advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ক্যাসিনোকাণ্ড ও অবৈধ সম্পদ অর্জন
২০০ জনের তালিকা দুদকে

দুলাল হোসেন
১৭ নভেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৭ নভেম্বর ২০১৯ ০১:৩৫
advertisement

ক্যাসিনোকা-, টেন্ডারবাজ, চাঁদাবাজ, ঘুষ ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ২০০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এর মধ্যে দেড় শতাধিক অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান করেছে দুদক। বাকিদের অভিযোগের অনুসন্ধানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। দুদক থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

দুদকের তথ্যমতে, চলতি বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর র‌্যাব রাজধানীর ফকিরাপুল ও মতিঝিল এলাকায় অভিযান চালিয়ে ক্লাবগুলোয় ক্যাসিনো ও জুয়ার আসর পরিচালনার অভিযোগে যুবলীগের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েক নেতাকর্মীকে আটক করে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। এ জন্য পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। দুদক প্রথমে ৪৩ জনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান পরিচালনার কথা জানায়। পরে এই তালিকা বাড়তে থাকে। বর্তমানে দুদক ২০০ জনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ১৫০ জনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে। তাদের মধ্যে ৩৪ জনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

দুদকের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ক্যাসিনো, টেন্ডারবাজি, সন্ত্রাস, ঘুষ-দুর্নীতির ঘটনায় সন্দেহভাজনদের ব্যাংক হিসাব, ব্যাংকের লকার, সঞ্চয়পত্র, শেয়ারে বিনিয়োগ, বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানসহ নামে-বেনামে থাকা সব ধরনের সম্পদের ওপর নজরদারি হচ্ছে। এ তালিকা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। আমরা এ পর্যন্ত ২০০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছি। ২০০ জনের তালিকায় সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী, ঠিকাদার, প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন জনের নাম রয়েছে। এসব অভিযোগ অনুসন্ধান করা হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) চার শতাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করে। বিষয়টি জানার পরই এসব ব্যাংক অ্যাকাউন্টের লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য চেয়ে দুদকের মহাপরিচালক (বিশেষ তদন্ত) দপ্তর থেকে বিএফআইইউর মহাব্যবস্থাপককে চিঠি দেওয়া হয়েছে। সেসব ব্যাংক অ্যাকাউন্টের পুরো তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। আমাদের এখানে যে ২০০ জনের নাম এসেছে, তাদের নাম বাংলাদেশ ব্যাংকের ৪০০ জনের তালিকায় আছে।

জানা গেছে, অভিযুক্তের তালিকায় যাদের নাম রয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন সংসদ সদস্য নূরুন্নবী চৌধুরী শাওন, নজরুল ইসলাম বাবু, চট্টগ্রামের সাংসদ ও হুইপ সামশুল হক চৌধুরী এবং সুনামগঞ্জ-১ আসনের সাংসদ মোয়াজ্জেম হোসেন, যুবলীগের সাবেক চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, তার স্ত্রী শেখ সুলতানা রেখা, ছেলে আবিদ চৌধুরী, মুক্তাদির চৌধুরী, ইশতিয়াক আহমেদ চৌধুরী, আজিজ মোহাম্মদ ভাই, অনলাইন ক্যাসিনো সম্রাট সেলিম প্রধান, যুবলীগের জিকে শামীম, খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া, ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিণের সাবেক সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট, যুবলীগ দক্ষিণের যুগ্ম সম্পাদক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোমিনুল হক সাঈদ, ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর তারিকুজ্জামান রাজীব, ৩২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান, কৃষক লীগ নেতা কলাবাগান ক্লাবের সভাপতি শফিকুল আলম ফিরোজ, যুবলীগ দক্ষিণের সহসভাপতি এনামুল হক আরমান, যুবলীগের বহিষ্কৃত দপ্তর সম্পাদক কাজী আনিসুর রহমান আনিস, ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম, ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের আবুল কালাম, মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের পরিচালক লোকমান হোসেন ভূঁইয়া, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা আবু কাওছার ও তার স্ত্রী-সন্তান এবং তাদের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান লেক ভিউ প্রোপার্টিজ ও রাও কনস্ট্রাকশন, যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুর রহমান মারুফ, তার স্ত্রী সানজিদা রহমান, তাদের দুটি প্রতিষ্ঠান টি-টোয়েন্টি ফোর গেমিং কোম্পানি লিমিটেড ও টি-টোয়েন্টি ফোর ল ফার্ম লিমিটেড, স্বেচ্ছাসেবক লীগের অর্থ সম্পাদক কেএম মাসুদুর রহমান ও তার স্ত্রী এবং তাদের প্রতিষ্ঠান সেবা গ্রিন লাইন লিমিটেড; যুবলীগ নেতা মুরসালিন আহমেদ, তার বাবা-মা ও স্ত্রী, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক এমডি প্রশান্ত কুমার হালদার, গণপূর্ত অধিদপ্তরের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম ও তার স্ত্রী, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবদুল হাই ও তার স্ত্রী, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান মুন্সী ও তার স্ত্রী, বর্তমান অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী উৎপল কুমার দে, নির্বাহী প্রকৌশলী ফজলুল হক, শওকত উল্লাহ, প্রকৌশলী স্বপন চাকমা, রোকন উদ্দিন, আবদুল কাদের চৌধুরী, আফসার উদ্দিন, আবদুল মোমেন চৌধুরী, ইলিয়াস আহমেদ, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী প্রধান মুমিতুর রহমান এবং গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাজ্জাদুল ইসলাম।

advertisement