advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বেসরকারি বিনিয়োগ খাত লাভবান হবে : লন্ডন স্টকে বাংলা বন্ড

১৭ নভেম্বর ২০১৯ ০০:০০
আপডেট: ১৭ নভেম্বর ২০১৯ ০০:০৫
advertisement

আমাদের অর্থনীতির অগ্রগতির একটি বলিষ্ঠ প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করা যায় লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে বাংলা বন্ড চালু হওয়ার ঘটনাটিকে। এই বন্ড দেশীয় মুদ্রায় লেনদেন হবে। এটি মূলত বাংলাদেশের বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) বাংলাদেশ সরকারের অনুমোদনে লন্ডন স্টকে ছেড়েছে। এই ছাড়ার অল্পদিনের মধ্যে সংস্থাটি ১ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করেছে যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৬৩ কোটি ৪০ লাখ টাকার সমান। অর্থ সংগ্রহের এই ধারা নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক। বাংলাদেশের অর্থনীতিকে গতিশীল ও টেকসই করতে হলে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। বর্তমানে দেশে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ হার জিডিপির ২৩ শতাংশ। কিন্তু মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার লক্ষ্য পূরণে এই হার অন্ততপক্ষে ৩০ শতাংশে তুলতে হবে। সেদিক থেকে বাংলা বন্ড একটি বড় ধরনের সহায়ক শক্তি হবে। জানা যাচ্ছে, আইএফসি তাদের সংগৃহীত প্রাথমিক তহবিল থেকে ৮০ কোটি টাকা ঋণ দেবে দেশের বর্ধিষ্ণু বেসরকারি সংস্থা প্রাণ গ্রুপকে। তারা এ অর্থ খাদ্যপণ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং গ্রামাঞ্চলে এর সুষ্ঠু বাজারজাতকরণ সম্প্রসারণে ব্যয় করবে বলে জানিয়েছে। এভাবে অন্যান্য সম্ভাবনাময় শিল্প প্রতিষ্ঠানও এখান থেকে ঋণ পাবে।

আমাদের বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ ও প্রবৃদ্ধি ধীরগতি এবং অধিকাংশ ঋণখেলাপি কিংবা যে কোনোভাবে মন্দ ঋণে পরিণত হওয়ার একটি বড় কারণ ব্যাংক ঋণের সুদের হার। দেশীয় ব্যাংক ঋণে সুদের মেয়াদভেদে ১১ থেকে ১৪ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করে। কিন্তু আইএফসির ঋণের সুদের হার ৯ দশমিক ৭ শতাংশ। আশা করা যায়, এই হারে ঋণ পেলে দেশে ঋণখেলাপির সংস্কৃতিরও অবসান হবে। আবার এতে প্রতিযোগিতায় পড়ে দেশীয় ব্যাংকগুলোও তাদের ঋণের সুদহার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সিঙ্গেল ডিজিট আর দশের নিচে নামিয়ে আনার বিষয় ভাববে। তাতে দেশের শিল্পায়ন ও সেবা খাতের বিকাশ ত্বরান্বিত হবে বলে আশা করা যায়।

লন্ডন স্টক মার্কেটে বাংলা বন্ড টাকায় ছাড়ার ফলে বাংলাদেশি মুদ্রা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতি লাভ করবে। একটি বিকাশমান অর্থনীতির দেশ হিসেবে এতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হবে। এর পরবর্তী ধাপ হতে পারে আমাদের সরকার কর্তৃক সভারেন বন্ড ছাড়ার সম্ভাবনা বাড়বে। কেবল লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জেই নয়, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্টক মার্কেটেও বাংলা বন্ড ছাড়ার বিষয়টি একদিন বাস্তব হবে। তবে সবকিছু নির্ভর করবে সরকারের সঠিক নীতি ও সময়োচিত উদ্যোগ এবং বেসরকারি খাতের ধারাবাহিক অগ্রগতি ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার ওপর। যে কোনো গতিশীল প্রাণবন্ত অর্থনীতির প্রাণ হলো তার বেসরকারি খাত। বাংলাদেশকেও এ খাতের সব অনিয়ম, দুর্নীতি ছাপিয়ে সুষ্ঠু ধারায় দাঁড়াতে হবে। আমরা মনে করি বাংলা বন্ড আমাদের বেসরকারি খাতের বিকাশে একটি নতুন পর্বের সূচনা করতে পারে।

advertisement