advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সরকারের তৎপরতা জরুরি : এমন নির্মম নির্যাতন কেন

১৭ নভেম্বর ২০১৯ ০০:০০
আপডেট: ১৭ নভেম্বর ২০১৯ ০০:০৫
advertisement

সৌদি আরবে নিয়োগকর্তার নির্যাতনের শিকার হয়ে ফেসবুকে জীবন বাঁচানোর আকুতি জানানো সেই সুমি আক্তার ফিরেছেন। তার ওই আকুতির ভিডিও ভাইরাল হলে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। শেষ পর্যন্ত শুক্রবার সকালে তিনি দেশে ফেরেন। কর্মস্থলে তার ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হতো। হাতের তালুতে গরম তেল ঢেলে দিত এবং কক্ষে আটকে রাখা হতো। অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথম মালিক তাকে না জানিয়ে ইয়ামেন সীমান্ত এলাকার নাজরানের এক ব্যক্তির কাছে প্রায় ২২ হাজার রিয়ালে বিক্রি করে দেয়। ওই মালিকও তাকে নির্যাতন করত। দেশে ফিরে সেসব দিনের নির্মম নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছেন সুমি। মধ্যপ্রাচ্যে প্রবাসী কর্মজীবী নারীর ওপর যৌন হয়রানিসহ নানা বৈষম্য বছরের পর বছর ধরে চলছে। বলার অপেক্ষা রাখে না দারিদ্র্য, বেকারত্ব, ব্যবসায়িক ক্ষতি ইত্যাদি থেকে মুক্তি পেতে বেশি উপার্জন ও নিশ্চিত সচ্ছল জীবনের স্বপ্নই তাদের অভিবাসনের মূল কারণ। কিন্তু অনেকের ওই আকাক্সক্ষা পূর্ণ হয়, আবার অনেকেই ফেরেন তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে।

ফিরে আসা নারীদের অভিজ্ঞতা কমবেশি একইরকম। তারা শারীরিক-মানসিক নির্যাতন, এমনকি যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন দিনের পর দিন। তাদের ভাষ্যÑ সৌদি পরিবারগুলো আকারে বেশ বড়। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিরতিহীন কাজ করতে হয়েছে তাদের। বিদেশে যারা যাচ্ছেন, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে হবে। এটি বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। কিন্তু সৌদি আরবে কী হয় জেনেও তারা মুখ বুজে আছেন। বিষয়টি দুঃখজনক। নির্যাতিত নারী কর্মীরা স্থানীয় পুলিশ, বাংলাদেশ দূতাবাস ও স্বদেশি পুরুষ কর্মীদের সহায়তায় কর্মস্থল ত্যাগ করছে, পরে দেশে ফিরছে। এ বিষয়ে আগেই ভাবা উচিত ছিল সরকারের; ভাবেনি। এখন তাদের তৎপর হওয়া অতি জরুরি। অবস্থাদৃষ্টে আমাদের দাবি, এমন দেশে আমাদের নারীদের কর্মী হিসেবে পাঠানো বন্ধ হোক। একই সঙ্গে যা ঘটেছে এবং ঘটছে তার তদন্ত দাবি করা হোক সৌদি সরকারের কাছে, যাতে অপরাধী শাস্তি পায়।

advertisement