advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

রাজস্ব আয়ের প্রধান খাত হবে আয়কর

আবু আলী
১৭ নভেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৭ নভেম্বর ২০১৯ ০০:১২
advertisement

বাংলাদেশের রাজস্ব আদায়ের ধরন বদলে যাচ্ছে। স্বাধীনতার পর রাজস্ব আদায় ব্যবস্থা ছিল শুল্কনির্ভর। কয়েক বছর ধরে এ ধারা পরিবর্তন হচ্ছে রাজস্ব আদায়ে। এখন রাজস্ব আহরণে শীর্ষে উঠে এসেছে ভ্যাট। স্বাধীনতার পর সিংহভাগ রাজস্ব আহরণ হতো শুল্ক খাত থেকে। সামান্য আয় হতো আয়কর খাত থেকে। ১৯৯১-৯২ অর্থবছরে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান প্রথমবারের মতো দেশে মূসক আইন চালু করেন। তখন থেকে রাজস্ব আদায়ের ধরনে পরিবর্তন আসে। পরবর্তী সময়ে বিশ্বায়নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশে রাজস্ব আদায়ের সংস্কৃতিতে বড় পরিবর্তন আসতে শুরু করে। এর পর বর্তমান সরকার ২০১২ সালে ভ্যাট আইনে পরিবর্তন আনে। চলতি অর্থবছর থেকে নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর হয়েছে। আগামীতে রাজস্ব আহরণের সংস্কৃতিতে আরও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। আগামীতে রাজস্ব আহরণে শীর্ষে উঠে আসছে আয়কর খাত।

জানা গেছে, ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরে প্রথম বাজেট দেন তৎকালীন অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ। আলোচ্য অর্থবছরে এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৬৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৬৯ কোটি ৯৬ লাখ টাকা ছিল আমদানি শুল্কের লক্ষ্যমাত্রা এবং আবগারি শুল্ক আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৯ কোটি ১৮ লাখ টাকা। আয়কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১০ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। তবে ঠিক ৪৩ বছর পর আয়করই রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রার শীর্ষে উঠে আসে। অর্থাৎ চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেটে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ৭৬ হাজার ৩৭১ কোটি টাকা। এর মধ্যে আয়কর খাতে ৬৫ হাজার ৯৩২ কোটি, মূল্য সংযোজন কর (মূসক) খাতে ৬৩ হাজার ৯০২ কোটি এবং শুল্ক থেকে ৪৬ হাজার ৫৩৬ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। আর চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়িত হচ্ছে। ফলে এ বছর শীর্ষে উঠে এসেছে ভ্যাট।

জানা গেছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ভ্যাট থেকে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকা; আয়কর খাত থেকে ধরা হয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা; আর বাকি আয় আসবে শুল্ক ও অন্যান্য খাত থেকে।

এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০০০-০১ অর্থবছরে এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৮ হাজার ৭৭৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে আমদানি শুল্ক আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ হাজার ১০০ কোটি, মূসকের ৬৩ হাজার ৩৭৯ কোটি ৮০ লাখ, সম্পূরক শূল্কের ৩ হাজার ৩৬৯ কোটি, আবগারি শুল্কের ২৭৫ কোটি এবং আয়কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

১৯৯১-৯২ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ হাজার ৩৪৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে আমদানি শুল্ক আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ হাজার ৭৪৬ কোটি টাকা, যা মোট রাজস্বের ৩৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ। মূসক আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৭৩৫ কোটি ২৭ লাখ টাকা, যা মোট রাজস্বের ২৩ দশমিক ৬১ শতাংশ। আবগারি শুল্ক আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা, যা মোট রাজস্বের ১৯ দশমিক ০৯ শতাংশ। আয়কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ২৯৪ কোটি টাকা, যা মোট রাজস্বের ১৭ দশমিক ৬০ শতাংশ। আর বাকি ২ দশমিক ৩১ শতাংশ ছিল অন্যান্য খাতের। ১৯৯০-৯১ অর্থবছরে এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬ হাজার ১৫২ কোটি টাকা।

advertisement