advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সব খবর

advertisement

ফরিদপুর মেডিক্যালের সেই ছাত্রের লাশ মিলল

ফরিদপুর প্রতিনিধি
১৭ নভেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৭ নভেম্বর ২০১৯ ০১:৪২
নয়ন চন্দ্র নাথ
advertisement

ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজের ৫ম বর্ষের নিখোঁজ শিক্ষার্থী নয়ন চন্দ্র নাথের (২৪) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ব্যাপারে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় ফরিদপুর সদরের পশরা গ্রামে ঢাকা-বরিশাল বাইপাস সড়কের পাশের করাতকলের একটি কাঠের সঙ্গে গলায় রশি দেওয়া ঝুলন্ত অবস্থায় তার লাশটি উদ্ধার করা হয়।

সহপাঠীরা জানান, ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ ছাত্রাবাস থেকে গত বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ৯টায় বের হয়ে যান নয়ন। এর পর তাকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। এ ঘটনায় কলেজ কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার বিকালে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। নয়ন ফেনী জেলার দাঁগনভূঞা উপজেলার আজিজ ফাজিলপুর গ্রামের মৃত দিলীপ চন্দ্র নাথের ছেলে। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট।

নয়নের বন্ধু মো. ওয়াকিফ উল আলম জানান, বেশ কিছু দিন ধরে নয়ন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। তার ইচ্ছে ছিল একজন সার্জন হওয়ার। কিন্তু সম্প্রতি তিনি জানতে পারেন ডান হাতের আঙুলে সমস্যা থাকার কারণে সার্জন হতে পারবেন না- এর পর থেকেই মূলত নয়ন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন।

নয়ন মেডিক্যাল কলেজ ছাত্রাবাসের ৫১০ নম্বর কক্ষের ছাত্র ছিলেন। তবে পরীক্ষায় পড়াশোনার জন্য তিনি ১০৪ নম্বর কক্ষে থাকতেন।

কলেজের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে থ্রি কোয়ার্টার প্যান্ট ও নীল রঙের টি-শার্ট পরে মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রাবাস থেকে বের হন নয়ন। যাওয়ার সময় তিনি মুঠোফোন ও মানিব্যাগ রুমেই রেখে যান।

গত ৩ নভেম্বর থেকে শুরু হয় শেষ পেশাগত মেডিক্যাল পরীক্ষা। এতে ছয়টি লিখিত পরীক্ষা হওয়ার কথা। নয়ন তিনটি লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন। গত বৃহস্পতিবার ছিল চতুর্থ লিখিত পরীক্ষা। সকাল ১০টা থেকে পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার অন্তত সোয়া এক ঘণ্টা আগে নয়ন ছাত্রাবাস থেকে বের হয়ে যান।

নয়নের খালাতো ভাই উত্তম কুমার নাথ বলেন, ‘ওর এমন মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ওর স্বপ্ন ছিল সার্জন হওয়ার। ও বরাবরই চাপা স্বভাবের ছিল। মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন সম্প্রতি।’

ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ এসএম খবিরুল ইসলাম বলেন, সকাল সাড়ে ৮টায় খবর পাই নয়নের বিষয়ে। নয়ন যে সম্প্রতি অবসাদে ভুগছিল তা ওর সহপাঠী কেউ আমাকে জানায়নি। তা হলে হয়তো আমি ওর মানসিক অবসাদ দূর করতে ভূমিকা রাখতে পারতাম। এ রকম একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর এমন মৃত্যুর কোনো ব্যাখ্যা থাকতে পারে না।

ময়নাতদন্ত শেষে দুপুর ১টার দিকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনায় একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে নয়নের মরদেহ তার গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন নয়নের ভাই সুমন চন্দ্র নাথ ও খালাতো ভাই উত্তম কুমার নাথ।

এদিকে নয়নের মৃত্যুতে শনিবার ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজের সব ক্লাস বন্ধ রাখা হয়। এ ছাড়া আজ রবিবার সকালে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কালো ব্যাচ ধারণ এবং দুপুর ১টায় কলেজ ক্যাম্পাসে শোকসভার আয়োজন করা হয়েছে।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার দ্বিতীয় কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) বেলাল হোসেন জানান, এ ব্যাপারে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

advertisement
Evall
advertisement