advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

কলেজ শিক্ষার্থী রাজিব-দিয়া হত্যা মামলার রায় ১ ডিসেম্বর

আদালত প্রতিবেদক
১৪ নভেম্বর ২০১৯ ২৩:১৭ | আপডেট: ১৪ নভেম্বর ২০১৯ ২৩:১৭
বাসচাপায় নিহত মিম ও রাজিবের ফাইল ছবি
advertisement

বাস চাপায় নিহত শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী রাজিব-দিয়ার মৃত্যুর মামলার রায় আগামী ১ ডিসেম্বর ঘোষণা করবেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার মামলাটির যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে ঢাকার মহানগর সিনিয়র দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েশ রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন।

আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস কুমার পাল বলেন, ‘মামলায় আমরা রাষ্ট্রপক্ষ ৪১ জন সাক্ষীর মধ্যে ৩৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছি। এরপর আত্মপক্ষ ও যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে রায়ের দিন ধার্য হলো। ’

তিনি আরও বলেন, ‘দণ্ডবিধির ২৭৯/ ৩০৪/ ৩৪ ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করা হয়েছে। যার মধ্যে ২৭৯ ধারায় মানুষের জীবন বিপন্ন হতে পারে এরূপ বেপরোয়া গাড়ি চালানোর জন্য তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড এবং ৩০৪ ধারায় খুন বলে গণ্য নয় এরূপ নরহত্যার জন্য যাবজ্জীবন পর্যন্ত কারাদণ্ড বা যে কোনো বর্ণনার কারাদণ্ড যা ১০ বছর পর্যন্ত হতে পারে।’

মামলায় আসামি জাবালে নুরের ঘাতক বাসের চালক মাসুম বিল্লাহ (৩০), হেলপার মো. এনায়েত হোসেন (৩৮) ও চালক মো. জোবায়ের সুমন (৩৬) কারাগারে রয়েছেন। মামলার অপর দুই আসামি বাস মালিক মো. জাহাঙ্গীর আলম (৪৫) ও হেলপার মো. আসাদ কাজী (৪৫) পলাতক রয়েছেন।

মামলার অপর আসামি ঘাতক বাসের মালিক মো. শাহদাত হোসেন আকন্দের অংশের বিচার হাইকোর্টের আদেশে স্থগিত রয়েছে। মামলায় গত বছর ২৫ অক্টোবর আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করেন। এর আগে গত ৬ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন ডিবি পুলিশ।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৯ জুলাই রাজধানীতে জাবালে নূর পরিবহনের দুইটি বাস রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের ছাত্রী দিয়া খানম মিম ও বিজ্ঞান বিভাগের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আব্দুল করিম রাজীব নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হন আরও ১৪ থেকে ১৫ জন।

ওইদিন দিবাগত রাতেই ক্যান্টনমেন্ট থানায় নিহত দিয়ার বাবা জাহাঙ্গীর আলম একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। রাজিব-দিয়া মৃত্যুর প্রতিবাদে নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাজধানীসহ সারা দেশের ছাত্রছাত্রীদের রাস্তায় নেমে আসেন। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে এক সপ্তাহ অচল হয়ে পড়ে পুরো রাজধানী। বিভিন্ন সড়কে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেয়ায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

শিক্ষার্থীদের ওই অন্দোলনের মুখে যানবাহন চালিয়ে মানুষ হত্যার দণ্ডবিধির ধারায় শাস্তির পরিবর্তন আনা হয়। সেখানে হত্যার উদ্দেশে যানবাহন চালালে এবং তা প্রমাণ হলে তা ৩০২ ধারায় হত্যার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড এবং রাস্তায় বেপরোয়া যান চালনায় মানুষ হত্যায় মৃত্যুতে তিন বছর কারাদণ্ডের বিধান পরিবর্তন করে পাঁচ বছর করা হয়।

advertisement