advertisement
advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সাতক্ষীরায় প্রাণ বাঁচলেও বাঁচেনি সোনালি ফসল

মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জল সাতক্ষীরা
১২ নভেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১২ নভেম্বর ২০১৯ ০১:০১
advertisement

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে সাতক্ষীরায় গত রবিবার রাত তিনটা থেকে ভোর পাঁচটা পর্যন্ত প্রবল বেগে দমকা হওয়া থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে এর তীব্রতা কমতে থাকে। এদিকে উপকূলীয় উপজেলা শ্যামনগর, আশাশুনিসহ উপকূল এলাকার ১৬ হাজার কাঁচা ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ও ৩২ হাজার কাঁচা ঘরবাড়ি আংশিক বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ছাড়া ১৬ হাজার ২০০ হেক্টর ফসলের ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার। এ ছাড়া উপকুলীয় উপজেলায় শত শত বিঘা মৎস্য ঘের ও ফসলি জমি বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জেলার উপকূলীয় এলাকার ৬ লাখ মানুষের মধ্যে শনিবার রাত পর্যন্ত ১ লাখ ৮৫ হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে মানুষ আশ্রয় নেয়।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল জানান, ২২ হাজার স্বোচ্ছাসেবক, বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ, নৌবাহিনী ও ১০০ সেনাসদস্য উপকূলীয় এলাকায় জানমাল রক্ষায় কাজ করছেন। উপকূলীয় এলাকা শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলায় কাঁচাঘর বাড়ি, মৎস্যঘের ও ফসলি জমিও রাস্তঘাটের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এসব অঞ্চলে প্রায় ৬০-৭০ ভাগ ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট ধসে পড়েছে। একই সঙ্গে তলিয়ে গেছে চিংড়িঘের।

শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান জানান, ঝড়ের দাপটে গাবুরা ইউনিয়নের ৮০ শতাংশ কাঁচা ও আধাপাকা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়। দুর্গাবাটি, দাঁতিনাখালি ও চৌদ্দরশি বাঁধ মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তিনি জানান, নদীতে এ সময় ভাটা থাকলেও ঝড়ের তা-বে নদীর পানি বেড়িবাঁধ পর্যন্ত ছুঁয়ে যায়। তিনি আরও জানান, রাস্তায় গাছ পড়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। পুরো এলাকা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। গাবুরা, পদ্মপুকুর, আটুলিয়া, কাশিমারিসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের শত শত চিংড়ি ঘের পানিতে তলিয়ে গেছে।

এদিকে বুলবুলের আঘাতে কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে সকালে আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বাড়ি ফেরার সময় গাবুরায় আবুল কালাম নামের এক ব্যক্তি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এ ছাড়া বাড়িঘর পড়ে কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের উপপরিচালক জুলফিকার আলী জানান, শনিবার রাত তিনটা থেকে ভোর পাঁচটা পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৮১ কিলোমিটার।

advertisement