advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

কে বাবা খুঁজছে পুলিশ

তৈয়ব সুমন চট্টগ্রাম
১৭ নভেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৭ নভেম্বর ২০১৯ ১০:১২
advertisement

মা হয়েছে ১৬ বছরের এক কিশোরী। কিন্তু তার পুত্রসন্তানের বাবা কে? এ ব্যাপারে মুখ খুলছে না কিশোরী। নিজের ঠিকানাও ঠিকমতো বলতে পারছে না। শিশুটির পিতৃত্বের পরিচয় জানতে মাঠে নেমেছে পুলিশ। পুলিশের ধারণা, এই কিশোরী কোনো বাসার গৃহপরিচারিকা ছিলেন। সেখানে ধর্ষণের ফলে তার গর্ভে সন্তান এসেছে। বর্তমানে সন্তানসহ ওই কিশোরীকে চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফরহাদাবাদ সেইফ হোমে রাখা হয়েছে।

আদালত সূত্র জানায়, কোতোয়ালি থানার নারী ও শিশুবিষয়ক কর্মকর্তা এসআই শম্পা হাজারী চট্টগ্রাম মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় ওই নারীকে নিরাপদ হেফাজতে রাখার আবেদন করেছিলেন। তিনি আবেদনে উল্লেখ করেন, গত ১৪ মে তাকে কোতোয়ালি থানা এলাকায় পাওয়া যায়। নাম ঠিকানা জানতে চাওয়া হলে, নিজের ও বাবার নাম আর জেলা ভোলা ছাড়া আর কোনো তথ্য দিতে পারেনি।

উদ্ধারের পর কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। এর পর কিশোরীর আচার-আচরণ ও শারীরিক অবস্থা সন্দেহজনক হওয়ায় তাকে থানায় রাখা হয়। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চিকিৎসকরা নিশ্চিত হন, এই কিশোরী ২১ সপ্তাহের অন্তঃস্বত্ত্বা। চমেক থেকে ১৬ মে চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র ও রোগীর ছাড়পত্র দেওয়া হয়। এর পর আদালতের আদেশে রুমাকে চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফরহাদাবাদ মহিলা ও শিশু-কিশোর হেফাজতিদের নিরাপদ আবাসনে (সেইফ হোম) পাঠানো হয়। ওখানকার প্রতিনিধি নুরুন নাহার রুমার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। গত ২১ আগস্ট ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি ছেলের জন্ম দেয় কিশোরী।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের নন জিআর শাখার উপপরিদর্শক মো. ইউসুফ মিয়া আমাদের সময়কে বলেন, আদালতের আদেশে কিশোরী ও তার বাচ্চাকে হাটহাজারী সেইফ হোমে রাখা হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি কিশোরীর ঠিকানা বের করতে। কিন্তু শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ মেয়েটিকে এ ব্যাপারে চাপ দেওয়া যাচ্ছে না। সে নিজ থেকে তেমন কিছুই খায় না। কেউ দিলে তবেই খায়। তিনি বলেন, ধারণা করছি মেয়েটি নগরীর কোনো বাসায় কাজ করত। সেখানেই তার গর্ভে সন্তান আসে।

এসআই শম্পা হাজারী আমাদের সময়কে বলেন, কোতোয়ালির মোড় থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। তখন তাকে নিয়ে আমরা কোতোয়ালির আশপাশের এলাকায় নিয়ে গেছি। সে কোনো বাসায় কাজ করছে কিনা তা জানতে চেষ্টা করেও সফল হইনি। পরে আদালতের মাধ্যমে সেইফ হোমে পাঠানো হয়। তিনি বলেন, মেয়েটি এমনিতে খুব স্বাভাবিক। তবে কথা কম বলে। কোনো কিছু জানতে চাইলে উত্তর দেয়। মা হওয়ার পর সে ওই বাচ্চাকে মেরে ফেলতে চেয়েছিল।

advertisement