advertisement
International Standard University
advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সংসদে রাঙ্গার তীব্র সমালোচনা জাপার দুই এমপির

১৩ নভেম্বর ২০১৯ ০১:২৫
আপডেট: ১৩ নভেম্বর ২০১৯ ০১:২৫
advertisement

শহীদ নূর হোসেনকে নিয়ে জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গার বক্তব্য ব্যক্তিগত বলে জানিয়েছেন দলটির দুজন সংসদ সদস্য। ওই বক্তব্যের জন্য জাতীয় পার্টি লজ্জিত ও দুঃখিত উল্লেখ করে দল এই বক্তব্যের দায়িত্ব নেবে না বলেও জানান তারা।
গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ ও মুজিবুল হক চুন্নু এসব কথা বলেন। এর আগে আওয়ামী লীগের কয়েকজন সিনিয়র সংসদ সদস্য রাঙ্গার ওই বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে সংসদে ক্ষমা চাওয়ার দাবি তোলেন।
ফিরোজ রশীদ বলেন, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপের (রাঙ্গা) বক্তব্য দিয়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এ বক্তব্য জাতীয় পার্টির বক্তব্য নয়। এটি কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য হতে পারে না। এটি রাঙ্গার নিজস্ব বক্তব্য হতে পারে। ওই বক্তব্যের জন্য জাতীয় পার্টি লজ্জিত, আমরা দুঃখিত এবং এ জন্য অপমানিতবোধ করছি। নূর হোসেন সম্পর্কে তিনি যেটি বলেছেন তা আমরা গ্রহণ করি না। আমরা ঘৃণাভরে এ বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করছি। শহীদ নূর হোসেন সম্পর্কে তিনি বলেন, যে যুবক গণতন্ত্রের জন্য জীবন দিতে পারেন, তার প্রতি আমাদের সম্পূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে।
রাঙ্গার সমালোচনা করে ফিরোজ রশীদ বলেন, একটা কথা আছে, বান্দরকে লাই দিলে মাথায় ওঠে। এই লাই

আমরা দেইনি। এই সংসদ তাকে লাই দিয়েছে। কী ধরনের ব্যক্তিত্ব; যার অতীত নেই-
বর্তমান নেই। কিছুই ছিল না। হঠাৎ তাকে মন্ত্রী বানানো হলো। আমরা তো তাজ্জব হয়ে গেলাম। তিনি বিরোধী দলের চিফ হুইপ। আমি বললাম, তাজুল ইসলাম চৌধুরী (সাবেক বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ) মারা গেছেন, আমি বক্তব্য রাখব। রাঙ্গা বললেন, আপনারটা আপনি দেখবেন, আমি কেন নাম পাঠাব? আমার সঙ্গে উচ্চস্বরে কথা বললেন। আমি যতদিন ধরে রাজনীতি করি, তার বয়সও ততদিন হবে না। তিনি কোথায় আন্দোলন করেছেন? কোথায় সংগ্রাম করেছেন? তিনি যুবদলের নেতা ছিলেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে তিনি কথা বলেছেন। বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে কথা বলার ধৃষ্টতা তিনি কোথায় পেলেন? প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে কথা বলেছেন। গণতন্ত্রের ছবক দেন। লেখাপড়া জানে না, আবার কাগজের মালা গলায় দিয়ে পরিবহন শ্রমিক হয়ে হঠাৎ বাড়ি-গাড়ির মালিক হয়ে গেছেন। ধৃষ্টতা দেখান তিনি আর তার জবাব দিতে হয় আমাদের। এটি সম্পূর্ণ আমাদের ঘাড়ে এসে পড়েছে। আমরা দুঃখিত।
রাঙ্গাকে উদ্দেশ করে ফিরোজ রশীদ আরও বলেন, লজ্জা করে না এসব কথা বলতে? আমরা তো আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে নির্বাচন করেছি। আজকের প্রধানমন্ত্রী সেদিন যদি আমায় পরিচয় করিয়ে না দিতেন, নির্বাচিত হয়ে এই সংসদে আসতে পারতাম না। রাঙ্গা সাহেব! মানুষ এত অকৃতজ্ঞ হয় কীভাবে? পেছনে যদি আওয়ামী লীগ না থাকত, ওই রংপুরে নামতেও পারতেন না। কার কটা ভোট- আমাদের জানা আছে। দেশের মানুষ মনে করেন, যতদিন শেখ হাসিনা আছেন, ততদিন গণতন্ত্র টিকে থাকবে। দেশের মানুষ শান্তিতে থাকবে। উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে।
জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, আমাদের পার্টির চেয়ারম্যান এখানে আছেন। বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে গতরাতে আমার কথা হয়েছে। রাঙ্গা যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা পার্টি গ্রহণ করে না। ওই বক্তব্য তিনি কেন দিয়েছেন, এই সংসদের সদস্য হিসেবে সংসদেই তিনি তার ব্যাখ্যা দেবেন।
শহীদ নূর হোসেন সম্পর্কে জাতীয় পার্টির দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, নূর হোসেন মারা যাওয়ার পর হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ তার বাড়িতে গিয়েছিলেন। তার বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করে দুঃখপ্রকাশ করেছিলেন। অর্থনৈতিকভাবে সহযোগিতা করেছিলেন। তার বিষয়ে এটিই ছিল আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি। আমাদের দলের কেউ তার বিষয়ে কিছু বললে সেটা এই দৃষ্টিভঙ্গির বাইরে।

advertisement