advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

তিন দিনেই শেষ ইনিংস ও ১৩০ রানে হার টাইগারদের

ইন্দোর থেকে সাইফুল ইসলাম রিয়াদ
১৭ নভেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৭ নভেম্বর ২০১৯ ০০:১৮
advertisement

ভারতের মাটিতে টেস্টে ভালো ফলের প্রত্যাশা খুব বড় ছিল না মুমিনুল-মুশফিকদের। আশা ছিল ভালো ক্রিকেট খেলার। কোহলিদের বিরুদ্ধে দৃঢ় মনোবলে লড়াই করাই ছিল মূলমন্ত্র। খোদ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতিও বলেছিলেন, একমাত্র প্রত্যাশা ভালো ক্রিকেট খেলার। কিন্তু সে মোতাবেক ভালো ক্রিকেট খেলতে পারেননি লাল সবুজের প্রতিনিধিরা। তাই হারতে হয়েছে খুবই বড় ব্যবধানে। আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে দুই টেস্ট সিরিজের প্রথম টেস্টে ইনিংস ও ১৩০ রানের ব্যবধানে হেরে মাঠ ছাড়তে হয় মুমিনুলদের। তাও তিন দিনের ভেতরেই। ভালো ক্রিকেট তো দূরে থাক ছন্নছাড়া ব্যাটিংয়ে বড় হারের লজ্জা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় টাইগারদের।

ভারতের মধ্যপ্রদেশে ইন্দোরের হল্কার স্টেডিয়ামে হার নিশ্চিত হয়ে যায় প্রথম দিনেই। বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া এই টেস্টে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা ১৫০ রানে অলআউট হয়ে গেলে হার অনেকটা সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়।

প্রশ্ন ছিল কত দিনে গড়াবে এ টেস্ট। বিসিবি প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হবে এ টেস্ট পাঁচ দিনে নিয়ে যাওয়া।

কিন্তু তৃতীয় দিন শেষ হওয়ার আগেই শেষ হয় প্রথম টেস্ট ম্যাচ।

বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে ১৫০ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে ভারত ছয় উইকেটে ৪৯৩ রানে ইনিংস ঘোষণা করে। প্রথম দিনের এক সেশন ও দ্বিতীয় দিন পুরো ব্যাট করে ভারত তোলে ৪৯৩ রান। ওপেনার মায়াঙ্ক আগারওয়ালের ডাবল সেঞ্চুরিতে এ রানের পাহাড় গড়ে। গতকাল তৃতীয় দিন সকালে স্বাগতিকরা আর ব্যাটিংয়ে নামেনি। ৩৯৩ রান পেছনে থেকে মুমিনুলরা ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে। ৫ম ও ষষ্ঠ ওভারে দুই ওপেনার কায়েস-সাদমান ফিরে যান সমান ছয় রান করে। প্রথম ইনিংসেও দুজনই ছয় রান করে আউট হয়েছিলেন। এক ওভারের ব্যবধানে মুমিনুল-মিঠুন ফিরে গেলে লড়াইয়ের মানসিকতাও হারিয়ে যায়। মুমিনুল প্রথম ইনিংসে দুই অঙ্কের (৩৭) মুখ দেখলেও দ্বিতীয় ইনিংসে আউট হন ৭ রানেই।

৪৪ রানে যখন চার উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল বাংলাদেশ তখন ক্রিজে আসেন মিস্টার ডিপেন্ডেবল মুশফিক। ম্যাচের ১২ ওভারের সময় ক্রিজে এসে সাজঘরে ফেরেন ৬৭ ওভারে। মাঝে ৫৫ ওভার ২২৫ মিনিট ধরে লড়াই করেন একা। মুশফিকের ব্যাট কথা না বললে হার আরও আগেই নিশ্চিত হয়ে যেত। মাঝে লিটন দাসের সঙ্গে ৬৩ ও মিরাজের সঙ্গে ৫৯ রানের দুটি জুটি গড়েন। লিটন দাস ৩৯ ও মিরাজ ৩৮ রান করে মুশফিককে রেখে সাজঘরে ফেরেন। লিটন-মিরাজ আউট হয়ে যাওয়ার পর শুধু হারের অপেক্ষা করা ছাড়া কোনো উপায় ছিল না। টেলএন্ডার ব্যাটসম্যানদের নিয়ে মুশফিক আর কতদূরইবা নিয়ে যাবেন। শেষ পর্যন্ত ৬৪ রানে অশ্বিনের বলে ক্যাচ তুলে ফেরেন সাজঘরে। বাংলাদেশের হয়ে এই টেস্টে সর্বোচ্চ রান (১০৭) আসে তার ব্যাট থেকেই। আর কেউ ৫০ রানও করতে পারেননি।

প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও ক্ষুরধার বোলিং করেন ভারতীয় পেসাররা। মোহাম্মদ শামি নেন চার উইকেট। এ ছাড়া অশ্বিন তিনটি, যাদব দুটি ও ইশান্ত নেন একটি উইকেট। এই টেস্টে বাংলাদেশ দলের একমাত্র প্রাপ্তি মুশফিকের ব্যাটে রান ও আবু জায়েদ রাহীর বোলিং। স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপের বিরুদ্ধে একাই যুদ্ধ করেছিলেন রাহী। প্রথম ইনিংসে তিনি চার উইকেট নিয়েছিলেন।

এই হারের মধ্য দিয়ে বিদেশের মাটিতে খেলা সর্বশেষ ৬টি টেস্টের মধ্যে পাঁচটিতেই হারতে হয় ইনিংস ব্যবধানে। কদিন আগে নিজেদের মাটিতেও আফগানিস্তানের বিরুদ্ধেও নাস্তানাবুদ হয়েছে টাইগাররা। এ জন্য বাংলাদেশের কোচ রাসেল ডমিঙ্গোও বলেছেন, কাঠামোয় পরিবর্তন না আনলে হারতেই থাকবে দল। এজন্য তিনি কথা বলবেন দায়িত্বশীলদের সঙ্গে। টেস্ট ক্রিকেটে যাত্রার বয়স ১৯ বছর হলো। আর কতটা সময় পেরোলে দায়িত্বশীলদের টনক নড়বে?

advertisement