advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বিনিয়োগে বড় কর ছাড় পাচ্ছে জাপান

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৭ নভেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৭ নভেম্বর ২০১৯ ০০:১৭
advertisement

নানা ধরনের কর জটিলতা ও ব্যবসায়িক পরিবেশের কারণে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানো যাচ্ছে না। কিন্তু সুমিতমো, নিপ্পন স্টিল, হোন্ডা ও সজিত করপোরেশনের মতো বড় বড় জাপানি কোম্পানি বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী। এবার জাপানি বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে বড় আকারের কর ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সঙ্গে জাপানের রাষ্ট্রদূত নাওকি ইতোর নেতৃত্বে সফররত ব্যবসায়ি প্রতিনিধি দল বৈঠক করেন। বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গতকাল শনিবার প্রায় ৩ ঘণ্টা ধরে চলা বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান অর্থমন্ত্রী।

রাজধানীর শেরেবাংলানগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব আসাদুল ইসলাম, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মনোয়ার আহাম্মেদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আহমেদ জামাল এবং মনিরুজ্জামান।

বৈঠকে জাপান রাষ্ট্রদূতের নেতৃত্বে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন ইন ঢাকা, সুমিতোমো করপোরেশন, মেরুবেনি ও অন্যান্য কোম্পানি, নিপ্পন সিগনাল, টেকেন, মাতারবাড়ি প্রকল্প, ওমেরা গ্যাস ওয়ান, জেট্রো, মারুহিসা, ক্যাট গার্মেন্টের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

জাপানি কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে যে ট্যাক্সসংক্রান্ত সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে জানিয়ে সংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, জাপানি বিনিয়োগকারীদের জন্য ছাড়কৃত ভ্যাট বা ট্যাক্স মূলত ছাড় নয়।

এটা এক ধরনের বিনিয়োগ। কর ছাড়ের এই সিদ্ধান্তগুলো জাপানি কোম্পানিগুলোর ভালো ব্যবসায়িক পরিবেশ পাবে। জাপানি কোম্পানিসহ সব বিদেশি কোম্পানিগুলো তাদের ব্যবসা বাংলাদেশে সম্প্রসারিত করতে পারবে বাংলাদেশে। এতে দেশের রপ্তানি বাড়বে। ফলে একটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে। রাজস্ব আদায়ও বাড়বে।

একই বিষয়ে মত দেন জাপানের রাষ্ট্রদূত নাওকি ইতো। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়নের মাধ্যমে বিনিয়োগ বাড়ানো আমাদের লক্ষ্য। এক্ষেত্রে কিছু সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সেগুলো কাটিয়ে উঠতে পারলে বিনিয়োগ বাড়বে। আর বিনিয়োগ বাড়লে দেশের কর্মসংস্থান ও রপ্তানি আয় বেড়ে যাবে।

মুস্তফা কামাল আরও বলেন, কিছু কিছু জায়গায় ভ্যাট ও রয়ালিটি নিয়ে তাদের অভিযোগ আছে। এগুলো সময়মতো তারা অনেক জায়গায় ক্লেইম করে নাই। সময়মতো ক্লেইম না করার কারণে এগুলো ঝুলন্ত অবস্থায় আছে।

বৈঠকে এনবিআরের চেয়ারম্যান মোশাররফ আশ্বস্ত করেছেন, তাদের (জাপানি) নিয়ে আরেক দিন বসলেই বিষয়গুলো সুরাহা হয়ে যাবে। এ ছাড়া গুরুতর যেসব সমস্যা, সেগুলো প্রসিডিউরাল (প্রক্রিয়াগত), এতে আইনি কোনো জটিলতা নাই বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, যেহেতু আইনি জটিলতা নাই, আমাদের জায়গা থেকে সেগুলো সমাধান করতে পারব। এখান থেকে আমরা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আগামী দিনগুলোতে যেন একই রকম সমস্যা না হয়, সেগুলোকে আমরা যতটা সম্ভব চিহ্নিত করতে পেরেছি।

এ ছাড়াও জাপানিদের অন্য প্রকল্পগুলোতেও যেসব ছোটখাট সমস্যা আছে, সেখানে তাদের করণীয় ও আমাদের করণীয় কী এবং সেগুলো কীভাবে সমাধান করা যায়, সেজন্য আজকে বসেছিলেন বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, জাপানের সঙ্গে যে প্রকল্পগুলো আছে, সবগুলোই সুন্দরভাবে চলছে। কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করি, যে সময় নির্দিষ্ট আছে, সেই সময়ের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। মাতারবাড়ি, মেট্রোরেলসহ সব প্রকল্পেই তারা সন্তুষ্ট।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে মুস্তফা কামাল বলেন, নারায়গঞ্জের আড়াইহাজারে জাপানিদের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল হচ্ছে। সেটার কার্যক্রম নির্ধারিত আছে। প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে সেটা সম্পর্কে নির্দেশনা আমরা মাঝে মাঝেই পাই। এটা অগ্রাধিকার প্রকল্প। আমরা আশা করছি, আড়াইহাজারের অর্থনৈতিক অঞ্চলে জাপানিদের কাছ থেকে বড় বিনিয়োগ আসছে।

জাপানের বড় বিনিয়োগ আসবে আশা করে কামাল বলেন, আমরা অনেক বড় আকারের বিনিয়োগ জাপানের কাছ থেকে প্রত্যাশা করি। জাপানের রাষ্ট্রদূত বলেছেন, আমাদের সব অবকাঠামো ঠিক আছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেও প্রো-অ্যাক্টিভলি কাজ করছেন। জাপানের বিনিয়োগ এ দেশে বাড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী একাধিকবার জাপান সরকারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। আমি আশা করি, প্রত্যাশিতভাবে আগামীতে এ দেশে জাপানের বিনিয়োগ বাড়বে।

তবে কী পরিমাণ বিনিয়োগ তা পরে নির্ধারিত হবে। তিনি বলেন, আমি মনে করি, আমাদের উদ্দেশ্য এক যে, কীভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা যায়, কীভাবে ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করা যায়।

advertisement