ২০০৯ সালের ২৫মে ঘূর্ণিঝড় আইলার আঘাত সয়েছে সুন্দরবন। রক্ষা করেছে উপকূল। সেই দুর্যোগে বড় ধরনের ক্ষতির শিকার হয়েছিল বিস্তৃত বনাঞ্চল। তবে এবারের ঘূর্ণিঝড় বুলবলে জলোচ্ছ্বাস না হওয়ায় প্রাণিকুলের তেমন ক্ষতি হয়নি বলেই ধারণা করছেন বন বিভাগের

কর্মকর্তারা।

ইউনেস্কোর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৭ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় সিডরের আঘাতে সুন্দরবনের ৪০ শতাংশ বনভূমি ক্ষতির শিকার হয়েছিল, যা আগের অবস্থায় ফিরে আসতে সময় লেগেছে পরবর্তী ১২ বছর। তাই এবারে সতর্কতার সঙ্গে বনের ক্ষতি নিরূপণ ও সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে চায় বন বিভাগ। ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে প্রয়োজনে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সুন্দরবনে সব পেশার মানুষের প্রবেশও নিষিদ্ধ হতে পারে। এতে বনে প্রবেশাধিকার রহিত হতে পারে বনজীবী প্রায় ১০ লাখ মানুষের। পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হতে পারে সুন্দরবন থেকে সব প্রকার সম্পদ আহরণের ওপর।

খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক মঈন উদ্দিন খান জানান, ঘূর্ণিঝড়ে বন বিভাগের কিছু ক্যাম্প, কাঠের পন্টুন, জেটি, ওয়াকওয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিছু গাছপালার ডাল ভেঙে গেছে। সুন্দরবনকে প্রাকৃতিকভাবে ক্ষত পূরণের স্বার্থে আপাতত পর্যটকদের প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা বলবৎ থাকবে কমপক্ষে এক মাস। পর্যটন ব্যবসায়ীদের ক্ষতি ও রাজস্ব ঘাটতির কথা মাথায় রেখে পর্যটন ভরা মৌসুমের আগেই এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হতে পারে।

এদিকে সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. বশিরুল আল মামুন জানান, সাতক্ষীরা অঞ্চলে সুন্দরবনের মধ্যে ক্ষতির পরিমাণ স্বাভাবিকভাবে কম হয়েছে। এর কারণ বুলবুল আঘাত করার দু’দিন আগে থেকে বৃষ্টিপাত হয়েছে। যে কারণে এর তীব্রতা কমে যায়। তা ছাড়া সুন্দরবনের সাতক্ষীরা অংশে বেশিরভাগ গরান ও গেওয়াগাছ যেগুলো আকারে ছোট হয়ে থাকে। রয়েছে পশুর গাছ এ গাছের গোড়া খুবই শক্ত। যা সহজে ভাঙে না। ফলে এখানে গাছের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম।

তিনি আরও বলেন, এবারের ঘূর্ণিঝড় বুলবলে যেহেতু জলোচ্ছ্বাস হয়নি, সেহেতু প্রাণীকুলের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা নেই। তারপরও সুন্দরবনের মধ্যের প্রকৃত অবস্থা জানতে সোমবার থেকে লোকজন কাজ শুরু হয়। তারা ফিরে এলে আরও পরিস্কার হওয়া যাবে।

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রাকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মদিনুল আহসান জানান, দেশের মোট সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ৫১ শতাংশ সুন্দরবন। উপকূলের ৫ জেলার ১৭টি উপজেলার ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার নিয়ে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে উঠেছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সুন্দরবন। বাঘসহ ৭৬৭ প্রজাতির জীববৈচিত্র্যের সমারোহ এই সুন্দরবনে। এখানে রয়েছে ২৩৪ প্রজাতির বৃক্ষরাজি, ২৮ প্রজাতির ম্যানগ্রোভ, ৩৫৫ প্রজাতির পাখী, ৪৯ প্রজাতির স্থন্যপায়ী, ৮৭ প্রজাতির সরিসৃপ ও ১৪ প্রজাতির উভচর প্রাণী। তাই বনের ক্ষতির পাশাপাশি চেষ্টা করা হচ্ছে প্রাণীকূলের ক্ষতি নিরুপণের। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো প্রাণী মারা যাওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে ট্যু’র অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দবনের যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল আহসান ডেভিড বলেন, ভরা মৌসুমে সুন্দরবনে পর্যটক নিষিদ্ধ হলে বিপর্যয় নেমে আসবে সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন শিল্পে। বন বিভাগের নিবন্ধিত ৭০টি ট্যুর অপারেটর কোম্পানির সঙ্গে জড়িত প্রায় ৫ হাজার মানুষ বিপাকে পড়বে এবং কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হবে।

advertisement