advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

মানিকগঞ্জে পাতাসহ পেঁয়াজের কেজি ৬০ টাকা

আশরাফুল আলম লিটন মানিকগঞ্জ
১৭ নভেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৭ নভেম্বর ২০১৯ ০০:০৬
advertisement

সিংগাইরে আগাম জাতের পেঁয়াজ চাষ করে লাভবান হচ্ছেন চাষিরা। এ পেঁয়াজ স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে চলে যাচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলার বাজারে। ভালো দাম পাওয়ায় অপরিপক্ব পেঁয়াজ উঠিয়েই বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। তবে কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, অপরিপক্ব হলেও এসব পেঁয়াজের খাদ্যমান ভালো।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশে যখন পেঁয়াজ নিয়ে অস্থিরতা চলছে, তখনই সিংগাইরে বাজারে উঠতে শুরু করেছে নতুন পেঁয়াজ। পুরনো পেঁয়াজ ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও স্থানীয় পেঁয়াজ পাতাসহ বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি। ভালো দাম পাওয়ায় অপরিপক্ব পেঁয়াজই বাজারে বিক্রি করছেন চাষিরা। বিঘাপ্রতি ৩০-৩৫ হাজার টাকা খরচ করে তারা ৪০-৪৫ হাজার টাকা লাভ করছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সিংগাইর উপজেলার কয়েকটি গ্রামে আগাম জাতের পেঁয়াজের আবাদ করা হয়েছে। এ অঞ্চলে চলতি মৌসুমে পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৫০ হেক্টর। ইতোমধ্যে প্রায় ৮০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে।

উপজেলার কাংশারচর গ্রামের চাষী ওয়াহাব জানান, তিনি দুই বিঘা জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করেছেন। আশি^ন মাসে তিনি এ পেঁয়াজ রোপণ করেছেন। জমি তৈরি, সার, বীজ, কীটনাশক, সেচ সব মিলিয়ে বিঘাপ্রতি জমিতে খরচ হয়েছে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। দুই সপ্তাহ ধরে তিনি বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি করছেন। সব খরচ বাদ দিয়ে এ মৌসুমে তিনি ৪০-৪৫ হাজার টাকা লাভ করতে পারবেন।

নয়াডাঙ্গী গ্রামের কৃষক কেরামত আলী জানান, এ বছর এক বিঘা জমিতে তিনি পেঁয়াজ চাষ করেছিলেন। বাজারে ভালো দাম থাকায় এবার আগেভাগেই ক্ষেত থেকে পেঁয়াজ তুলছেন। অর্ধেক জমির পেঁয়াজ প্রায় ৫০ হাজার টাকা বিক্রি করেছেন। পেঁয়াজের ভালো দামে তিনি বেশ খুশি।

একই গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম জানান, বর্তমানে পুরনো পেঁয়াজের দাম চড়া হলেও তাদের আবাদকৃত পাতাসহ পেঁয়াজ বাজারে ৬০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। তিনি আরও জানান, এ এলাকার পেঁয়াজ আরও ২৫ দিন পর ওঠানোর কথা ছিল। কিন্তু বাজারে ভালো দাম থাকায় তারা অপরিপক্ব পেঁয়াজই বিক্রি করছেন।

আজিমপুর গ্রামের কৃষক জুনাব আলী জানান, মানিকগঞ্জের অন্যান্য উপজেলার চেয়ে সিংগাইর এলাকা অনেকটাই উঁচু। বন্যার পানি দেরিতে নামায় ওইসব এলাকায় এখন পেঁয়াজ চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন কৃষকরা। আমাদের এখানকার পেঁয়াজ বাজারে উঠতে শুরু করেছে

জয়ম-প সবজি বাজারের ব্যবসায়ী জয়নাল মিয়া জানান, উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে কৃষকরা পাতাসহ পেঁয়াজ এই বাজারে নিয়ে আসেন। এখান থেকে এসব পেঁয়াজ ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় চলে যাচ্ছে।

সিংগাইর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা টিপু সুলতান স্বপন জানান, অস্থির বাজারে দেশীয় পেঁয়াজের জোগান এটা ভালো একটা দিক। মানুষ কম দামে পেঁয়াজ কিনতে পারছে। কৃষকরাও লাভবান হচ্ছেন। তা ছাড়া পাতা পেঁয়াজ ওঠানোর পর কৃষকরা সেই জমিতে আবার পেঁয়াজ চাষ করবেন। তাই পেঁয়াজ উৎপাদনে লক্ষ্যমাত্রা পূরণে কোনো ব্যাঘাত ঘটবে না।

advertisement