advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

রাজবাড়ীতে পেঁয়াজ আবাদে আগ্রহ কম চাষিদের

মো. রফিকুল ইসলাম রাজবাড়ী
১৭ নভেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৭ নভেম্বর ২০১৯ ০০:০৬
advertisement

নানা কারণে পেঁয়াজ উৎপাদনকারী জেলা রাজবাড়ীর চাষিরা পেঁয়াজ আবাদে আগ্রহ হারাচ্ছেন। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে পেঁয়াজের মৌসুমে ক্ষেত থেকে পেঁয়াজ তুলে ন্যায্যমূল্য না পাওয়া, মৌসুমেই পেঁয়াজ আমদানি করা এবং ব্যাংকঋণ পেতে হয়রানির শিকার হওয়া। ফলে এ বছরও অনেক কৃষক আগের চেয়ে কম জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করেছেন। যদিও কৃষি কর্মকর্তা এবার জেলায় পেঁয়াজ উৎপাদন বাড়বে বলে দাবি করেছেন। তারা কৃষকদের কৃষি প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন।

জেলার দৌলতদিয়া, উজানচর, খানখানাপুর, বসন্তপুর, মূলঘর, বাণিবহ, বরাট, বহরপুর, নবাবপুর, নলিয়াজামালপুর, বালিয়াকান্দি, জঙ্গল, নারুয়া, মৃগী, শাওরাইল, কালীকাপুর, বতনদিয়া, মাছবাড়ী, বোয়ালিয়া, মৌরাট, শরিষা, কলিমরহ, মাছপাড়া পেঁয়াজ চাষের জন্য প্রসিদ্ধ। এসব এলাকার কৃষকের আয়ের প্রধান উৎস পেঁয়াজ চাষ। প্রতিবছর রেকর্ড পরিমাণ পেঁয়াজ উৎপাদন হয়। এসব পেঁয়াজ সরবরাহ করা হয় ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায়।

গোয়ালন্দ উপজেলার চর দৌলতদিয়া দুলাল বেপারীপাড়া গ্রামের পেঁয়াজচাষি আবদুল কুদ্দুস জানান, এক বিঘা জমিতে মূলকাটা পেঁয়াজ চাষ করতে ৪৫ হাজার টাকা খরচ হয়। গত বছর অকালবৃষ্টির কারণে অনেক কৃষকেরই ক্ষেতের পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যায়। আবার পেঁয়াজের মৌসুমে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করে বাজার ছয়লাভ হওয়ায় কৃষকরা পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য পাননি।

ফলে চলতি বছর অনেকেই পেঁয়াজ চাষের জমির পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন।

বালিয়াকান্দি উপজেলার শালমারা গ্রামের আকু শেখ জানান, পেঁয়াজ চাষে ব্যাংক লোন পেতে নানা প্রকার হয়রানির শিকার হতে হয়। প্রতিবছর শতাধিক মণ পেঁয়াজ উৎপাদন করলেও বারবার লোকসান গোনায় এবার খুব কম জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করা হয়েছে।

কালুখালী উপজেলা সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সুজিত কুমার নন্দী জানান, উপজেলার ১২ হাজার ৭৩০ হেক্টর আবাদি জমির মধ্যে ৬ হাজার ২৮০ হেক্টরে পেঁয়াজ চাষ করা হয়। এখানকার ৬০ শতাংশ জমিতেই পেঁয়াজ চাষ করা হয়। তিনি আরও জানান, মৃগী ও রতনদিয়া ইউনিয়নের দুজন কৃষককে ৬০০ কেজি করে পেঁয়াজের বীজ বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়েছে। এ ছাড়া উপজেলার ৯০ জন চাষিকে আধা কেজি করে পেঁয়াজের দানা ও প্রয়োজনীয় সার বিনামূল্যে দেওয়া হবে।

রাজবাড়ীর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. ফজলুল রহমান জানান, জেলায় পাঁচ শতাধিক কৃষকের মধ্যে পেঁয়াজের বীজ বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে। অতীতে কখনো পেঁয়াজের দানা দেওয়া হয়নি। তিনি আরও জানান, জেলায় গত বছরের চেয়ে পেঁয়াজের দাম ভালো থাকায় এবার আবাদও বৃদ্ধি পেয়েছে।

advertisement