advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

যে দেশেই পেঁয়াজ পাওয়া যায় সেখান থেকেই আনা হবে

১৫ নভেম্বর ২০১৯ ০১:৩৮
আপডেট: ১৫ নভেম্বর ২০১৯ ০১:৩৮
advertisement

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদনেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, কিছু দিনের মধ্যে মিসর ও তুরস্ক থেকে ৫০ হাজার টন পেঁয়াজের চালান চলে আসবে। আমি নির্দেশ দিয়েছিÑ পেঁয়াজ আসার সঙ্গে সঙ্গে জেলায় জেলায় চলে যাবে। এ ব্যাপরে যথেষ্ট সচেতন আছি, যাতে সমস্যাটা না হয়। বিশ্বের আরও কোথায় কোথায় পেঁয়াজ পাওয়া যায়, খোঁজ নেওয়া হবে। সেখান থেকেই পেঁয়াজ আনা হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার একাদশ জাতীয় সংসদের পঞ্চম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য মুজিবুল হক চুনুœর বক্তব্যের জবাবে সংসদ নেতা বলেন, বিরোধীদলীয় এক নেতা বলেছেনÑ ভারতে নাকি ৮-১০ টাকা কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। সেটা একটা স্টেটে; কিন্তু সারা ভারতবর্ষে এখন প্রায় ১০০ রুপি কেজি বিক্রি হচ্ছে। তাদেরই পেঁয়াজের অভাব। তারাও আমদানি করছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালানো হচ্ছে। অভিযানে দেখা যাচ্ছেÑ পেঁয়াজ পচে যাচ্ছে; কিন্তু বাজারে ছাড়ছে না। তাই দাম বেড়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে উদ্যোগ নিয়েছি। টিসিবির মাধ্যমে বিভিন্ন অঞ্চলে ৪৫ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে।
শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের লক্ষ্য দারিদ্র্য বিমোচন করা। ইতোমধ্যে আমাদের গৃহিত পদক্ষেপের ফলে দরিদ্রের হার ২১ ভাগে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। এই হার আরও কমিয়ে আনব। বাংলাদেশে দারিদ্র্য বলে কিছু থাকবে না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজ থেকে অনিয়ম দূর করার জন্য মাদক, সন্ত্রাস
এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক বিধি-ব্যবস্থা ছিল না। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে হত্যার পর যে মিলিটারি ডিকটেটররা একের পর এক অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে আর এই ক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্য, নিষ্কণ্ঠক করার জন্য দুর্নীতি করার সুযোগ দিয়ে এলিট শ্রেণি তৈরি করে। মানুষ শোষিত-বঞ্চিত থেকে যায়; কিন্তু একটা এলিট শ্রেণি তৈরি হয়। দুর্নীতিকেই তারা নীতি হিসেবে গ্রহণ করে, যার কুফল সমাজ এবং আমাদের দেশও ভোগ করে। এমনও সময় গেছে আমাদের দেশ বছরের পর বছর দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে একেবারে চ্যাম্পিয়ন হয়ে যাচ্ছে। পুরস্কার না পেয়ে আন্তর্জাতিকভাবে তিরস্কার পাচ্ছে। সেই জায়গা থেকে দেশকে আমরা পরিবর্তন করেছি।
ট্রেন দুর্ঘটনা নিয়ে বিরোধী দলের নেতার বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্ঘটনা দুর্ঘটনাই। কুয়াশার কারণে কসবায় রেল দুর্ঘটনায় কিছু মানুষ মারা গেছে। সঙ্গে সঙ্গে আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। উল্লাপাড়ায় আরেকটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। কিছু মানুষ আহত হয়েছে। এসব দুর্ঘটনার পেছনে কোনো চক্রান্ত বা দূরভিসন্ধি আছে কিনা, তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।
পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রসঙ্গে সংসদ নেতা বলেন, বিশ্বের বহু দেশে পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। শুধু বাংলাদেশ নয়, ভারতেও তিন-চারটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রাশিয়া নির্মাণ করছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে, সব বর্জ্য রাশিয়াই নিয়ে যাবে। এটা নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। তিন স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছি। বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের ট্রেনিং দিয়ে নিয়ে আসছি। এক্সপার্ট আমরা তৈরি করছি। রূপপুরের পর দক্ষিণে একটি দ্বীপ খুঁজছি, সেখানে আরেকটি পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করব। আর রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হচ্ছে, এটা সবচেয়ে আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন। এর চিমনি এতো ফুট উঁচুতে যে, কোনো বাতাস সুন্দরবনে যাবে না। আর বিদ্যুৎকেন্দ্রের ছাই সিমেন্ট ব্যবহারে লাগে। লাইন লেগেছে এই ছাইগুলো নিতে। এতে কোনোভাবেই পরিবেশ নষ্ট হবে না, বরং পাঁচ লাখ গাছ লাগানো হচ্ছে।
বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসিবিরোধী আন্দোলন প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, একজন ভিসি নিয়োগ দিলেই তার বিরদ্ধে আন্দোলন শুরু হয়ে যায়। শিক্ষকরা তাদের স্বার্থের জন্য ছাত্রদের ব্যবহার করবেন কেন? শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা বন্ধ করে ছাত্রদের লেখাপড়া নষ্ট করা হচ্ছে। অনেক কষ্ট করে আমরা সেসনজট বন্ধ করেছি; কিন্তু চক্রান্ত করে সেটা আবার সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে। মুষ্টিমেয় কয়েকজনের জন্য শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করতে দিতে পারি না, আমরা দেব না।

advertisement