advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

হাজী সেলিম থাপড়ালেন কাউন্সিলর মানিককে

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৭ নভেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৭ নভেম্বর ২০১৯ ০০:০৯
কাউন্সিলর মানিকের মুখোমুখি ক্রুদ্ধ হাজী সেলিম -আমাদের সময়
advertisement

একটি খেলার মাঠের সংস্কারকাজ শেষে উদ্বোধনের সময় যথাযথ সম্মান পাচ্ছেন না, এমন অভিযোগ তুলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ২৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাসিবুর রহমান মানিকের গায়ে হাত তুলেছেন ঢাকা-৭ আসনের সাংসদ হাজী মোহাম্মদ সেলিম। ক্ষুব্ধ হাজী সেলিম এ সময় অনুষ্ঠানের মঞ্চে উঠে মাইক্রোফোনসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশও ভাঙচুর করেন। কয়েক দফায় কাউন্সিলরকে লাঞ্ছিত করার পর অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন প্রধান অতিথি ডিএসসিসি মেয়র সাঈদ খোকন এবং পরিস্থিতি শান্ত করেন। গতকাল শনিবার পুরান ঢাকার লালবাগে শহীদ হাজী আবদুল আলিম খেলার মাঠে এ অনভিপ্রেত কা- ঘটে।

জানা যায়, ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে এ মাঠের সংস্কারকাজ করে ডিএসসিসি। গতকাল শনিবার ছিল এটি উদ্বোধনের পূর্বনির্ধারিত তারিখ। ডিএসসিসি মেয়র প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল এ অনুষ্ঠানে। সে হিসেবে ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। মাঠের ভেতরে বড় মঞ্চ, পেছনে এলইডি স্ক্রিন, প্রজেক্টরের মাধ্যমে অনুষ্ঠান প্রদর্শনের ব্যবস্থাও রাখা হয়। সন্ধ্যার পর লেজার শো ও সঙ্গীতানুষ্ঠানের আয়োজনও ছিল। পাশের সড়ক বন্ধ করে মাঠের চারদিকে অবস্থান নিয়েছিল বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরাও।

তবে বেলা তিনটার দিকে ঢাকা-৭ আসনের সাংসদ হাজী সেলিম মাঠের ভেতরে প্রবেশ করে নামফলক ও মঞ্চের এলইডি স্ক্রিনে তার ছবি ও নাম না দেখে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তিনি নিজেই মঞ্চে উঠে মাইক ফেলে দেন। বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এর পর মঞ্চ থেকে নেমে ক্ষিপ্রগতিতে ছুটে যান কাউন্সিলর মানিকের দিকে। বেশ কয়েকবার ধাক্কাও মারেন তিনি। পরে মানিক পিছু হটলে সেখানে হাজী সেলিমের পক্ষে সেøাগান দেন তার সমর্থকরা। এ সময় হাজী সেলিমের সঙ্গে থাকা একজন মাইকে ঘোষণা দেন, যথাযথ সম্মান না পাওয়ায় এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে অনুষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হলো।

এর কিছুক্ষণ পর একই ব্যক্তি ঘোষণা করেন, ডিএসসিসি মেয়র হাজী সেলিমকে যথাযথ সম্মান দেবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন। তাই অনুষ্ঠান চলবে।

এর পর কাউন্সিলর মানিক মাইকে দুঃখ প্রকাশ করে বক্তব্য দিতে গেলে দ্বিতীয় দফায় তার দিকে তেড়ে যান হাজী সেলিম, ফের কয়েকবার কাউন্সিলরকে ধাক্কা দেন। পরে উভয়পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে সেøাগান, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হলে পুলিশ সবাইকে সরিয়ে দেয়। বেলা তিনটার দিকে সৃষ্ট এ উত্তেজনা প্রায় ঘণ্টাখানেক স্থায়ী হয়। এর পরই ঘটনাস্থলে আসেন মেয়র। পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পর শুরু হয় অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠান চলাকালে অতিথিরা যখন বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখনো কাঁদতে দেখা যায় কাউন্সিলর মানিককে। এ সময় ক্রন্দনরত মানিকের সঙ্গে হাসিমুখে কোলাকুলি করেন হাজী সেলিম; মাথায় হাতও বুলিয়ে দেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, শহীদ আলিম মাঠটি আন্তর্জাতিক মানের। রাজধানীতে এমন আরও ১২টি খেলার মাঠ হচ্ছে। কেউ কখনো যা ভাবতে পারেনি, আমি তা করে দেখিয়েছি। এর পর জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমাকে নেত্রী যদি মনোনয়ন দেয় তবে আপনারা পাশে থাকবেন। আপনাদের কাছে দোয়া, ভালোবাসা ও আশীর্বাদ চেয়ে গেলাম।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী আবুল হাসনাত, হাজী সেলিমের পক্ষে তার ছেলে সোলায়মান সেলিম এবং স্থানীয় কাউন্সিলর হাসিবুর রহমান মানিক।

সোলায়মান সেলিম মাঠটি নির্মাণে কাউন্সিলর মানিকের প্রশংসা করেন এবং সব রকম ভুল বোঝাবুঝি মিটিয়ে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

অনভিপ্রেত এ ঘটনার বিষয়ে কাউন্সিলর হাসিবুর রহমান মানিক বলেন, অনুষ্ঠানে মেয়রের নাম থাকে অভিভাবক হিসেবে; এ ছাড়া জাতির পিতা হিসেবে আমরা বঙ্গবন্ধুর নাম ব্যবহার করি, সরকারপ্রধান হিসেবে ব্যবহার করি প্রধানমন্ত্রীর নাম। এর পরও আমার যদি কোনো ভুল হয়ে থাকে উনি আমাকে ডেকে বলতে পারতেন। কিন্তু তা না করে এত মানুষজনের সামনে তিনি আমার গায়ে হাত তুলেছেন।

advertisement