advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

কুমিরায় কেএসআরএমের হলুদ বাতিতে ট্রেন দুর্ঘটনার ঝুঁকি

মো. মহিউদ্দিন চট্টগ্রাম
১৭ নভেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৭ নভেম্বর ২০১৯ ০০:০৯
advertisement

ঢাকা-চট্টগ্রাম রেললাইনে সীতাকু-ের কুমিরা স্টেশনসংলগ্ন কবির স্টিল রি-রোলিং মিলস লিমিটেডের (কেএসআরএম) একটি কারখানার দেয়ালের পাশে স্থাপিত ল্যাম্পপোস্টের লাইটের আলোর কারণে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন ট্রেনচালকরা। সমস্যা সমাধানে ২০১৮ সালের ১৩ আগস্ট অনুরোধ জানান ট্রেনচালক আবুল হাশেম। এর পর বেশ কয়েকজন চালক বিষয়টি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবগত করেন। পাশাপাশি ট্রেনচালকদের সংগঠনের পক্ষ থেকেও অভিযোগ দেওয়া হয়; কিন্তু গতকাল শনিবার পর্যন্ত এ সমস্যার সমাধান হয়নি। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মন্দবাগ এলাকায় ট্রেন দুর্ঘটনার পর বিষয়টি আলোচনায় উঠে এসেছে বলে জানিয়েছেন যান্ত্রিক বিভাগের কর্মকর্তারা।

চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কুমিরা স্টেশনসংলগ্ন কেএসআরএমের রড ও সিমেন্ট উৎপাদন কারখানা রয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম রেললাইনের কাছে তাদের সীমানা দেয়াল। দেয়ালের পাশে রেলওয়ে সিগন্যালের মতো একটি ল্যাম্পপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। ট্রেনচালকরা (এলএম) অনেক সময় দ্বিধায় পড়েন। দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টির সুরাহা না হওয়ায় ক্ষুব্ধ চালকরা। তারা বলছেন, কোনো ধরনের দুর্ঘটনা হলে তখন দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কিন্তু আগে থেকে সতর্ক করলেও সমস্যা সমাধানে কর্মকর্তাদের আগ্রহ দেখা যায় না। নিরাপদ ট্রেন পরিচালনা নিশ্চিতের চেয়ে বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে ব্যস্ত থাকেন তারা। ফলে সমস্যাগুলো দিন দিন বাড়তে থাকে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে রানিং স্টাফ ও শ্রমিক-কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী আমাদের সময়কে বলেন, অনেক আগে থেকেই কেএসআরএমের লাইটের বিষয়ে অভিযোগ দিয়ে আসছি। চালকরা অভিযোগ খাতায়ও লিখেছেন। রেলের সিগন্যাল বাতির মতো করে ল্যাম্পপোস্ট স্থাপনে চালকরা দ্বিধায় পড়েন। যে কোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। ব্যক্তিগত এবং সাংগঠনিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি; কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় প্রকৌশলী (লোকো) ফয়েজ আহম্মদ খান আমাদের সময়কে বলেন, সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। চিঠির মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কেএসআরএমকেও চিঠি দেওয়া হচ্ছে।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন রেলেওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) নাছির উদ্দিন আহমেদ। তিনি আমাদের সময়কে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি।’

অনুসন্ধানে জানা গেছে, লাইটের কারণে ট্রেন চলাচলে বিঘœ ঘটলেও বিষয়টি কেএসআরএমকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। কিন্তু আমলে না নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ম্যানেজ বিতর্কিত ল্যাম্পপোস্ট চালু রেখেছে প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার অজুহাতে। কেবল কুমিরাতেই নয়; সীতাকু-ের বাড়বকু- এলাকায় রেলের কৃষিজমি লিজ নিয়ে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পাশাপাশি প্রায় এক একর জায়গা অবৈধভাবে দখল করে দেয়াল নির্মাণ করেছে।

গত ২৩ জুলাই দেয়াল উচ্ছেদ করে রেলের জায়গা দখলে নেওয়ার নির্দেশ দেন রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন। ২৮ জুলাই জারি করা নোটিশে ৪ আগস্ট সেই দেয়াল উচ্ছেদের কথা জানানো হয়। কিন্তু তার আগেই থমকে যায় উচ্ছেদ কার্যক্রম। অবৈধভাবে জায়গা দখল এবং লিজের শর্তভঙ্গের প্রমাণ পাওয়ার পরও রহস্যজনক কারণে উচ্ছেদ কার্যক্রম বন্ধ। রেললাইন ঘেঁষে দেয়ালের কারণে শুরু থেকেই ট্রেন চলাচলে বিঘœ এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। কিন্তু রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের শীর্ষ দুই কর্মকর্তা কেএসআরএমের পক্ষ নেন। দেয়ালের কারণে ট্রেন চলাচলে কোনো সমস্যা হবে না বলেও মত দেন। ফলে উচ্ছেদ অভিযান স্থবির হয়ে যায়। সম্প্রতি রেলের মহাপরিচালক সেই দেয়াল উচ্ছেদ না হওয়ার কারণ জানতে চেয়ে রেলের প্রধান ভূসম্পত্তি কর্মকর্তার কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন।

নিরাপদ ট্রেন চলাচলে বিঘœ, রেলের জায়গা দখল, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের পরও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কেএসআরএমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন রেলের সংশ্লিষ্টরা। ট্রেন চলাচল নিরাপদ এবং সরকারি জমি উদ্ধারে রেল প্রশাসনকে আরও তৎপরও হওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

advertisement