advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ঢাকা ও সাতক্ষীরা থেকে ৬ জঙ্গি গ্রেপ্তার
‘লোন উলফ’ হামলার জন্য জড়ো হয়েছিল তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৭ নভেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৭ নভেম্বর ২০১৯ ০১:৪০
র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে গ্রেপ্তার ৬ জঙ্গি -আমাদের সময়
advertisement

নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের ছয় সদস্যকে ঢাকার উত্তরা ও সাতক্ষীরার শ্যামনগর থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। গত শুক্রবার থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বিপুল পরিমাণ উগ্রবাদী বইসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আলামতও উদ্ধার করা হয়েছে তাদের কাছ থেকে। র‌্যাব বলছে, একাকী হামলা- ‘লোন উলফ’ চালানোর জন্য উত্তরায় জড়ো হয়েছিল তারা।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- শফিকুল ইসলাম ওরফে সাগর ওরফে সালমান মুক্তাদির, ইলিয়াস হাওলাদার ওরফে খাত্তাব, ইকরামুল ইসলাম ওরফে আমির হামজা, আমির হোসাইন ওরফে তাওহিদি জনতার আর্তনাদ, শিপন মীর ওরফে আবদুর রব, মো. ওয়ালিউল্লাহ ওরফে আবদুর রহমান। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের সক্রিয় সদস্য স্বীকার করেছে বলে দাবি র‌্যাব ৪-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হকের। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর কাওরানবাজারের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে আনসার আল ইসলামের বিভিন্ন ধরনের উগ্রবাদ সম্পর্কিত বই জব্দ করা হয়। সেই সঙ্গে সংগঠনের লিফলেটসহ উগ্রবাদী ডিজিটাল কনট্যান্ট, মোবাইল ও ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়েছে।’

মোজাম্মেল হক বলেন, ‘এরা (গ্রেপ্তারকৃত) গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার বিপক্ষে। তাদের মতে, এই ব্যবস্থা তাগুত বা বাতিল, তারা কথিত ইসলামি শাসনব্যবস্থা কায়েম করতে চায়। এর বিরোধিতাকারীদের চূড়ান্ত শাস্তির ব্যবস্থার জন্য লোন উলফ প্রশিক্ষণের ওপর সাম্প্রতিক সময়ে জোর দিচ্ছে জঙ্গিরা। সাংগঠনিক তৎপরতা, প্রশিক্ষণ ও করণীয় সম্পর্কে তারা নিজেদের মধ্যে অনলাইনে যোগাযোগ করত। তবে কোনো নাশকতার পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ, গোপনীয় তথ্য সরবরাহ ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কদাচিৎ অফলাইনে দেখা সাক্ষাৎ করেছে তারা। শিগগিরই টার্গেট বাস্তবায়নের জন্য উত্তরা এলাকায় একটি স্থানে একত্রিত হয়েছিল। তবে আগাম খবর পেয়ে যাওয়ায় তাদের পরিকল্পনা ভেস্তে দেয় র‌্যাব।’

র‌্যাবসূত্র বলছে, ইলিয়াস হাওলাদারের সাংগঠনিক নাম খাত্তাব। এর আগে সে হরকাতুল জিহাদের সক্রিয় সদস্য ছিল। খাত্তাব ছদ্ম নাম ব্যবহার করে জঙ্গি সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা করে। পেশায় গাড়িচালক। তার মাধ্যমেই শফিকুল, আমির হোসাইন, শিপন মীর, আনসার আল ইসলাম দল সম্পর্কে প্রথম জানতে পারে। পরে দলে যোগ দেয়। শফিকুল বর্তমানে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পঞ্চম বর্ষের ছাত্র। জসিমউদ্দিন রাহমানীর জঙ্গিবাদী আলোচনার মাধ্যমে উগ্রবাদে আকৃষ্ট হয় সাতক্ষীরার শ্যামনগরের বাসিন্দা আমির হোসাইন। বর্তমানে সে জেলার আনসার আল ইসলামের প্রধান সমন্বয়ক। ইকরামুল ইসলাম ছয়টি উগ্রবাদী ফেসবুক পেজের অ্যাডমিন। অনেক শীর্ষ জঙ্গির ঘনিষ্ঠজন ওয়ালিউল্লাহ, সাংগঠনিক নাম আবদুর রহমান। বর্তমানে সে তাহফিজুল কোরআন বা দারুল কোরআন ওয়াজ সুন্নাহ হাফেজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক।

advertisement