advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

গুদামকর্তাদের শুদ্ধাচারের দীক্ষা
খাদ্য নিয়ন্ত্রকদের ছাড়াই আত্মশুদ্ধি!

মো. মাহফুজুর রহমান
১৭ নভেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৭ নভেম্বর ২০১৯ ০৮:৫২
advertisement

খাদ্য বিভাগের মাঠপর্যায়ে কর্মরত প্রধান কর্মকর্তাদের বাদ রেখেই হয়ে গেল জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল বাস্তবায়ন সম্পর্কিত জমজমাট আলোচনাসভা। ‘আত্মশুদ্ধি করে নিজেকে তৈরি করব, নিজেরা দুর্নীতিমুক্ত হব, অন্যকে দুর্নীতিমুক্ত করব’- এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গতকাল রাজধানীর আইইডিবি ভবনে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সারা দেশের সরকারি খাদ্যগুদামের প্রায় সাতশ কর্মকর্তা এতে অংশ নেন।

তবে মাঠপর্যায়ে কর্মরত খাদ্য পরিদর্শকদের কেন এতে ডাকা হয়নি, তারা কি আত্মশুদ্ধি করে এরই মধ্যে দুর্নীতিমুক্ত- এমন প্রশ্নের জবাবে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মোসাম্মৎ নাজমানারা খানম বলেন, আমাদের জন্য এত মানুষ জমায়েত করা কঠিন ছিল। তাই উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকদের ডাকা হয়নি। আর সামনে কেনাকাটার মৌসুম। তাই খাদ্যগুদাম কর্মকর্তাদের ডাকা হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে শুদ্ধাচার নয়, অন্য কোনো নাম দিয়ে খাদ্য নিয়ন্ত্রকদের ডাকতে পারি।’ সরকারি গুদামে দুর্নীতি ও অনিয়ম বেশি বলেই কেবল খাদ্যগুদাম কর্মকর্তাদের (ওসি-এলএসডি) ডাকা হয়েছে বলে মাঠে গুঞ্জন রয়েছে- জবাবে মহাপরিচালক বলেন, ‘তাতে আমার কোনো যায়-আসে না।’

খাদ্যমন্ত্রী সাধনচন্দ্র মজুমদার সভায় বলেন, ‘খাদ্য অধিদপ্তরকে দুর্নীতিমুক্ত করে আলোকিত অধিদপ্তরে পরিণত করা হবে।

যিনি লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে উঠে নীতি-নৈতিকতা এবং সততার সঙ্গে তার কাজ চালিয়ে যান, তিনিই প্রকৃত সুখে আছেন। বর্তমান সরকার দুর্নীতিকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেবে না। দুর্নীতির বিষয়ে সরকারের অবস্থান জিরো টলারেন্স। আমাদের প্রধানমন্ত্রীও সবাইকে শুদ্ধাচার কর্মচারী হিসেবে দেখতে চান। এ শুদ্ধাচার কৌশলের মধ্যে সব শ্রেণির মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারলে কাক্সিক্ষত সফলতা অর্জন করা আরও সহজ হবে।’ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এরই মধ্যে অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছি। যেসব মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা, খাদ্য পরিদর্শক, ওসি-এলএসডি হিসেবে ভালো কাজ করবেন, তাদের জন্য দেশে ও বিদেশে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

সামনের আমন মৌসুমে ধান-চাল সংগ্রহে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সবার সহযোগিতা পেলে আমরা নির্বিঘ্নে এ কাজ সফলভাবে শেষ করতে পারব। তাই এখন থেকে শপথ নিনÑ আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে নিজেকে শুদ্ধ করে, পরিবর্তন করে, এ খাদ্য অধিদপ্তরকে দুর্নীতিমুক্ত, আলোকিত একটি অধিদপ্তরে পরিণত করার।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান বলেন, ‘কিছু ভুলভ্রান্তি এবং সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও বর্তমান সরকারের সময়ে বিশেষ করে বর্তমান খাদ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর খাদ্য বিভাগে অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন হয়েছে। ভবিষ্যতেও এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে নিজেকে শুদ্ধাচারের মাধ্যমে পরিবর্তন করে।’

জনপ্রশাসন সচিব ফয়েজ আহমদ বলেন, ‘সর্বপ্রথম নিজেকে শুদ্ধাচারী হতে হবে। দায়িত্বটি পালন করার ক্ষেত্রে নিজেকে হতে হবে সৎ ও নীতিবান। আপনি আপনার কর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকুন, সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করুন, তা হলেই আপনার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও আপনাকে সঠিক মূল্যায়ন করবে।’

খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মোসাম্মৎ নাজমানারা খানমের সভাপতিত্বে শুদ্ধাচার আলোচনায় খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ওমর ফারুকসহ মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন

খাদ্যমন্ত্রী সাধনচন্দ্র মজুমদার, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমানসহ অন্য পদস্থ কর্মকর্তার এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

advertisement