advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে লেনদেন সাড়ে ১৮ হাজার কোটি টাকা

হারুন-অর-রশিদ
১৭ নভেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৭ নভেম্বর ২০১৯ ০০:১৩
advertisement

যেখানে ব্যাংকের শাখা নেই- সেখানে আর্থিক লেনদেন সেবা দিতে চালু করা হচ্ছে এজেন্ট ব্যাংকিং বুথ। প্রযুক্তিনির্ভর ঝামেলাবিহীন এজেন্ট ব্যাংকিং দ্রুত সারাদেশে সেবা ছড়াচ্ছে। নাগালের কাছে সহজেই মানুষ ব্যাংকিং সেবা নিতে পারছে। সেবাবঞ্চিত মানুষদের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে জমার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ১৬৯ কোটি টাকা। এই ক্ষুদ্র পরিসরের সেবা মাধ্যম থেকে ঋণ দেওয়া হয়েছে ৩০৫ কোটি টাকা। এ ছাড়া রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা। সব মিলিয়ে জুলাই-সেপ্টেম্বরে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৪১১ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।

ব্যাংকিং সেবা বঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে কম খরচে সেবার আওতায় আনতে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের পর এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা চালু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে এজেন্ট ব্যাংকিং নীতিমালা জারির পরের বছর ব্যাংক এশিয়া প্রথমে এ সেবা চালু করে। এজেন্ট পয়েন্ট থেকে আমানত সংগ্রহ, ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণ, সুবিধাভোগীর কাছে রেমিট্যান্সের অর্থ পৌঁছে দেওয়া, ইউটিলিটি বিল পরিশোধ, সামাজিক নিরাপত্তা আওতায় ভাতাভোগীকে অর্থ প্রদান, অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স জানা, অ্যাকাউন্ট ফরম সংগ্রহ, ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ডের আবেদন ফরম এবং চেকবই সংগ্রহ করতে পারেন গ্রাহকরা। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৯টি ব্যাংকে এজেন্ট ব্যাংকিং চালু করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনের তথ্যানুসারে, গ্রাহকদের সেবা দিতে ব্যাংকগুলো সারাদেশে ৬ হাজার ৫৩১টি এজেন্ট এবং ৯ হাজার ৩৯১টি আউটলেট বুথ স্থাপন করেছে।

চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হিসেবে এজেন্ট ব্যাংকিং হিসাব খুলেছেন ৩৯ লাখ ৬৪ হাজার ৩৪৬ জন। আগের বছরের একই সময়ে হিসাবধারীর সংখ্যা ছিল ২০ লাখ ২৮ হাজার ৮৬৪ জন। অর্থাৎ এক বছরে গ্রাহক সংখ্যা বেড়ে দ্বিগুণ। এই গ্রাহকদের অ্যাকাউন্ট জমার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ১৬৯ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে এই জমার পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৫৭৭ কোটি টাকা। জমার পরিমাণ বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি।

এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে সবচেয়ে বেশি ৩ হাজার ১৯৫টি আউটলেট রয়েছে ব্যাংক এশিয়ার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩ হাজার ১২৩ আউটলেট ডাচবাংলা ব্যাংকের। এ ছাড়া ইসলামী ব্যাংকের ৬৪৬টি, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের ৫৬৯টি, মধুমতি ব্যাংকের ৩৫০টি, আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ২৪৪টি, অগ্রণী ব্যাংকের ২০০টি আউটলেট রয়েছে। তবে হিসাব সংখ্যার দিক থেকে শীর্ষে ডাচবাংলা। এই ব্যাংকে হিসাব সংখ্যা ১৭ লাখ ৩৮ হাজার ২৮৬টি। এ ছাড়া সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৪৪৮ কোটি টাকা জমা আছে আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকে। এ ছাড়া ডাচবাংলা ব্যাংকে ১ হাজার ৪৪৪ কোটি, ব্যাংক এশিয়ায় ১ হাজার ১১০ কোটি, ইসলামী ব্যাংকে এজেন্ট ব্যাংকিং হিসাবে জমার পরিমাণ ১ হাজার ১৪৪ কোটি টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ৩০৫ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। আগের বছর একই সময়ে ঋণের পরিমাণ ছিল ১৫০ কোটি টাকা। অর্থাৎ ঋণ বিতরণ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ১৯টি ব্যাংকের মধ্যে ৮টি ব্যাংক ঋণ বিতরণ শুরু করেছে। ঋণের মধ্যে ২৩১ কোটি টাকাই দিয়েছে ব্যাংক এশিয়া। এ ছাড়া দি সিটি ব্যাংক ৩৬ কোটি, ব্র্যাক ব্যাংক ২০ কোটি, আল আরাফাহ ৬ কোটি, ডাচবাংলা ৫ কোটি ও মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ৬ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে।

এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে রেমিট্যান্স বিতরণ প্রায় ৩ গুণ বেড়েছে। চলতি বছরের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ১১ হাজার ৯৩৭ কোটি টাকা রেমিট্যান্স দেওয়া হয়েছে। আগের বছরের সেপ্টেম্বরে যা ছিল ৪ হাজার ৪৬৩ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স সরবরাহ বেড়েছে ১৬৭ শতাংশ। রেমিট্যান্স বিতরণে শীর্ষে ডাচবাংলা। এই ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স বিতরণ হয়েছে ৪ হাজার ৪৭৫ কোটি টাকা। এ ছাড়া ব্যাংক এশিয়ার এজেন্টরা ৩ হাজার ১৪৬ কোটি, আল আরাফাহ ব্যাংকের এজেন্ট ১ হাজার ৫৭১ কোটি, ইসলামী ব্যাংকের এজেন্টরা ১ হাজার ৭৮২ কোটি, অগ্রণী ব্যাংকের এজেন্টরা ৫৯৪ কোটি টাকা রেমিট্যান্স বিতরণ করেছে।

advertisement