advertisement
International Standard University
advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ক্ষুদ্রঋণে দারিদ্র্য লালনপালন হয় বিমোচন হয় না : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৫ নভেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৫ নভেম্বর ২০১৯ ০০:০০
advertisement

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে ঠিক দারিদ্র্য বিমোচন হয় নাÑ দারিদ্র্য ‘লালন-পালন হয়’। কেউ কেউ এর প্রবক্তা হিসেবে নাম-যশ কামালেও বাস্তবতা হচ্ছেÑ দেশের জনগণ এর অতটা সুফল পায়নি। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্রে পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) আয়োজিত ‘উন্নয়ন মেলা-২০১৯’ উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।

প্রান্তিকগোষ্ঠী ও পিকেএসএফের বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারীদের উৎপাদিত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে সাত দিনব্যাপী এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত চলবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একসময় আমরা দেখেছি ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে (কর্মসূচি) কেউ কেউ খুব বাহবা নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। একসময় আমরাও এটিকে সমর্থন দিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম যে এর মাধ্যমে বুঝি মানুষ দরিদ্র্যসীমার ওপরে উঠতে পারবে। কিন্তু যখন আমরা বিষয়টি আরও গভীরভাবে দেখলাম, তাতে দেখলামÑ আসলে এর মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন হয় না। দারিদ্র ‘লালন-পালন হয়’, যোগ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্ষুদ্রঋণটা স্বাধীনতার পর পরই জাতির পিতা শুরু করেছিলেন। মানুষকে কীভাবে সমবায়ের মাধ্যম একত্রিত করে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করে তাদের দারিদ্রসীমার থেকে বের করে আনবেন সেই পরিকল্পনাটাই জাতির পিতা নিয়েছিলেন।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল উদ্বোধনী

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন এবং পিকেএসএফ চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মইনুদ্দিন আবদুল্লাহ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে কৃষকদের কল্যাণ ও দারিদ্র্য নিরসন এবং কৃষির উন্নয়নে অসামান্য অবদানের জন্য সাবেক কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরীকে আজীবন সম্মাননা পুরস্কার দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সম্মাননা স্মারক মতিয়া চৌধুরীর হাতে তুলে দেন। পুরস্কার হিসেবে একটি সম্মাননাপত্র, ক্রেস্ট ও ৫০ হাজার টাকার চেক দেওয়া হয়।

গ্রামীণ এলাকা থেকে পিকেএসএফের সহযোগী প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, গবেষণা ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং সেবামুখী সংগঠনসহ ১৩০টি সংস্থার ১৯০টিরও বেশি স্টল মেলায় স্থান পেয়েছে।

‘২১ বছর পর দেশ পরিচালনায় এসেই আওয়ামী লীগ সরকার দারিদ্র্যকে দেশের প্রধান শক্র হিসেবে চিহ্নিত করে’ উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, দারিদ্র্যের বিরুদ্ধেই আমাদের লড়তে হবে এবং মানুষকে মুক্তি দিতে হবে। সেই লক্ষ্যে আমাদের স্বল্পমেয়াদি, দীর্ঘমেয়াদি এবং আশু পরিকল্পনা প্রণয়ন করি। তিনি বলেন, ’৯৬ থেকে ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ সরকার পঞ্চম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়নের পাশাপাশি ১০ বছর মেয়াদি প্রেক্ষিত পরিকল্পনা গ্রহণ করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর এমডিজির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়ন করে এবং সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়ন করে চলছে এবং এগিয়ে চলছে অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ।

এর সঙ্গে সঙ্গে ২০১০ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ১০ বছর মেয়াদি প্রেক্ষিত পরিকল্পনার বাস্তবায়ন চলছে এবং ২০২১ থেকে ২০৪১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ কীভাবে গড়ে উঠবে, সেই প্রেক্ষিত পরিকল্পনার খসড়া ইতোমধ্যে তৈরি হয়ে গেছে, বলেন তিনি।

জাতির পিতার এই পদাংক অনুসরণ করে গ্রামীণ জনগণের অর্থনৈতিক উন্নয়নে তার সরকারের চালু করা সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর বিভিন্ন কর্মসূচি, যেমনÑ বয়স্কভাতা, বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্ততা ভাতা চালু, গরিবদের মাঝে খাদ্য বিতরণ, কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে ও স্বল্পমূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ, বর্গাচাষিদের বিনা জামানতে এবং স্বল্পসুদে ঋণ প্রদানের মতো কর্মসূচির উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার নির্দেশ ছিলÑ কৃষি ব্যাংক গ্রামে কৃষকদের কাছে চলে যাবে। হাটবারে গ্রামের হাটে বসে ঋণ প্রদান করবে এবং সেখান থেকেই আবার ঋণ সংগ্রহ করবে। এভাবেই আমরা কৃষকদের সহযোগিতা করেছি। কৃষকদের জন্য ১০ টাকায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, কৃষি উপকরণ কার্ড প্রদান, বিএডিসিকে আরও উন্নত করে উন্নতমানের বীজ উৎপাদন ও বিতরণের উল্লেখ করেন তিনি।

‘ঘরে ফেরা’, ‘আমার বাড়ি আমার খামার’, ‘আশ্রায়ণ’সহ বিভিন্ন দারিদ্র্যবান্ধব কর্মসূচির উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, দেশকে ভিক্ষুকমুক্ত করার জন্য সরকার এ ধরনের বিভিন্ন কর্মসূচির বাস্তবায়ন করছে। তিনি বলেন, আমরা ভূমিহীনদের জমি দিয়েছি। যারা গৃহহারা তাদের ঘর করে দিয়েছি এবং দিচ্ছি। মানুষ যাতে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে সে ব্যবস্থা আমরা করেছি।

সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচির ফলে বর্তমানে দারিদ্র্যের হার ২১ শতাংশে নেমে এসেছে উল্লেখ করে এই হারকে ১৫-১৬ শতাংশে নামিয়ে আনতে চায় তার সরকার, বলেন সরকারপ্রধান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে পিকেএসএফ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান ছাড়াও শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তি প্রভৃতি বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে দেশে-বিদেশে একটি শীর্ষস্থানীয় উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা লাভ করেছে। তিনি বলেন, বর্তমানে ১ কোটি ৪০ লাখ দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারকে পিকেএসএফ বিভিন্ন কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করে তাদের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই ফাউন্ডেশন দেশের ২০২টি ইউনিয়নে ‘সমৃদ্ধি’ নামক কর্মসূচির মাধ্যমে স্বাস্থ্য, পুষ্টি, শিক্ষাসহ জীবন ও জীবিকাসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সমন্বিত করে একটি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। বয়স্ক মানুষের জীবন মানোন্নয়নে বাস্তবায়ন করছে ‘প্রবীণ কর্মসূচি’। এ ছাড়া পিকেএসএফ দেশের কৃষি খাতে আর্থিক পরিসেবার পাশাপাশি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বাজার সংযোগসহ কৃষির বিভিন্ন উপখাতের ভ্যালু চেইন ও দক্ষ উদ্যোক্তা উন্নয়নে কাজ করার মাধ্যমে দেশের অগ্রগতিতে বিশেষ অবদান রাখছে, বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ভূমি ব্যবহারের জন্য সরকার নীতিমালা করে দিয়েছে। দুই বা তিন ফসলি জমি কেউ নষ্ট করতে পারবে না। কেউ এ ধরনের জমি নষ্ট করলে তারা সরকার প্রদত্ত সব সুযোগ-সুবিধা বঞ্চিত হবে।

advertisement