advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

পেঁয়াজ মাখানো লেখা

ইশতিয়াক আহমেদ
১৭ নভেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৭ নভেম্বর ২০১৯ ০০:২১
advertisement

পেঁয়াজের দাম কে কমাতে পারে- এটা বেশ কয়েক জনকে জিজ্ঞেস করেছিলাম। কেউ বলে মন্ত্রী, কেউ বলে পুলিশ, কেউ বলে পেঁয়াজের গোডাউন যে এলাকায় সেখানকার এমপি।

সবচেয়ে ভালো বলেছে ভ্যানচালক হাশেম। তার মতে, শাকিব খান ছাড়া আর কেউ পারবে না। কথা শুনে বেশ নড়েচড়ে বসেছিলাম। পরে ভাবলাম, ঠিকই আছে। পেঁয়াজের দাম যেভাবে বাস্তবের বাইরে চলে গিয়ে কল্পনার জগতে চলে যাচ্ছে, সে ক্ষেত্রে এমন কল্পনানির্ভর ভাবনা অমূলক নয়।

শাকিব খান সব অসাধু ব্যবসায়ীর সঙ্গে মারপিট করে পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল করছেন- এই ভাবনা ভেবে দেখলাম, আমার নিজেরও ভালো লাগছে। হাশেমের কী দোষ।

এই কথা শুনে আমার বন্ধু মামুন বলে, প্রয়োজনে আরও দুই-তিনটা নায়ক পাঠিয়ে দে শাকিবের সঙ্গে, তবু পেঁয়াজের দাম কমা। আর পারছি না।

সে পেঁয়াজের দাম কমানো নিয়ে এতটাই অস্থির হয়ে উঠেছে, এখন সে তান্ত্রিক চিকিৎসা কিংবা জ্যোতিষের বিজ্ঞাপন দেখলেও খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়ে- দাম্পত্য কলহ, ব্যবসায় উন্নতি, বিপদ থেকে রক্ষার পাশাপাশি পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার কোনো অফার আছে কিনা? হতাশ হয়। এক তান্ত্রিকের কাছে গিয়েছিলও সে।

তান্ত্রিক তাকে সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এসব হবে না। পেঁয়াজের দাম কমাতে পারলে কি এই কাজ করতাম? শুনে আরও হতাশ সে। পেঁয়াজের দাম মনটাকে এমনভাবে ভারাক্রান্ত করে রেখেছে, এর থেকে বের হওয়ার কোনো উপায় নেই। বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে প্রথম টি-টোয়েন্টি জিতেছে আনন্দ করতে করতে মনে হলো পেঁয়াজের দাম দুইশ। মনটাই খারাপ হয়ে গেল। ব্রাজিলের সঙ্গে আর্জেন্টিনা জিতেছে বিশাল আনন্দ নিয়ে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার সময় মনে হলো পেঁয়াজের দাম দুইশ বিশ।

মনটা আরও বেশি খারাপ হয়ে গেল। এ জন্য আর কোনো আনন্দের খবরের কাছে যাই না। নানাভাবে সমাধান খুঁজি। মানুষকেও সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করি। যেমন দু-তিন দিন আগে এক ছোট ভাই বললÑ ভাই, পেঁয়াজের এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় কী?

বললাম, পেঁয়াজ পচিয়ে ফেলতে হবে। মানে? কী বলেন এইসব?

বললাম, ঠিকই বলি। দেশের মানুষ যদি হাতেগোনা কয়েকটা দিন পেঁয়াজ না খেয়ে, আড়তদার, অতিমুনাফালোভী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে পেঁয়াজ পচানো মুভমেন্টে অংশ নিত, তা হলে পানির দামে চলে আসত পেঁয়াজ।

সে বলল, ভাই, বর্জন করতে চাই কিন্তু পারছি না।

জানতে চাইলাম, কেন?

লজ্জা নিয়ে বলল, দামের ভয়ে মজুদ করে রেখেছিলাম। শেষ হচ্ছে না। আপনি করেছেন?

বললাম, হুম।

সে জানতে চাইল, পেঁয়াজ কিনে রাখেননি?

রেখেছিলাম।

তা হলে সেগুলো কি পচে যাচ্ছে?

বললাম, নাহ। ইচ্ছে করেই খোলা জায়গায় রেখেছিলাম। বাসার দুই বুয়া নিয়মিত অল্প করে নিতে নিতে এখন প্রায় শেষের পথে।

আমরা আর কথা বাড়াতে পারলাম না। কারণ বর্জন সমাধান না। কখনো পানির দাম বাড়লে কীভাবে পানি বর্জন করে থাকব?

পেঁয়াজ আক্ষরিক অর্থেই চোখে পানি আনার কাজ করে। সেটা আগে খোসা ছাড়াতে হতো, এখন আর হয় না। দেখলেই চোখে পানি চলে আসে।

আমার পরিচিত এক ছোট ভাইয়ের ভাবি গেছে কলকাতায়। কী আনবে ভেবে পাচ্ছে না। বুদ্ধি দিলাম, বিশ কেজি করে দুইজন লাগেজে চল্লিশ কেজি পেঁয়াজ নিয়ে আসেন।

এই ট্যুরের টিকিটের টাকা তো উঠে যাবেই, আরও কোথাও যাওয়ার টিকিট কিনতে পারবে।

তারা পেঁয়াজ এনেছিল কিনা জানি না, তবে দেখে অবাক হচ্ছি মাত্র কদিনের ব্যবধানে তারা আবার থাইল্যান্ড ঘুরতে গেছে। পাতায়া সি-বিচ থেকে চেকইন দিচ্ছে, পৃথিবীর পেঁয়াজের মতো একটু অন্যরকম গোল।

advertisement
Evall
advertisement