advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত যখন দাঁত ও মাড়ি

ডা.শারমীন জামান
১৪ নভেম্বর ২০১৯ ১৬:৩৬ | আপডেট: ১৪ নভেম্বর ২০১৯ ১৬:৪২
advertisement

ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন বা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে,বর্তমান বিশ্বের প্রায় দুই শতাংশ মানুষ ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত। সে হিসেবে বাংলাদেশে বর্তমানে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা প্রায় ২৬ লাখ। ডায়াবেটিস এমন একটি রোগ, যা মাথার চুল থেকে শুরু করে পায়ের নখ পর্যন্ত শরীরের সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ব্যঘাত সৃষ্টি করে।

সম্প্রতি এক গবেষণায় ডায়াবেটিস রোগের সঙ্গে মুখের এবং দাঁতের সমস্যায় উল্লেখযোগ্য মিল খুঁজে পাওয়া গেছে। ডেন্টাল ক্যারিজ বা দন্তক্ষয়, মাড়ির রোগ, মুখে বিভিন্ন ধরনের ঘা, কোষ প্রদাহ ইত্যাদি সমস্যাগুলো অন্যতম।

সচরাচর ডায়াবেটিস রোগীদের মুখের যে সমস্যা বেশি হয় তা হলো মাড়ির প্রদাহ বা পেরিওডোন্টাল রোগ। যে সব ডায়াবেটিস রোগী মুখের যত্নের ব্যাপারে সচেতন নন, তাদেরই পেরিওডোন্টাল রোগ বেশি দেখা যায়। প্রথমে শুরু হয় মাড়ির প্রদাহ বা জিনজিভাইটিস যা পরবর্তীতে পেরিওডোন্টাইটিসে রুপান্তিত হয়। পেরিওডোন্টাইটিস হলো- মাড়ির প্রদাহ বা  ইনফেকশনের কারণে দাঁত নড়ে যাওয়া। ফলে অনেক সময় মাড়ি ফুলে যায় বা মাড়ি থেকে রক্ত ক্ষরণ হয়। পেরিওডোন্টাইটিসের চিকিৎসা মূলত রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা অনিয়ন্ত্রিত হলে যথাযথ এন্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হয় এবং স্কেলিংয়ের প্রয়োজন পড়ে।

ডায়াবেটিস রোগীরা প্রায়ই অভিযোগ করেন, তাদের মুখ শুকনো থাকে। এটা হতে পারে পিপাসার কারণে বা ডায়াবেটিসের লক্ষণ হিসেবে। এছাড়া মুখ জ্বালাপোড়া বেশি হয় যদি রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেশি থাকে। তবে দাঁত ক্ষয় বা ক্যারিজের মতো সমস্যা ডায়াবেটিস রোগীদের খুব একটা বেশি দেখা যায় না। দাঁত তোলার ক্ষেত্রে কিছু সাবধানতা মেনে চলা জরুরি। রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রিত রেখে আগে থেকেই এন্টিবায়োটিক শুরু করতে হয়। আর মাত্রা বেশি থাকলে ক্ষত শুকাতে দেরি হয়। তবে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকলে সব ধরনের দাঁতের চিকিৎসা নিরাপদ। যাদের রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ প্রয়োজনের তুলনায় কম, সেসব রোগীদের খালি পেটে না থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে সকালে চিকিৎসা করাটা নিরাপদ।

আমেরিকান ডেন্টাল অ্যাসোসিয়েশনের মতে, ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে গ্লুকোজের পরিমান নির্ধারণে একটি তালিকা আপনাদের সুবিধার্থে দেওয়া হলো।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে দাঁতের সুরক্ষায় যা করতে পারেন

প্রতি ছয় মাস পর ডেন্টাল সার্জনকে দিয়ে মুখ ও দাঁত পরীক্ষা করাতে হবে। ডেন্টাল সার্জনকে অবশ্যই আপনার ডায়াবেটিস রোগের কথা বলতে হবে। দাঁত ও মাড়ি যাতে সুস্থ থাকে সেজন্য ডেন্টাল সার্জনের কাছ থেকে আপনার দাঁতের যত্নে কী কী করা প্রয়োজন তা অবশ্যই জেনে নিতে হবে। প্রতিদিন দুইবার সকালে এবং রাতে খাওয়ার পর অবশ্যই দাঁত ভালোভাবে ব্রাশ করতে হবে। আপনার ব্যবহৃত ব্রাশের ব্রিসল অবশ্যই নরম হতে হবে। দুই দাঁতের মাঝ থেকে খাদ্যকণা বের করার জন্য ডেন্টাল ফ্লস বা এক ধরনের সুতা ব্যবহার করতে হবে। যদি দাঁত ব্রাশ করার সময় বা খাওয়ার সময় মাড়ি থেকে রক্ত বের হয়, তবে সঙ্গে সঙ্গে একজন ডেন্টাল সার্জনের পরামর্শ নেওয়া উচিৎ। যে কোনো খাবার বা পানীয় (পানি ছাড়া) খাওয়ার পর অবশ্যই কুলি করতে হবে।

ডা.শারমীন জামান

বিডিএস(ডিইউ)

পিজিটি(ওরাল এন্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারী)

ডেন্টাল সার্জন

ফরাজী ডেন্টাল হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্স সেন্টার,বনশ্রী, ঢাকা।

advertisement